লালন

তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম-

তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম,
সে এখন ঘুমটা পরা কাজল বধু
দুরের কোন গাঁয়।
পথের মাঝে পথ হারালে আর কি পাওয়া যায় (২)

বৃষ্টি ঝরা পথের ধারে আম কুড়াতে এসে,
ভেজা হাতে ডাকলও আমায় বল্ল ভালোবেসে,
এখানে আম কুড়ানোর ধুম লেগেছে (২)
চলনা অন্য কোথাও যাই–
পথের মাঝে পথ হারালে আর কি পাওয়া যায় (২)

দুপুর বেলা মল্লিকাদের আটচালাতে গিয়ে,
পুতুল খেলার ছল করেছি হৃদ্যয় দিয়ে নিয়ে (২)
সে কথা ভাবলে এখন বর্ষা নামে,(২)

দুচোখে সজল ভরসায়—
যেদিন গেছে সেদিন কি আর ফিরিয়ে আনা যায় (২)
তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম (ঐ)

লালন

সংসার আর সংসারে

সংসার আর সংসারে,মাইনা ছাড়া চাকুরে
হলো যা হবার,বাকি কিছু নাই আমার
সকাল মরলেই বাচি,
সংসার আর সংসারে,মাইনা ছাড়া চাকুরে,
এইসব করে কত চলে গেছে…
সংসার আর সংসারে ।।
আমি পর কে আনিলাম ঘরে,
হইয়া সরল,
রুপের মগ্ন হইয়া তারে,
সপিলাম সকল…
এখন সে অভাগী,করে রাগারাগি,
ভুতে ধরা রোগী আমি সেজেছি ।।
আমি ভেবেছিলাম ভাইয়ের ই বল,
বড়ই বাহুবল,
আপদে বিপদে আমার
সহায় ও সম্বল…
ভাইয়ে বলছে দাদা,
ভাগ কইরা দেন আধা,
হায়রে জনম গাধা
আমি সেজেছি ।।
আমি ভেবেছিলাম পুত্রের মত
আপন কেহ নাই,
কত কষ্ট কইরা তারে,
খাওয়াই আর পড়াই…
পুত্রে বলছে বুড়া,
যত নষ্টের গোড়া,
হায়রে জনম বুড়া আমি সেজেছি ।।
আমার ভাই বন্ধু আত্মীয়-স্বজন,
পাড়া প্রতিবেশী,
সকলের কাছে যেন আমি একটু বেশী,
ভেবে বিজয় দাসে,
কেউ না ভালবাসে,
পরকালের আশায় এখন বসেছি
সংসার আর সংসারে,মাইনা ছাড়া চাকুরে,
এইসব করে কত চলে গেছে…
সংসার আর সংসারে ।।

লালন

সংসার আর সংসারে

সংসার আর সংসারে,মাইনা ছাড়া চাকুরে
হলো যা হবার,বাকি কিছু নাই আমার
সকাল মরলেই বাচি,
সংসার আর সংসারে,মাইনা ছাড়া চাকুরে,
এইসব করে কত চলে গেছে…
সংসার আর সংসারে ।।
আমি পর কে আনিলাম ঘরে,
হইয়া সরল,
রুপের মগ্ন হইয়া তারে,
সপিলাম সকল…
এখন সে অভাগী,করে রাগারাগি,
ভুতে ধরা রোগী আমি সেজেছি ।।
আমি ভেবেছিলাম ভাইয়ের ই বল,
বড়ই বাহুবল,
আপদে বিপদে আমার
সহায় ও সম্বল…
ভাইয়ে বলছে দাদা,
ভাগ কইরা দেন আধা,
হায়রে জনম গাধা
আমি সেজেছি ।।
আমি ভেবেছিলাম পুত্রের মত
আপন কেহ নাই,
কত কষ্ট কইরা তারে,
খাওয়াই আর পড়াই…
পুত্রে বলছে বুড়া,
যত নষ্টের গোড়া,
হায়রে জনম বুড়া আমি সেজেছি ।।
আমার ভাই বন্ধু আত্মীয়-স্বজন,
পাড়া প্রতিবেশী,
সকলের কাছে যেন আমি একটু বেশী,
ভেবে বিজয় দাসে,
কেউ না ভালবাসে,
পরকালের আশায় এখন বসেছি
সংসার আর সংসারে,মাইনা ছাড়া চাকুরে,
এইসব করে কত চলে গেছে…
সংসার আর সংসারে ।।

লালন

ভজরে আনন্দের গৌরাঙ্গ

ভজরে আনন্দের গৌরাঙ্গ।
যদি ত্বরিতে বাসনা থাকে
ধর রে মন সাধুর সঙ্গ।।

সাধুর গুণ যায় না বলা
শুদ্ধ চিত্ত অন্তর খোলা।
সাধুর দরশনে যায় মনের ময়লা
পরশে প্রেমতরঙ্গ।।

সাধুজনার প্রেম হিল্লোলে
কত মানিক মুক্তা ফলে
সাধু যারে কৃপা করে
প্রেমময় দেয় প্রেমঅঙ্গ।।

এক রসে হয় প্রতিবাদী
এক রসে ঘুরছে নদী।
এক রসে নৃত্য করে
নিত্যরসের গৌরাঙ্গ।।

সাধুর সঙ্গগুণে রং ধরিবে
পূর্ব স্বভাব দূরে যাবে।
লালন বলে পাবে প্রাণের গোবিন্দ
কররে সৎসঙ্গ।।

লালন

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?
কে বুঝবে অন্তরের ব্যথা কে মোছাবে আঁখি?

যে দেশেতে আছে আমার বন্ধু চাঁদ কালা,
সে দেশেতে যাব নিয়ে ফুলের মালা।
নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি যোগিনী বেশ ধরি।

তোমরা যদি দেখে থাকো খবর দিও তারে,
নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব যমুনারই নীরে,
কালা আমায় করে গেল অসহায় একাকী।

কালাচাঁদকে হারাইয়ে হইলাম যোগিনী,
কত দিবা নিশি গেল কেমনে জুড়াই প্রাণী?
লালন বলে, যুগল চরণ আমার ভাগ্যে হবে কি?

লালন

যাও হে শ্যাম রাই কুঞ্জে

এলে ভাল হবে না ও শ্যাম
যাও হে শ্যাম রাই কুঞ্জে
আর এসো না।।

গাছ কেটে জল ঢালো পাতায়
এ চাতুরি শিখলে কোথায়
উচিত শিক্ষা পাবে হেথায়
নইলে যে টের পাবে না।।

করতে চাও শ্যাম নাগরালি
যাও যেথা সেই চন্দ্রাবলী
এ পথে পড়েছে কালি
এ কালি আর যাবে না।।

কেলে সোনা জানা গেল
উপর কালো ভিতর কালো
লালন বলে উভয় ভালো
করি উভয়ের বন্দনা।।

লালন

রবে না এ ধন

মন আমার গেল জানা।
কারো রবে না এ ধন জীবন যৌবন
তবেরে কেন এত বাসনা;
একবার সবুরের দেশে বয় দেখি দম কষে
উঠিস নারে ভেসে পেয়ে যন্ত্রণা।।

যে করল কালার চরণের আশা
জানোনারে মন তার কী দুর্দশা
ভক্তবলী রাজা ছিল, সর্বস্ব ধন নিল
বামুনরূপে প্রভু করে ছলনা।।

প্রহ্লাদ চরিত্র দেখ চিত্রধামে
কত কষ্ট হল সেই কৃষ্ণনামে
তারে অগ্নিতে জ্বালালো জলে ডুবাইল
তবু না ছাড়িল শ্রীরূপসাধনা।।

কর্ণরাজা ভবে বড় দাতা ছিল
অতিথিরূপে তার সবংশ নাশিল
তবু কর্ণ অনুরাগী, না হইল দুখী
অতিথির মন করল সান্ত্বনা।।

রামের ভক্ত লক্ষণ ছিল সর্বকালে
শক্তিশেল হানিল তার বক্ষস্হলে
তবু রামচন্দ্রের প্রতি, লক্ষণ না ভুলিল ভক্তি
লালন বলে কর এ বিবেচনা।।

লালন

সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে

সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে ।।
লালন কয় জাতের কী রূপ
আমি দেখলাম না দুই নজরে।
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে ।।

কেউ মালা’য় কেউ তছবি গলায়,
তাইতে যে জাত ভিন্ন বলায়
যাওয়া কিম্বা আসার বেলায়
জাতের চিহ্ন রয় কার রে
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে ।।

যদি ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান,
নারীর তবে কি হয় বিধান,
বামণ চিনি পৈতা প্রমাণ,
বামণি চিনে কিসে রে
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে ।।

জগত্ বেড়ে জেতের কথা,
লোকে গৌরব করে যথা তথা
লালন সে জেতের ফাতা ঘুচিয়াছে সাধ বাজারে’
সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে ।।

লালন

তিন পাগলে হল মেলা

তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে ।।

একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে দৌড়ে গিয়ে
আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে
ধূলার মাঝে ।।

একটা নারকেলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা করঙ্গ সে
পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি
বুঝবি শেষে ।।

পাগলের নামটি এমন
বলিতে অধীন লালন হয় তরাসে
চৈতে নিতে অদ্বৈ পাগল
নাম ধরে সে ।।

তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে….. !!

লালন

সমুদ্রের কিনারে

সমুদ্রের কিনারে থেকে
জল বিনে চাতকি মরলো
হায়রে বিধি ওরে বিধি ।।
তোর মনে কি ইহাই ছিল
সমুদ্রের কিনারে থেকে
জল বিনে চাতকি মইলো

চাতক থাকে মেঘের আসে
মেঘ বর্ষাল অন্য দেশে ।।
বলো চাতক বাঁচে কিসে
ওষ্ঠা গত প্রাণ আকুল
হায়রে বিধি ওরে বিধি ।।
তোর মনে কি ইহাই ছিল
সমুদ্রের কিনারে থেকে
জল বিনে চাতকি মইলো

বিনে নব ঘন বারি
খায়না তারা অন্য বাড়ি
চাতকের প্রতিজ্ঞা ভারি ।।
যায় যাবে প্রান সেও ভাল
হায়রে বিধি ওরে বিধি ।।
তোর মনে কি ইহাই ছিল
সমুদ্রের কিনারে থেকে

লালন বলে বুঝলো না ক্ষন
হইল না মোর ভজন সাধন
ভুলে সিরাজ সাঁইজী’র চরন ।।
তাইতে জনম বৃথা গেল
হায়রে বিধি ওরে বিধি
বিধিরে………ওরে বিধি
হায়রে বিধি ওরে বিধি
তোর মনে কি ইহাই ছিল
সমুদ্রের কিনারে থেকে
জল বিনে চাতকি মইলো ।।

লালন

ধন্য ধন্য বলি তারে

ধন্য ধন্য বলি তারে
বেঁধেছে এমন ঘর
শূন্যের উপর ফটকা করে।।
সবে মাত্র একটি খুঁটি
খুঁটির গোড়ায় নাইকো মাটি,
কিসে ঘর রবে খাঁটি
ঝড়ি-তুফান এলে পরে।।
মূলাধার কুঠরি নয় টা
তার উপরে চিলে-কোঠা
তাহে এক পাগলা বেটা
বসে একা একেশ্বরে।।
উপর নীচে সারি সারি
সাড়ে নয় দরজা তারি
লালন কয় যেতে পারি
কোন্‌ দরজা খুলে ঘরে।।

লালন

বাড়ির কাছে আরশী নগর

বাড়ির কাছে আরশী নগর
(একঘর) সেথা পড়শী বসত করে-
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।।
গেরাম বেড়ে অগাধ পানি
নাই কিনারা নাই তরণী পারে,
বাঞ্ছা করি দেখব তারে
(আমি) কেমনে সেথা যাই রে।।
কি বলব পড়শীর কথা,
হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা নাই-রে
ক্ষণেক থাকে শূণ্যের উপর
(ওসে) ক্ষণেক ভাসে নীরে।।
পড়শী যদি আমায় ছুঁতো,
যম যাতনা সকল যেতো দূরে।
সে আর লালন একখানে রয়-
(তবু) লক্ষ যোজন ফাঁক রে।।

লালন

ও যার আপন খবর আপনার হয় না

ও যার আপন খবর আপনার হয় না
একবার আপনারে চিনতে পারলে রে।
যাবে অচেনারে চেনা, যাবে অচেনারে চেনা।।

ও সাঁই নিকট থেকে দূরে দেখায়
যেমন কেঁশের আড়ে পাহাড় লুকায় দেখ না।

আমি ঘুরে এলাম সারা জগৎরে।
তবু মনের গোল তো যায় না।।

ও সে অমৃত সাগরের সূধা।
সূধা খাইলে জিবের (জিহ্বা) ক্ষুধা তৃষ্ণা রয় না।

ফকির লালন মরল জল পিপাষায়রে।
আছে থাকতে নদী মেঘনা।।

লালন

কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা

আছেন কোথায় স্বর্গপুরে কেউ নাহি সন্ধান জানে
কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে?
আছেন কোথায় স্বর্গপুরে কেউ নাহি সন্ধান জানে
কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে?
জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে
পৃথিবী গোলাকার শুনি-অহর্নিশি ঘোরে আপনি
তাইতে হয়,তাইতে হয় দিন-রজনী,
জ্ঞানী-গুনী তাই মানে
কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে?
জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে
আরেকদিকে নিশি হলে অন্যদিকে দিবা বলে
একদিকে নিশি হলে অন্যদিকে দিবা বলে
আকাশতো দেখে সকলে,খোদা দেখে কয়জনে?
কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে?
জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে।
আপন ঘরে কে কথা কয় না জেনে আসমানে তাকায়
লালন বলে
লালন বলে কেবা কোথায় বুঝিবে দিব্যজ্ঞানে
কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে?
আছেন কোথায় স্বর্গপুরে কেউ নাহি সন্ধান জানে
কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে?
জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা দেখায় আসমানে।