ভাটিয়ালি

সাদা ময়লা রঙ্গিলা পালে

আউলা বাতাস খেলে
আর কাদায় ভরা মনের মধ্যে

জলের সন্তরণ

সদ্য ফোঁটা কুঁড়ির মধ্যে ভ্রমরে গান তোলে
আর কামে ভরা দেহের মধ্যে জলের সন্তরণ ।।

হাজা মজা এক পুকুর তার

ভিতরে শিং মাছ
জংলা ভরা খেতের ভিতর

গরম দেহের আঁচ
নির্বিবাদে নারীর সঙ্গে মিলল যখন নর
পাল উড়াইয়া নৌকা গেল বাতাসে সরসর

কালো জলের নোংরা সবই মিলায় যে নির্ভুল
শাস্ত্রে তবু সব কলমই

ঝরায় কালো ফুল
জীবন শাস্ত্রে মন্ত তোলে

ভ্রমর গুঞ্জন
জীবন ফুলে থাকে যদি সাদায় ভরে মন

গায়ের ময়লা রঙীলা জামায় পুতিঁগন্ধ গোলাপ
আর আর্বেলিয়ার ময়লা মনে হাতির সন্তরণ

ধনীর আহার কারো পেটে গন্ধভরা জোলাপ
আর বাসিভাতে পান্তা দিলে মনের সন্তরণ ।।

মাটি সাবান খাঁটি যে তার ভিতরে সোডিয়াম
প্যাকেট ভরা সাবান জুড়ে গন্ধভরা দাম
ট্যাপের জলে যায় না কোন দেহের সন্তাপ
নদীর জলই ধুয়ে দিল দেহের যত পাপ
শাস্ত্রে লেখা সব নদী যে চলে সরল বায়ে
জীবন নদী আঁকা-বাঁকা তার ভিতরে নায়ে
নর-নারীর হাঁড়ি-পাতিলে ধোঁয়ারই সংসার
মিলন কি হয় সাগরে শেষে আরেকবার
সাদা ময়লা……।

ভাটিয়ালি

একটি চোখে কাজল আর অন্য চোখ সাদা

একটি চোখে কাজল আর অন্য চোখ সাদা
তুমি গভীর ঘুমে আমার শুধুই গলা সাধা
রাত পোহালো কাল আজ সূর্য এলো খাটে
পথে নামার পথ কত গৃহী এসে কাটেএকটি চোখে কাজল আর অন্য চোখ সাদা
তুমি গভীর ঘুমে আমার শুধুই গলা সাধা
রাত পোহালো কাল আজ সূর্য এলো খাটে
পথে নামার পথ কত গৃহী এসে কাটে

ভাটিয়ালি

নাও ছাড়িয়া দে

নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে
ছল ছলাইয়া চলুক রে নাও মাঝ দইরা দিয়া।।
আরে উড়ালি বিড়ালি বাওয়ে নাওয়ের বাদাম নড়ে
আথালি পাতালি পানি ছলাৎ ছলাৎ করে রে
আরে খল্ খলাইয়া হাইসা ওঠে বৈঠার হাতল চাইয়া।।

ঢেউ এর তালে বাওয়ার ফালে নাওয়ের গুলুই কাঁপে
চির্ চিরাইয়া নাওয়ের ছৈয়া রোদ তুফান মাপে
আরে চিরলি চিরলি ফুলে ভোমর ভোমরি খেলে রে
বাদল উদালী গায়ে পানিতে জমিতে হেলে রে
আরে তুর তুরাইয়া আইলো দেওয়া জিলকী হাতে লইয়া।।

শালি ধানের শ্যামলা বনে হৈলদা পঙ্খী ডাকে
চিক্ মিকাইয়া হাসে রে চাঁদ সরষা ক্ষেতের ফাঁকে
আরে সোনালী রূপালী রঙে রাঙ্গা হইল নদী
মিতালী পাতাইতাম মুই মনের মিতা পাইতাম যদি রে
আরে ঝিল্‌মিলাইয়া ঝালর পানি নাচে থৈয়া থৈয়া।।

ভাটিয়ালি

ফাগুনের পূর্ণিমা এল কার লিপি হাতে।

ফাগুনের পূর্ণিমা এল কার লিপি হাতে।
বাণী তার বুঝি না রে, ভরে মন বেদনাতে॥
উদয়শৈলমূলে জীবনের কোন্‌ কূলে
এই বাণী জেগেছিল কবে কোন্‌ মধুরাতে॥
মাধবীর মঞ্জরী মনে আনে বারে বারে
বরণের মালা গাঁথা স্মরণের পরপারে।
সমীরণে কোন্‌ মায়া ফিরিছে স্বপনকায়া,
বেণুবনে কাঁপে ছায়া অলখ-চরণ-পাতে॥

রাগ: খাম্বাজ
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): পৌষ, ১৩২৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1923

ভাটিয়ালি

নাইয়ারে নায়ের বাদাম তুইলা

নাইয়া রে নায়ের বাদাম তুইলা
কোন দূরে যাও চইলা।

অচিনা সায়রের মাঝি সেই কথা যাও বইলা।।

নাইয়ারে ভাটির দেশে যাও
যদি তুমি হিজলতলির হাটে

হেথায় আমার ভাইজান থাকে
আমার কথা কইয়ো তাকে
মইলাম দিখে জ্বইলা
কোন দূরে যাও চইলা

নাইয়ারে পরানে আর সইবে কত
আগুন জ্বলে মনে

বনের আগুন দেখতে পারে
মনের আগুন পুইড়া মারে।
ধিকিধিকি জ্বইলা
কোন দূরে যাও চইলা।।