ভক্তিমূলক গান

কেন বঞ্চিত হব চরণে!

কেন বঞ্চিত হব চরণে!
আমি কত আশা করে বসে আছি, পাব জীবনে না হয় মরণে
আহা! তাই যদি নাহি হবে গো,-
পাতকী-তারণ-তরীতে তাপিত আতুরে তুলে না লবে গো,-
হয়ে পথের ধুলায় অন্ধ, এসে দেখিব কি খেয়া বন্ধ?
তবে পারে বসে “পার করো” বলে পাপী কেন ডাকে দীন-শরণে?
আমি শুনেছি হে তৃষাহারি!
তুমি এনে দাও তারে প্রেম-অমৃত, তৃষিত যে চাহে বারি।।
তুমি আপনা হইতে হও আপনার, যার কেহ নাই, তুমি আছ তার,
এ কি সব মিছে কথা? ভাবিতে যে ব্যথা বড়ো বাজে, প্রভু মরমে।।
[মিশ্র খাম্বাজ, জলদ একতালা]

ভক্তিমূলক গান

তুমি, অরূপ স্বরূপ, সগুণ নির্গুণ

তুমি, অরূপ স্বরূপ, সগুণ নির্গুণ,
দয়াল ভয়াল, হরি হে-
আমি কিবা বুঝি, আমি কিবা জানি,
আমি কেন ভেবে মরি হে।
কিরূপে এসেছি, কেমনে বা যাব,
তা ভাবিয়ে কেন জীবন কাটাব?
তুমি আনিয়াছ, তোমারেই পাব,
এই শুধু মনে করি হে।
না রাখি জটিল ন্যায়ের বারতা,
বিচারে বিচারে বাড়ে অসারতা,
আমি জানি তুমি আমারই দেবতা,
তাই আনি হৃদে বরি হে;
তাই বলে ডাকি, প্রাণ যাহা চায়,
ডাকিতে ডাকিতে হৃদয় জুড়ায়,
যখন যে রূপে প্রাণ ভরে যায়,
তাই দেখি প্রাণ ভরি’ হে।

[বেভাগ একতালা]

ভক্তিমূলক গান

আইল ঋতুরাজ সজনি, জ্যোত্স্না‌ময় মধুর রজনি

আইল ঋতুরাজ সজনি,
জ্যোত্স্না‌ময় মধুর রজনি,
বিপিনে কলতান মুরলী উঠিল বাজি।

মৃদু মন্দ সুগন্ধ পবন
শিহরিত তব কুঞ্জভবন,
কুহু কুহু কুহু ললিত
তান মুখরিত বনরাজি।

পরো সখী পরো নীলাম্বর
পরো সখী ফুলমালা
চলো সখী চলো কুঞ্জে চলো
বিরহবিধুরা বালা।

করিগে চলো কুসুমচয়ন
রচি গে চলো পুষ্পশয়ন
ফিরিবে তব নাথ সজনি
হৃদয়ে তব আজি।

ভক্তিমূলক গান

আজি এসেছি আজি এসেছি, এসেছি বঁধু হে

আজি এসেছি, আজি এসেছি, এসেছি বঁধু হে
নিয়ে এই হাসি, রূপ, গান;
আজি আমার যা কিছু আছে, এনেছি তোমার কাছে,
তোমায় করিতে সব দান।।

আজি তোমার চরণতলে রাখি এ কুসুম ভার,
এ হার তোমার গলে দিই বঁধু উপহার,
সুধার আধার ভরি, তোমার অধরে ধরি, কর বঁধু কর তায় পান।
আজি হৃদয়ের সব আশা, সব সুখ-ভালোবাসা
তোমাতে হউক অবসান।।

ওই ভেসে আসে কুসুমিত উপবন-সৌরভ,
ভেসে আসে উচ্ছল-জলদল-কলরব,
ভেসে আসে রাশি রাশি, জ্যোত্স্না‌র মৃদু হাসি, ভেসে আসে পাপিয়ার তান।
আজি, এমন চাঁদের আলো, মরি যদি সেও ভালো,
সে- মরণ স্বরগ সমান।।

আজি তোমার চরণতলে লুটায়ে পড়িতে চাই,
তোমার জীবনতলে ডুবিয়া মরিতে চাই,
তোমার নয়নতলে শয়ন লভিব ব’লে, আসিয়াছি তোমার নিধান।
আজি সব ভাষা সব বাক্‌, নীরব হইয়া যাক্‌,
প্রাণে শুধু মিশে থাক্‌ প্রাণ।।

তাল:কাহার্‌বা

ভক্তিমূলক গান

আজি তোমার কাছে ভাসিয়া যায়

আজি তোমার কাছে ভাসিয়া যায় অন্তর আমার,
আজি সহসা ঝরিল চোখে কেন বারিধার।।

স্মৃতি-জোয়ারে দু’কুল ছেয়ে,
দশ বরষ উজান বেয়ে
চলেছে প্রাণ তোমারই কাছেমানে না বাধা আর।

আজি তোমার কাছে বর্তমান ভেঙে ও ভেসে যায়,
আজি আমার কাছে অতীত হয় নূতন পুনরায়।

আজি আমার নয়ন পাশে,
এ কী আঁধার ঘেরিয়া আসে,
পাষাণ-ভার চাপিয়া ধরে হৃদয়ে বার বার।

তাল:দাদ্‌রা

ভক্তিমূলক গান

জয় জয় শ্রীগুরু, প্রেম কল্পতরু

জয় জয় শ্রীগুরু, প্রেম কল্পতরু
অদ্ভুত যাঁকো প্রকাশ।
হিয়ে অজ্ঞান, তিমির বর জ্ঞান
সুচন্দ্র কিরণে করু নাশ।

ইহ লোচন আনন্দধাম
অযাচিত মো হেন, পতিত হেরি যো পঁহু
যাচি দেয়ল হরি নাম।

দুর্মতি অগতি, সতত অসৎ মতি
নাহি সুকৃতি লব লেশ,
শ্রীবৃন্দাবন, যুগল-ভজন ধন
তাহে করতঃ উপদেশ।

নির্মল গৌর, প্রেমরস সিঞ্চনে
পুরল সব মন আশ,
সো চরণাম্বুজে, রতি নাহি হোঁয়ল
রোয়ত বৈষ্ণব দাস।

ভক্তিমূলক গান

হরি দিন তো গেল

ওহে (হরি) দিন তো গেল, সন্ধ্যা হল, পার কর আমারে।
তুমি পারের কর্তা, শুনে বার্তা, ডাকছি হে তোমারে।।

আমি আগে এসে, ঘাটে রইলাম বসে
(ওহে, আমায় কি পার করবে নাহে, আমায় অধম বলে)
যারা পাছে এল, আগে গেল, আমি রইলাম পড়ে।।

যাদের পথ-সম্বল, আছে সাধনার বল,
(তারা পারে গেল আপন বলে হে)
(আমি সাধনহীন তাই রইলেম পড়ে হে)
তারা নিজ বলে গেল চলে, অকুল পারাবারে।।

শুনি, কড়ি নাই যার, তুমি কর তারেও পার,
(আমি সেই কথা শুনে ঘাটে এলাম হে)
( দয়াময় ! নামে ভরসা বেঁধে হে )
আমি দীন ভিখারী, নাইক কড়ি, দেখ ঝুলি ঝেড়ে।।

আমার পারের সম্বল, দয়াল নামটি কেবল,
(তাই দয়াময় বলে ডাকি তোমায় হে)
(তাই অধমতারণ বলে ডাকি হে)
ফিকির কেঁদে আকুল, পড়ে অকূল সাঁতারে পাথারে।।|

ভক্তিমূলক গান

মনে বড় আশা ছিল যাব মদিনায়

মনে বড় আশা ছিল যাব মদিনায়।
ছালাম আমি করবো গিয়ে নবীর রওজা…

আরব সাগর পাড়ি দেব নাইকো আমার তরী
পাখি নই গো উড়ে যাব ডানাতে ভর করি

আমার আশা আছে সম্বলও নাই, করি কী উপায়।।

কাফেলাতে কে যাও তুমি কে যাও বেয়ে তরী
আমায় যাও না ও ভাই সঙ্গে লয়ে খানিক *** ***
সঙ্গে যদি না লও মোরে গিয়ে মদিনায়
এই গরিবের সালাম দিও মদিনার বাদশায়
আমার নামে দুটি বাতি দিও সে দরগায়।।

ভক্তিমূলক গান

দুয়ারে আইসাছে পালকি

দুয়ারে আইসাছে পালকি
নাইয়রি যাও তুলো রে তুলো মুখে
আল্লাহ রসুল সবে বল
ও মুখে আল্লাহ রসুল সবে বল

দুই কান্দে ছিল যে তোমার দুইজনা পাহারা
তোমারে একেলা থুইমা পালাইছে তাহারা।

তোমার আট কুঠুরী নয় দরজা
বন্ধ যে ঐ হলো
রে হলো মুখে আল্লাহ রসুল সবে বল।।

দিবানিশি যে ছয়জনা দিত কুমন্ত্রনা
আজ তাহারা কোথায় গেল মাবুদ কী রে মনা।

ফেরেশতা আসিয়া যখন জিজ্ঞাসা করিবে
দীন কী তোমার মাবুত কে বা তখন কী বলিবে।

ওরে আল্লাহ বীনে মাবুদ নাই রে
জবানে তাই বলও রে
বলো মুখে আল্লাহ রসুল সবে বল।।

ভক্তিমূলক গান

আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালুহু

আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালুহু
শেষ করা তো যায়না গেয়ে তোমার গুনগান
তুমি কাদের গফফার, তুমি জলিল জব্বার
অনন্ত অসীম তুমি রহিম রহমান।।

তুমি মাটির আদমকে প্রথম সৃষ্টি করিয়া
ঘোষনা করিয়া দিলে শ্রেষ্ঠ বলিয়া
তাই নুরের ফেরেশ্তা করে আদমকে সেজদা
সবার চেয়ে দিলে মাটির মানুষকে সন্মান।।

যখন ইউনুছ নবীরে খাইল মাছেতে গিলিয়া
ফেরেশতা পাঠাইলে তুমি এছমে আজম দিয়া
দমে দমেতে হরদম সে যে পেল পরিত্রান।।

শিশু মুছা নবীকে যখন দুশমনেরই ডরে
সিন্ধুকে ভরিয়া দিলে ভাসায়ে সাগরে
প্রানে ছিল যাহার ভয়, সেথায় পেল সে আশ্রয়
সেই দুশমনেরই হাতে তাঁহার বাঁচাইলে প্রান।।

ভক্তিমূলক গান

অনন্ত দিগন্ত ব্যাপি অনন্ত মহিমা

অনন্ত দিগন্ত ব্যাপী অনন্ত মহিমা তব।
ধ্বনিছে অনন্ত কন্ঠে অনন্ত তোমারি স্তব।।

কোথায় অনন্ত উচ্চে, অনন্ত তারকা গুচ্ছে,
অনন্ত আকাশে তব, অনন্ত কিরণোৎসব।।

অনন্ত নিয়তি বলে বায়ু ধায়, মেঘ চলে,
অনন্ত কল্লোল জলে, পুস্পে অনন্ত সৌরভ;

অনন্ত কালের খেলা, জীবন মরণ মেলা,
হে অনন্ত, তব পানে উঠিছে অনন্ত রব।

অনন্ত সুষমা ভরা, অনন্ত যৌবনা ধরা,
দিশি দিশি প্রচারিছে অনন্ত কীর্তি বিভব,

তোমার অনন্ত সৃষ্টি, অনন্ত করুণা বৃষ্টি,
অতি ক্ষুদ্র, দীন আমি, কিবা জানি, কিবা কব।।

ভক্তিমূলক গান

আমি অকৃতি অধম বলেও

আমি অকৃতি অধম বলেও তো কিছু
কম করে মোরে দাওনি;
যা দিয়েছ, তারি অযোগ্য ভাবিয়া
কেড়েও তা কিছু নাওনি।।

তব আশীষ কুসুম ধরি নাই শিরে,
পায়ে দলে গেছি, চাহি নাই ফিরে;
তবু দয়া করে কেবলি দিয়েছ,
প্রতিদান কিছু চাওনি।।

আমি ছুটিয়া বেড়াই, জানিনা কি আশে,
সুধা পান করে মরি গো পিয়াসে;
তবু যাহা চাই সকলি পেয়েছি;
তুমি তো কিছুই পাওনি।।

আমায় রাখিতে চাও গো, বাঁধনে আঁটিয়া,
শতবার যাই বাঁধন কাটিয়া।
ভাবি ছেড়ে গেছ, ফিরে চেয়ে দেখি,
এক পা-ও ছেড়ে যাওনি।।

ভক্তিমূলক গান

তুমি নির্মল কর মঙ্গল করে

তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে ।।
তব, পূণ্য-কিরণ দিয়ে যাক্, মোর
মোহ-কালিমা ঘুচায়ে।
মলিন মর্ম মুছায়ে ।
তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে ।

লক্ষ্য-শূন্য লক্ষ বাসনা ছুটিছে গভীর আঁধারে,
জানি না কখন ডুবে যাবে কোন্
অকুল-গরল-পাথারে!
প্রভু, বিশ্ব-বিপদহন্তা,
তুমি দাঁড়াও, রুধিয়া পন্থা;
তব, শ্রীচরণ তলে নিয়ে এস, মোর
মত্ত-বাসনা গুছায়ে !
মলিন মর্ম মুছায়ে ।
তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে ।

আছ, অনল-অনিলে, চিরনভোনীলে, ভূধরসলিলে, গহনে;
আছ, বিটপীলতায়, জলদের গায়, শশীতারকায় তপনে।
আমি, নয়নে বসন বাঁধিয়া,
ব’সে, আঁধারে মরিগো কাঁদিয়া;
আমি, দেখি নাই কিছু, বুঝি নাই কিছু,
দাও হে দেখায়ে বুঝায়ে।
মলিন মর্ম মুছায়ে ।
তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে ।
তব, পূণ্য-কিরণ দিয়ে যাক্, মোর
মোহ-কালিমা ঘুচায়ে।
মলিন মর্ম মুছায়ে ।
তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে ।