ভক্তিমূলক গান

জাগো, তুমি জাগো, জাগো দুর্গা

জাগো, তুমি জাগো, জাগো দুর্গা,
জাগো দশপ্রহরণধারিণী,
অভয়াশক্তি বলপ্রদায়িনী তুমি জাগো।
প্রণমি বরদা অজরা অতুলা
বহুবলধারিণী রিপুদলবারিণী জাগো মা।
শরণময়ী চন্ডিকা শংকরী জাগো, জাগো মা,
জাগো অসুরবিনাশিনী তুমি জাগো।।

মহিষাসুরমর্দিনী গীতি-আলেখ্য সম্পর্কে তথ্য:
রচনা ও প্রবর্তনা – বাণীকুমার। সঙ্গীত-সর্জন – পঙ্কজকুমার মল্লিক। গ্রন্থনা ও স্তোত্রপাঠ – বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। “আজ দেবীপক্ষের প্রাক-প্রত্যুষে জ্যোতির্ম্ময়ী জগন্মাতা মহাশক্তির শুভ আগমন-বার্ত্তা আকাশ-বাতাসে বিঘোষিত। মহাদেবীর পুণ্য স্তবনমন্ত্রে মানবলোকে জাগরিত হোক ভূমানন্দের অপূর্ব্ব প্রেরণা। আজ শারদ গগনে-গগনে দেবী ঊষা ঘোষণা করছেন মহাশক্তির শুভ আবির্ভাব-ক্ষণ।” এরপর তিনবার শঙ্খধ্বনির পর শুরু হয় অনুষ্ঠান। সুপ্রীতি ঘোষের পরিশীলিত কন্ঠে গাওয়া সেই গান – “বাজল তোমার আলোর বেণু”। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে প্রথম প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি, কিন্তু তখন এর নাম ছিল ‘শারদ বন্দনা’। ১৯৩৪-এর ৮ ই অক্টোবর ( ১৩৪১ বঙ্গাব্দ ) মহালয়ার সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছিল অনুষ্ঠানটি।

ভক্তিমূলক গান

অখিল বিমানে তব জয়গানে যে সামরব

অখিল বিমানে তব জয়গানে যে সামরব
বাজে সেই সুরে সোনার নূপুরে কি সে নব।।
হে আলোর আলো তিমির মিলালো
তব জ্যোতিসুধা চেতনা বিলালো।
রাগিণী দেশীরে গাহিল— মধুর এ সে বৈভব।

মহিষাসুরমর্দিনী গীতি-আলেখ্য সম্পর্কে তথ্য:
রচনা ও প্রবর্তনা – বাণীকুমার। সঙ্গীত-সর্জন – পঙ্কজকুমার মল্লিক। গ্রন্থনা ও স্তোত্রপাঠ – বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। “আজ দেবীপক্ষের প্রাক-প্রত্যুষে জ্যোতির্ম্ময়ী জগন্মাতা মহাশক্তির শুভ আগমন-বার্ত্তা আকাশ-বাতাসে বিঘোষিত। মহাদেবীর পুণ্য স্তবনমন্ত্রে মানবলোকে জাগরিত হোক ভূমানন্দের অপূর্ব্ব প্রেরণা। আজ শারদ গগনে-গগনে দেবী ঊষা ঘোষণা করছেন মহাশক্তির শুভ আবির্ভাব-ক্ষণ।” এরপর তিনবার শঙ্খধ্বনির পর শুরু হয় অনুষ্ঠান। সুপ্রীতি ঘোষের পরিশীলিত কন্ঠে গাওয়া সেই গান – “বাজল তোমার আলোর বেণু”। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে প্রথম প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি, কিন্তু তখন এর নাম ছিল ‘শারদ বন্দনা’। ১৯৩৪-এর ৮ ই অক্টোবর ( ১৩৪১ বঙ্গাব্দ ) মহালয়ার সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছিল অনুষ্ঠানটি।

ভক্তিমূলক গান

আমি ভাবছিলাম কি এই রঙে দিন যাবে রে সুজন নাইয়া

আমি ভাবছিলাম কি এই রঙে দিন যাবে রে সুজন নাইয়া
পার করো দুঃখিনী রাধারে ।।

কুক্ষণে বাড়াইলাম পাও, খেয়াঘাটে নাইরে নাও
খেয়ানীরে খাইলো জংলার বাঘে রে সুজন নাইয়া।।

যে আমারে করবে পার, তারে দিবো গলার হার
আরো দিবো লাখের যৌবন রে সুজন নাইয়া ।।

আশা নদীর কূলে বইয়া, কান্দে উকিল পন্থ চাইয়া রে
মথুরার সময় গেলো বইয়া রে সুজন নাইয়া।।

ভক্তিমূলক গান

বন্ধুরে কই পাবো সখীগো

বন্ধুরে কই পাবো সখীগো, সখী আমারে বলোনা
আমার বন্ধু বিনে পাগল মনে বুঝাইলে বোঝেনা।।

সাধে সাধে ঠেকছি ফাঁদে গো সখী দিলাম ষোলো আনা
আমার প্রাণপাখি উড়ে যেতে চায় আর ধৈর্য্য মানেনা।।

কি আগুন জ্বালাইলো বন্ধেগো ও সখী নিভাইলে নিভেনা
জল ঢালিলে দ্বিগুণ বাড়ে উপায় কি বলোনা।।

পাগল আব্দুল করিম বলেগো ও সইগো অন্তরের বেদনা
সোনার বরণ রূপের কিরণ না দেখলে বাঁচি না।।

ভক্তিমূলক গান

মনে নাই গো আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই

মনে নাই গো আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই,
আমি বন্ধুর আশায় বসে বসে রজনী পোহাই গো।

জাতি যুঁথি ফুল মালতী, বিনি সুতায় মালা গাঁথি গো
আইলো না শ্যাম কুঞ্জে আমার মালা কার গলে পরাই গো।।

চুয়া-চন্দন ফুলের অঞ্জন কোটরায় ভরিয়া রাখলাম গো
আমার দেখলে চন্দন উঠে ক্রন্দন চন্দন কার অঙ্গে ছিটাই গো।।

ভাইবে রাধারমণ বলে প্রেমানলে অঙ্গ জ্বলে গো
একবার পাইলে শ্যামরে ধরমু গলে আর ছাড়াছাড়ি নাই।।

ভক্তিমূলক গান

জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে বলো ওগো সাঁই

জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে বলো ওগো সাঁই
এ জীবনে যত দুঃখ কে দিয়াছে বলো তাই?

দোষ করিলে বিচার আছে, সেই ব্যবস্থা রয়ে গেছে,
দয়া চাইনা তোমার কাছে, আমরা উচিৎ্‌ বিচার চাই।
দোষী হৈলে বিচারে, সাজা দিবা তো পরে,
এখন মারো অনাহারে, কোন বিচারে জানতে চাই?

এই কি তোমার বিবেচনা? কেউরে দিলায় মাখন-ছানা,
কারও মুখে অন্ন জুটে না, ভাঙ্গা ঘরে ছানি নাই
জানো শুধু ভোগ-বিলাস, জানো গরীবের সর্বনাশ,
কেড়ে নেও শিশুর মুখের গ্রাস, মনে বড় দুঃখ পাই।।

তোমার এসব ব্যবহারে, অনেকেই মানেনা তোমারে,
কথায় কথায় তুচ্ছ করে, আগের ইজ্জত তোমার নাই
রাখতে চাইলে নিজের মান, সমস্যা করো সমাধান,
নিজের বিচার নিজেই কর, আদালতের দরকার নাই।।

দয়াল বলে নাম যায় শোনা, কথায়-কাজে মিল পড়ে না
তোমার মান তুমি রাখো না, আমরা তো মান দিতেই চাই
তুমি-আমি এক হইলে, পাবেনা কোনও গোলমালে,
বাউল আব্দুল করিম বলে, আমি তোমার গুণ গাই।।

ভক্তিমূলক গান

মারিয়া ভুজঙ্গ তীর, কলিজা করিলো চৌচির

মারিয়া ভুজঙ্গ তীর, কলিজা করিলো চৌচির
কেমন শিকারী তীর মারিলো গো।

বিষ মারিয়া তীরের মুখে মারিলো তীর আমার বুকে
দেহ থুয়া প্রাণটা লয়া যায়।
আমার অন্তরায় আমার কলিজায়।
প্রেম শেল বিন্ধিলো বুকে মরি হায় হায় ।।

পরথম যৌবন বেলা আমারে পাইয়া অবলা
প্রেম শিখায়া গেলো ছাইড়া গেলো গো
জ্বালাইলো যে প্রেমো আগুন, জল দিলে তা বাড়ে দ্বিগুণ
এখন আমি কি করি উপায়?

ইট কামলা ইট বানাইয়া, চৌদিকে ভাটা সাজাইয়া
মাঝখানে আগুন জ্বালাইয়া দিলো গো
ভিতরে পুড়িয়া সারা, মাটি হয়া যায় আঙ্গারা
দুরবীন শাহ্‌ কয় এমন দশা আমারো বেলায়।।

ভক্তিমূলক গান

নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন

নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন,
তুই সুখি জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন
মূঢ় মন, সুখি জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন।।

লাগে নি যার পায়ে ধুলি, কি নিবি তার চরণ ধুলি,
নয়রে সোনায়, বনের কাঠেই হয় রে চন্দন।।

প্রেমধন মায়ের মতন, দুখ কি সুতেই অধিক যতন,
এ ধনেতে ধনি যে জন, সেই তো মহাজন।
মূঢ় মন, সেই তো মহাজন।।

বৃথা তোর কৃচ্ছসাধন, সেবাই নরের শ্রেষ্ঠ সাধন,
মানবের পরম তীর্থ দীনের শ্রীচরণ।
মূঢ় মন, দীনের শ্রীচরণ।

মতামতের তর্কে মত্ত, আছিস ভুলে পরম সত্য,
সকল ঘরে সকল নরে আছেন নারায়ণ
মূঢ় মন, আছেন নারায়ণ
নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন।।

ভক্তিমূলক গান

হরি, প্রেম-গগনে চির-রাকা।

হরি, প্রেম-গগনে চির-রাকা।
চির-প্রসন্ন কি মাধুরী-মাখা!

সুপ্ত জগতে, চির-জাগ্রত প্রহরী,
বরষিছ চির-করুণামৃত-লহরী;−
(মম) অন্ধ আঁখি, মোহে ঢাকা!

সাধু ভকত জন পিয়ে মকরন্দ,
এ হরি, মম মন-গতি অতি মন্দ;
উড়ে’ যেতে নাইক পাখা!

(পূরবী) মিশ্র কাওয়ালী

ভক্তিমূলক গান

কেউ নয়ন মুদে দেখে আলো, কেউ দেখে আঁধার

কেউ নয়ন মুদে দেখে আলো, কেউ দেখে আঁধার।
কেউ বলে, ভাই, এক হাঁটু জল, কেউ বলে সাঁতার।

কেউ বলে, ভাই, এলাম দেখে, কেউ বলে, ভাই, ম’লাম ডেকে
কোন্ শাস্ত্রে কি রকম লেখে, তত্ত্ব পাওয়া ভার।

কেউ বলে, সে পরম দয়াল, কেউ বলে, সে বিষম ভয়াল,
কেউ বলে, সে ডাক্‌লে আসে, কেউ কয় নির্ব্বিকার,
কেউ বলে সে গুণাতীত, কেউ বলে সে গুণান্বিত,
কেউ বলে আধেয়, (আবার) কেউ বলে আধার।

কেউ দেখে তারে করালকালী, কেউ বা দেখে বনমালী,
কেউ বা তারে স্থুল দেখে, কেউ ভাবে নিরাকার ;
কান্ত বলে, দেখ্ রে বুঝে, রাখ্ বিতর্ক ট্যাকে গুঁজে ;.
‘এটা নয়, সে ওটা’,—এ সিদ্ধান্ত চমত্কার!

॥ বেহাগ, জলদ একতালা॥

ভক্তিমূলক গান

কবে তৃষিত এ মরু ছাড়িয়া যাইব

কবে, তৃষিত এ মরু ছাড়িয়া যাইব
তোমারি রসাল নন্দনে ;
কবে, তাপিত এ চিত করিব শীতল
তোমারি করুণা চন্দনে!

কবে, তোমাতে হ’য়ে যাব, আমার আমিহারা,
তোমারি নাম নিতে নয়নে ব’বে ধারা,
এ দেহ শিহরিবে, ব্যাকুল হবে প্রাণ
বিপুল পুলক-স্পন্দনে!

কবে, ভবের সুখ দুখ চরণে দলিয়া,
যাত্রা করিব গো, শ্রীহরি বলিয়া,
চরণ টলিবে না, হৃদয় গলিবে না,
কাহারো আকুল ক্রন্দনে।

॥ বেহাগ, কাওয়ালী॥

ভক্তিমূলক গান

আমিতো তোমারে চাহিনি জীবনে তুমি অভাগারে চেয়েছ

আমিতো তোমারে চাহিনি জীবনে
তুমি অভাগারে চেয়েছ ;
আমি না ডাকিতে, হৃদয় মাঝারে
নিজে এসে দেখা দিয়েছ!

চির আদরের বিনিময়ে সখা !
চির অবহেলা পেয়েছ ;
(আমি) দূরে ছুটে যেতে দু’হাত পসারি’,
ধ’রে টেনে কোলে নিয়েছ!

“ও পথে যেও না ফিরে এস”, ব’লে
কানে কানে কত ক’য়েছ ;
(আমি) তবু চ’লে গেছি ; ফিরায়ে আনিতে
পাছে পাছে ছুটে গিয়েছ।

(এই) চির-অপরাধী পাতকীর বোঝা
হাসি-মুখে তুমি ব’য়েছ ;
(আমার) নিজ হাতে গড়া বিপদের মাঝে,
বুকে করে নিয়ে রয়েছ!

॥ মিশ্র কানাড়া, একতাল ॥

ভক্তিমূলক গান

আমি অকৃতী অধম বলেও তো কিছু

(আমি) অকৃতী অধম ব’লেও তো, কিছু
কম ক’রে মোরে দাও নি
যা’ দিয়েছ, তারি অযোগ্য ভাবিয়া
কেড়েও তো কিছু নাওনি।

(তব) আশীষ-কুসুম ধরি নাই শিরে
পায়ে দ’লে গেছি, চাহি নাই ফিরে
তবু দয়া ক’রে কেবলি দিয়েছ
প্রতিদান কিছু চাওনি।

(আমি) ছুটিয়া বেড়াই জানিনা কি আশে
সুধা-পান ক’রে, মরি গো পিয়াসে
তবু, যাহা চাই সকলি পেয়েছি
তুমি তো কিছুই পাওনি

(আমায়) রাখিতে চাও গো, বাঁধনে আঁটিয়া
শতবার যাই বাঁধন কাটিয়া
ভাবি, ছেড়ে গেছ, – ফিরে চেয়ে দেখি
এক পা-ও ছেড়ে যাওনি

ভক্তিমূলক গান

কে আবার বাজায় বাঁশি এ ভাঙা কুঞ্জবনে?

কে আবার বাজায় বাঁশি এ ভাঙা কুঞ্জবনে?
হৃদি মোর উঠল কাঁপি’ চরণের সেই রণনে।।

কোয়েলা ডাকল আবার, যমুনায় লাগল জোয়ার;
কে তুমি আনিলে জল ভরি’ মোর দুই নয়নে।।

আজি মোর শূন্য ডালা, কী দিয়ে গাঁথব মালা?
কেন এই নিঠুর খেলা খেলিলে আমার সনে।।

হয় তুমি থামাও বাঁশি, নয় আমায় লও হে আসি’-
ঘরেতে পরবাসী থাকিতে আর পারি নে।।

ভক্তিমূলক গান

যমুনা পুলিনে কদম্ব কাননে

যমুনা পুলিনে কদম্ব কাননে
কি হেরিনু সখী আজ!
শ্যাম বংশীধারী মণিমঞ্চোপরি
লীলা করে রসরাজ।

কৃষ্ণকেলিসুধা প্রস্রবণ।
অষ্টদলপরি শ্রীরাধা শ্রীহরি
অষ্ট সখী পরিজন।

তারা সুগীত নর্তনে সব সখীগণে
তুষিছে যুগল ধনে,
কৃষ্ণলীলা হেরি প্রকৃতি সুন্দরী
বিস্তারিছে শোভা বনে।

আমি ঘরে না যাইব বনে প্রবেশিব
ও লীলা রসের তরে,
ত্যাজি কুললাজ ভজ ব্রজরাজ
বিনোদ মিনতি করে।