ভক্তিমূলক গান

পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গে, মা (দ্বিজেন্দ্রগীতি)

পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গে, মা
শ্যামবিটপীঘন-তট-বিপ্লাবিনী ধূসর তরঙ্গ ভঙ্গে।।

কত নগ-নগরী তীর্থ হইল তব চুম্বী চরণ যুগমায়ী,
কত নর-নারী ধন্য হইল মা তব সলিলে অবগাহি,
বহিছ জননী এ ভারতবর্ষে কত শত যুগ যুগ বাহি,
করি সুশ্যামল কত মরু-প্রান্তর শীতল পুণ্য তরঙ্গে।।

নারদ কীর্তন পুলকিত মাধব বিগলিত করুণা করিয়া,
ব্রহ্ম কমণ্ডলু উচ্ছলি ধূর্জটি জটিল জটাপর ঝরিয়া,
অম্বর হইতে সোমশত ধারা জ্যোতিঃ প্রপাত তিমিরে,
নাহি ধরায় হিমাচল মূলে মিশিলে সাগর সঙ্গে।।

পরিহরি ভব সুখ-দুঃখ যখন মা, শায়িত অন্তিম শয়নে,
বরিষ শ্রবণে তব জল কলরব, বরিষ সুপ্তি মম নয়নে,
বরিষ শান্তি মম শঙ্কিত প্রাণে, বরিষ অমৃত মম অঙ্গে,
মা ভাগীরথী জাহ্নবী সুরধুনী কল কল্লোলিনী গঙ্গে।।

ভক্তিমূলক গান

আমার চেতনা চৈতন্য করে দে মা চৈতন্যময়ী ।

আমার চেতনা চৈতন্য করে
দে মা চৈতন্যময়ী ।
তোর ভাব সাগরে ভেসে আমি
হব মা তোর পদাশ্রয়ী ।।

অজ্ঞান মোর স্বভাব থেকে,
তোর ভাবে তুই নে মা ডেকে ।
জ্ঞান চক্ষু মেলে দেখি
কেমন তুই জ্ঞানদাময়ী ।
তোর ভাবের খেলা দিয়ে,
দে মা আমার যা কিছু সব,
অভাব মিটিয়ে ।
কুতুহল মোর এ জীবনে,
নিয়ে নে মা তোর ও চরণে ।
মহানন্দে যাই চলে মা
হয়ে সর্ব রিপু জয়ী ।।

ভক্তিমূলক গান

বার্ধক্য ।। কালের লিখন

তুমি গাছ চিনায়ে খুব যতনে
টেনে নিলে দয়ার মই
মন মরিলে অচল গাড়ী
আমি তো আর আমার নই।
যৌবনের সেই উতলা দিন
কোন ফাঁকে কই গেলরে সই।।

কেশ পেশীতে অকাল ঝরা
রসিক মনে ভাবের খরা
কানামাছি ভোঁ ভোঁ করে
ধরলে মিছে কোথায় কারে
জল শুকিয়ে কাঁদায় ভাসে
মরা গাঙ্গে জ্যান্ত কৈ।।

চোখের দেখায় ভুল হয়ে যায়
দেহের সুধা ক্ষুধাতে খায়
দিনে দিনে দরদ ফুরায়
ভিড়বে তরী কোন কিনারায়
নিজের বলে কি ধন রবে
উড়ে যাবে মনের বারুই।।

কোথায় যাবে নাই ঠিকানা
দন্ধে আছো ও মন কানা
কিসে হবে কার্য করণ
ভুল বিলাসে ভজন সাধন
লিখন বলে কোন পথে যাই
সময় ফুরায় কাণ্ডারি কই।।

ভক্তিমূলক গান

আমারে fraud করে প্রাণকৃষ্ণ কোথায় গেলি

(শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরায় গিয়ে রাজা তো হয়ে গেলেন।এদিকে বিরহ দশায় পড়ে আছেন শ্রীমতি রাধা রাণী। রাধা রানীর এই অবস্হা দেখে তার সখির কাছে জানলেন যে তিনি আবার কবে বৃন্দাবনে ফিরে আসবেন।তো দেখা করে ফিরে এসে দেখে;এ কি আশ্চর্য! শ্রীরাধিকা কুঞ্জে বসে অনর্গল ইংরেজি বলছে।ইংরেজিতে বিলাপ করছে।বিলাপ করে শ্রীকৃষ্ণের উদ্দ্যেশে বলছে)
I am for you
very sorry
আমার golden body
হল কালী-
আমারে fraud করে,
প্রাণকৃষ্ণ কোথায় গেলি(২)
আমারে fraud করে
I am for you
very sorry(2)
আমার Golden body
হল কালী(2)
আমারে fraud করে।
My dear dearest,
মধুপুরে গেলে কেষ্ট(2)
বলো এক্ষণ how to rest(2)
শোন dear বনমালী।
আমারে fraud করে
প্রাণকৃষ্ণ কোথায় গেলি
আমারে fraud করে।
(আমরা)Poor creature
Milky girl(গোয়ালিনী)(2)
তাদের breast-এ মারলি শেল(2)
Nonsense তোমার নাইকো আক্কেল(2)
Breach of contract করে গেলি।
আমারে fraud করে
প্রাণকৃষ্ণ কোথায় গেলি
আমারে fraud করে।
লম্পট শঠের fortune খুলল,
ঐ মথুরাতে king হল,
uncle কংসের প্রাণ নাশিল(2)
কুব্জা রাণী পেলে ডালি।
আমারে fraud করে
প্রাণকৃষ্ণ কোথায় গেলি
আমারে fraud করে।
শ্রীনন্দের boy young lad,
হেরি crooked mind hard(2)
কহে RC the Bird
কহে রুপচাঁদ পক্ষী
(বলি Half English half Bengali)
আমারে fraud করে
প্রাণকৃষ্ণ কোথায় গেলি
আমারে fraud করে
I am for you
very sorry(2)
আমার golden body
হল কালী
আমারে fraud করে(3)

ভক্তিমূলক গান

জীবন পদ্মে স্পন্দিত হোক

জীবন পদ্মে স্পন্দিত হোক
রামকৃষ্ণ সারদা নাম
অরুণকান্ত রুপভরা
অশ্র সরস করুক প্রাণ
ও ও ও ও

ক্লান্ত তৃষিত দূরের কন্ঠ
তৃপ্ত হোক কর আশিস
অন্ধকারের ভীতি হরণ
জাগাও তোমার মোহন ঠাম
ও ও ও ও
জীবন পদ্মে স্পন্দিত হোক
রামকৃষ্ণ সারদা নাম
অরুণকান্ত রুপভরা
অশ্র সরস করুক প্রাণ

মর্ত্য মাটিতে স্বর্গ আসুক
তোমার কৃপায় যুগাবতার
কুন্ঠিত হেরি লুন্ঠিত হিয়া
গাও হে দুগ্ধ শোকে প্রাণ
আ আ আ আ
জীবন পদ্মে স্পন্দিত হোক
রামকৃষ্ণ সারদা নাম
অরুণকান্ত রুপভরা
অশ্র সরস করুক প্রাণ
জীবন পদ্মে স্পন্দিত হোক
রামকৃষ্ণ সারদা নাম।

ভক্তিমূলক গান

এই যে আকাশ আর এই যে মাটি

এই যে আকাশ আর এই যে মাটি
সবি যে তোমার দেওয়া দান
তোমারই খেয়ালে গড়া মানুষ যে তার
গায়গো তোমারি জয়গান
প্রণাম তোমায় হে তারেকেশ্বর
তোমার আসন জানি সবার উপর
বিপদে আপদে তাই দলে দলে
তোমার চরণ ছুঁতে মানুষ চলে
তোমার স্মরণ নিলে দুখীর দুখ
হাসিমুখে জানি তুমি করে দাও ত্রাণ
প্রণাম তোমায় হে তারেকেশ্বর
তোমার আসন জানি সবার উপর
শপথের জল নিয়ে চলেছি যে তাই,
তোমার মাথায়টাতে ছড়া’তে যে চাই(২)
আসুক যতই কেন প্রলয় বাঁধা
মেটাও মনের আশা ওগো ভগবান
প্রণাম তোমায় হে তারেকেশ্বর
তোমার আসন জানি সবার উপর
তুমি শেখালেনা পিতা স্বর্গ
পিতার কারনে নিয়ে চলি অর্ঘ্য
পরম পিতার কাছে এ’তো নিবেদন
বিফল করোনা ওগো করুনা নিদান
প্রণাম তোমায় হে তারেকশ্বর
তোমার আসন জানি সবার উপর
বাঁচিয়েছ কত তুমি অকাল মরণ,
আমার মানত শুধু একটি জীবন(২)
কত পাপী কত তাপী হল উদ্ধার
বাঁচাও একটি ভালো মানুষের প্রাণ
এই যে আকাশ আর এই যে মাটি
সবি যে তোমার দেওয়া দান
তোমারই খেয়ালে গড়া মানুষ যে তার
গায়গো তোমারি জয়গান
প্রণাম তোমায় হে তারেকশ্বর,
তোমার আসন জানি সবার উপর(২)
প্রণাম তোমায় হে তারেকশ্বর
তোমার আমার হে তারেকশ্বর
প্রণাম তোমায় হে তারেকশ্বর(২)

ভক্তিমূলক গান

মা হওয়া কি মুখের কথা

মা হওয়া কি মুখের কথা(৪)
(শুধু)প্রসব করলে হয়না মাতা(২)
(যদি) না বুঝে সন্তানের ব্যথা(২)
মা হওয়া কি মুখের কথা(২)
দশমাস দশদিন,
যাতনা পেয়েছেন মাতা(২)
এখন ক্ষুধার বেলা শুধালেনা
এল পুত্র গেল কোথা(২)
মা হওয়া কি মুখের কথা(৩)
সন্তানে কু-কর্ম করে,
বলে সারে পিতা-মাতা(২)
দেখ কাল প্রচন্ড করে দন্ড
তাতে তোমার হয়না ব্যথা(মা)(২)
মা হওয়া কি মুখের কথা(৩)
দ্বিজ রামপ্রসাদ বলে মা-(২)
এ চরিত্র শিখলে কোথা
যদি ধর আপন পিতৃধারা
নাম ধরোনা জগন্মাতা(২)
মা হওয়া কি মুখের কথা(২)

বসন্তবাহার-একতাল

ভক্তিমূলক গান

জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে

জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ
গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে(৩)
(রাধে)গোবিন্দ গোবিন্দ
গোবিন্দ গোবিন্দ(২)
গোবিন্দ ব’লে সদা ডাকরে।
জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ
গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে

ছাড় রে মন কপট চাতুরী
বদনে বল হরি হরি(২)
(হরি)নাম পরম ব্রহ্ম
জীবের মূল ধর্ম(২)
অধর্ম কুকর্ম ছাড়রে।
জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ
গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে

ছাড়রে মন ভবের আশা
অজপা নামে কর রে নেশা(২)
(রাধে)গোবিন্দ নামটি
বদনে লইয়ে(২)
নয়ন-নীরে সদা ভাসরে।
জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ
গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে(৩)
(রাধে)গোবিন্দ গোবিন্দ
গোবিন্দ গোবিন্দ(২)
গোবিন্দ ব’লে সদা ডাকরে।
জয় রাধে রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ
গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে(৬)

ভক্তিমূলক গান

জাগো চন্ডিকা মহাকালী

(মা মা মা)
নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে
জাগো চন্ডিকা মহাকালী(২)
নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে।
মৃতের শ্মশানে নাচো
মৃত্যুঞ্জয়ী মহাশক্তি(২)
দনুজ-দলনী করালি
জাগো মহাকালী
মহাকালী মহাকালী মহাকালী
নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে।

প্রাণহীন শবে শিব-শক্তি জাগাও
নারায়ণের যোগ-নিদ্রা ভাঙাও(২)
অগ্নিশিখায় দশদিক রাঙাও
বরাভয়দামিনী নৃমুন্ডমালি
নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে।

শ্রী চন্ডিতে তোরই শ্রীমুখের বাণী
কলিতে আবির্ভাব হ’বে তোর ভবানী(২)
এসেছে যে কলি,
কালীকা এলি কই,
শুম্ভ নিশুম্ভ জন্মেছে পুন: ঐ(২)
অভয় বানী তব মাভৈ: মাভৈ:(২)
শুনিব কবে মা গো খরতর তালি(২)
নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে
জাগো চন্ডিকা মহাকালী
নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে।

ভক্তিমূলক গান

ছি ছি আমরা লাজে মরে যাই

(রঙের রঙিন হইল মধুর বৃন্দাবন
লুকালো করে কালা কালার মোহন।।)
রঙের মাঝারে লুকাবো বধুঁয়ারে
আমরা হোলীরও আনন্দে রহিনু মগন
(লুকানো করে কালা কালার মোহন
রঙে রঙিন হইল মধুর বৃন্দাবন
লুকালো করে কালা কালার মোহন)
(সেই মধুর বৃন্দাবনে হোলী খেলায় রাই, কিশোরীর কাছে কৃষ্ণ হেরে যাওয়ার পর সখিরা বললেন)
হেদে হে শ্যাম,
নাগর হয়ে হারিলে হে
আ ছি: ছি: পুরুষ হয়ে,
নারীর সনে হারিলে হে
ছি: ছি: আমরা লাজে মরে যাই
(ছি: ছি: ছি: আমরা লাজে মরে যাই)
গোয়ালিনীর সনে,হেরে গেলে কানাই
(ছি: ছি: ছি: ছি:আমরা লাজে মরে যাই-২)
ললিতা ললিত হাসি,
প্রহেলিকা গায় গায় গায়
ললিতা ললিত হাসি
ওগো সাধুয়া নাগর
একবার খেলবে নাকি
(সাধুয়া নাগর খেলাবে নাকি)
একবার হেরেছ তাতে কি হয়েছে
(হারুয়া নাগর খেলাবে নাকি)
না হয় এইবার তোমায়
ঠিক জিতায়ে দেব
(হারুয়া নাগর খেলাবে নাকি)
ওহে হারুয়া নাগর খেলাবে নাকি
(হারুয়া নাগর খেলাবে নাকি)
চপলা চপল দীঠে সুধামুখী চায়
ছুঁয়া চন্দন গৌরি দেয় শ্যামরাই(তখন)(২)
শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি
(শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি)
শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি
(শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি)
ও ও হো হো রঙে হরি,
শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি
(শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি)(২)
বলি হারুয়া সামাল বনে,
গোপী সনে ফাগ কানাই
(শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি)(২)
আহা: শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি
(শ্যাম অঙ্গে দাঁড়ি দাঁড়ি)
জ্ঞানদাস গোবিন্দর শরমে লুটায়(২)
রাধে গোবিন্দ(রাধে গোবিন্দ)
প্রেমানন্দে বল জয় জয়
রাধে গোবিন্দ(রাধে গোবিন্দ)
ঐ মধুমাখা কৃষ্ণ নাম
রাধে গোবিন্দ(রাধে গোবিন্দ)
জয় জয় রাধে গোবিন্দ(রাধে গোবিন্দ)
রাধে গোবিন্দ,রাধে গোবিন্দ
(রাধে গোবিন্দ,রাধে গোবিন্দ)
রাধে গোবিন্দ,রাধে গোবিন্দ
হরিবল,হরিবল,হরিবল,হরিবল,হরিবল
হরিবল,হরিবল,হরিবল,হরিবল,হরিবল

ভক্তিমূলক গান

যমুনে এই কি তুমি সেই যমুনে

যমুনে এই কি তুমি
সেই যমুনা প্রবাহিনী
ও যার বিমল তটে,রুপের হাটে
বিকাত নীলকান্ত মণি।

কোথা সে ব্রজের শোভা
গোলোক হত মনোলোভা
কোথা শ্রীদাম বলরাম সুবল সুদাম
কোথা সে সুনীল তনু,ধেনু,বেনু
মা যশোদা রোহিনী।

কোথা নন্দ উপানন্দ
মা যশোদার প্রাণ গোবিন্দ
ধড়া চূড়া পরা কোথা ননী চোরা
কোথা সে বসন চুরি
ব্রজ নারীর পূঁজিতা মা কাত্যায়নী।

কোথা চারু চন্দ্রাবলী,
কোথা বা সে জলকেলি
কোথা ললিতা সখী সুহাসিনী
কোথা সে বংশীধারী রাসবিহারী
বামেতে রাই বিনোদিনী।

কোথা সে নূপুর ধ্বনি,
না বাজে কিঙ্কিনী
মধুর হাসি মধুর বাঁশি
আর নাহি শুনি
ও যার মোহন সুরে উজান ভরে
বইতে তুমি আপনি।

তোমারি তটে তটে
তোমারি ঘাটে ঘাটে
তোমারি সন্নিকটে কই সে ধ্বনি
ও যার মানের লাগি মোহন চূড়া লুটাইত ধরণী।

দেখাইয়া দাও আমারে
যমুনে সেই বামারে
অনাথের নাথ
হৃদি মাঝারে পা দু’খানি
পরিব্রাজক বলে চরণ তলে
লুটাই শির দিন যামিনি।।

ভক্তিমূলক গান

এখনও সেই বৃন্দাবনে বাঁশি বাজেরে

এখনও সেই বৃন্দাবনে
বাঁশি বাজেরে
কালার বাঁশি শুনে
বনে বনে ময়ূর নাচেরে।

এখনও সেই রাধারানী
বাঁশির সুরে পাগলিনী
অষ্টসখী শিরমনি
নবসাজেরে।

এখনও সেই গাভীগুলি
গোচরণে ছড়ায় ধূলি
সখার সনে কোলাকুলি
রাখাল রাজেরে

এখনও সেই নীল যমুনায়
জল আনিতে যায় ললনা
কদমতলে সেই ছলনায়
কৃষ্ণ আসেরে।

এখনও সেই ব্রজবালা
বাঁশি শুনে হয় উতলা
গাঁথে বন ফুলের মালা
বনমাঝেরে।

আশা ছিল মনে মনে
যাবো আমি বৃন্দাবনে
ভবাপাগলা রয় বাঁধনে
মায়ার বাঁধনে।।

ভক্তিমূলক গান

মন চল নিজ নিকেতনে

মন চলো নিজ নিকেতনে
সংসার বিদেশে বিদেশীর বেশে
ভ্রম কেন অকারণে
মন চলো নিজ নিকেতনে।

বিষয়-পঞ্চক আর ভূতগণ
সব তোর পর কেহ নয় আপন
পরপ্রেমে কেন হয়ে অচেতন
ভুলিছ আপনজনে
মন চলো নিজ নিকেতনে।

সত্যপথে মন কর আরোহণ,
প্রেমের আলো জ্বালি চল অনুক্ষণ
সঙ্গেতে সম্বল রাখো পূণ্যধন
গোপনে অতি যতনে

লোভ-মোহাদি পথে দস্যুগণ,
পথিকের করে সর্বস্ব সমশন
পরম যতনে রাখোরে প্রহরী
শম,দম দুইজনে
মন চলো নিজ নিকেতনে।

সাধুসঙ্গ নামে আছে পান্থধাম,
শ্রান্ত হলে তথায় করিবে বিশ্রাম
পথভ্রান্ত হলে শুধাইবে পথ সে
পান্থনিবাসী গণে।

যদি দেখ পথে ভয়েরই আকার
প্রাণপণে দিও দোহাই রাজার
সে পথে রাজার প্রবল প্রতাপ,
শমণ ডরে যার শাসনে।
মন চলো নিজ নিকেতনে।
সংসার বিদেশে বিদেশীর বেশে
ভ্রম কেন অকারণে।

ভক্তিমূলক গান

বাজলো তোমার আলোর বেণু, মাতলো রে ভুবন

বাজলো তোমার আলোর বেণু, মাতলো যে ভুবন
আজ প্রভাতে সে সুর শুনে খুলে দিনু মন।।

অন্তরে যা লুকিয়ে রাজে
অরুণবীণায় সে সুর বাজে—
এই আনন্দযজ্ঞে সবার মধুর আমন্ত্রণ।।

আজ সমীরণ আলোয় পাগল নবীন সুরের বীণায়,
আজ শরতের আকাশবীণা গানের মালা বিলায়।

তোমায় হারা জীবন মম
তোমারই আলোয় নিরুপম—
ভোরের পাখি ওঠে গাহি তোমারই বন্দন।।

মহিষাসুরমর্দিনী গীতি-আলেখ্য সম্পর্কে তথ্য:
রচনা ও প্রবর্তনা – বাণীকুমার। সঙ্গীত-সর্জন – পঙ্কজকুমার মল্লিক। গ্রন্থনা ও স্তোত্রপাঠ – বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। “আজ দেবীপক্ষের প্রাক-প্রত্যুষে জ্যোতির্ম্ময়ী জগন্মাতা মহাশক্তির শুভ আগমন-বার্ত্তা আকাশ-বাতাসে বিঘোষিত। মহাদেবীর পুণ্য স্তবনমন্ত্রে মানবলোকে জাগরিত হোক ভূমানন্দের অপূর্ব্ব প্রেরণা। আজ শারদ গগনে-গগনে দেবী ঊষা ঘোষণা করছেন মহাশক্তির শুভ আবির্ভাব-ক্ষণ।” এরপর তিনবার শঙ্খধ্বনির পর শুরু হয় অনুষ্ঠান। সুপ্রীতি ঘোষের পরিশীলিত কন্ঠে গাওয়া সেই গান – “বাজল তোমার আলোর বেণু”। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে প্রথম প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি, কিন্তু তখন এর নাম ছিল ‘শারদ বন্দনা’। ১৯৩৪-এর ৮ ই অক্টোবর (১৩৪১ বঙ্গাব্দ) মহালয়ার সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছিল অনুষ্ঠানটি।

ভক্তিমূলক গান

তব অচিন্ত্য রূপ-চরিত-মহিমা

তব অচিন্ত্য রূপ-চরিত-মহিমা,
নব শোভা, নব ধ্যান রূপায়িত প্রতিমা,
বিকশিল জ্যোতি প্রীতি মঙ্গল বরণে।
তুমি সাধন ধন ব্রহ্ম বোধন সাধনে।।
তব প্রেমনয়ন ভাতি নিখিল তারণী
কনককান্তি ঝরিছে কান্ত বদনে।।
হে মহালক্ষ্মী জননী গৌরী শুভদা,
জয় সংগীত ধ্বনিছে তোমারই ভুবনে।।

মহিষাসুরমর্দিনী গীতি-আলেখ্য সম্পর্কে তথ্য:
রচনা ও প্রবর্তনা – বাণীকুমার। সঙ্গীত-সর্জন – পঙ্কজকুমার মল্লিক। গ্রন্থনা ও স্তোত্রপাঠ – বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। “আজ দেবীপক্ষের প্রাক-প্রত্যুষে জ্যোতির্ম্ময়ী জগন্মাতা মহাশক্তির শুভ আগমন-বার্ত্তা আকাশ-বাতাসে বিঘোষিত। মহাদেবীর পুণ্য স্তবনমন্ত্রে মানবলোকে জাগরিত হোক ভূমানন্দের অপূর্ব্ব প্রেরণা। আজ শারদ গগনে-গগনে দেবী ঊষা ঘোষণা করছেন মহাশক্তির শুভ আবির্ভাব-ক্ষণ।” এরপর তিনবার শঙ্খধ্বনির পর শুরু হয় অনুষ্ঠান। সুপ্রীতি ঘোষের পরিশীলিত কন্ঠে গাওয়া সেই গান – “বাজল তোমার আলোর বেণু”। ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে প্রথম প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি, কিন্তু তখন এর নাম ছিল ‘শারদ বন্দনা’। ১৯৩৪-এর ৮ ই অক্টোবর ( ১৩৪১ বঙ্গাব্দ ) মহালয়ার সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছিল অনুষ্ঠানটি।