বিবিধ

আলু বেচো, ছোলা বেচো, বেচো বাখর খানি

আলু বেচো, ছোলা বেচো, বেচো বাখর খানি
বেচোনা বেচোনা বন্ধু তোমার চোখের মণি।

কলা বেচো, কয়লা বেচো, বেচো মটরদানা
বুকের জ্বালা বুকেই জ্বলুক, কান্না বেচোনা।

ঝিঙে বেচো পাঁচ সিকেতে, হাজার টাকায় সোনা
বন্ধু তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন বেচোনা।

ঘরদোর বেচো ইচ্ছে হলে, করব নাকো মানা
হাতের কলম জনম দুখী, তাকে বেচোনা।

বিবিধ

ও সখীনা গেছস কিনা ভুইল্লা আমারে

আমি অহন রিসকা চালাই ঢাহা শহরে।
ও সখীনা গেসস কিনা ভুইল্লা আমারে
আমি অহন রিসকা চালাই ঢাহা শহরে।
ও সখীনা গেসস কিনা ভুইল্লা আমারে

এবার বানে সোনাফলা মাঠ হইল ছারখার
দেশ-গেরামে শেষে নামে আকাল হাহাকার।।
আমরা মরি কি আসে যায়
মহাজনে পাওনা টা চায়
বেবাক ফসল তুইলা দিলাম আমরা তাগোর খামারে।
ও সখীনা গেসস কিনা ভুইল্লা আমারে
আমি অহন রিসকা চালাই ঢাহা শহরে।
ও সখীনা গেসস কিনা ভুইল্লা আমারে

জলার পাশে কলাগাছের ছায়া সারি সারি।।
তার তলাদি চইলা আইলাম আমি অনাহারি।।
হাজার ঠেকায় গরীব ঠকায় তাকায় রাঙ্গা চোখে
মিডা কথা কয়নাতো কেউ আমরা ছোডলোকে।।
লক্ষ মশার উৎপাতে
রাত কাটেনা ফুটপাতে।।
লয় মনে আজ বদলা লমু উইড়া যামু তোর ধারে।
ও সখীনা গেসস কিনা ভুইল্লা আমারে

ও সখীনা গেসস কিনা ভুইল্লা আমারে
আমি অহন রিসকা চালাই ঢাহা শহরে।

বিবিধ

পরের জায়গা পরের জমিন

পরের জায়গা পরের জমিন
ঘর বানাইয়া আমি রই
আমি তো এই ঘরের মালিক নই।।

সেই ঘরখানা যার জমিদারি
আমি পাইনা তাহার হুকুমদারী
আমি পাইনা জমিদারের দেখা ।।
মনের দুঃখ কারে কই।।

জমিদারের ইচ্ছামত দেই না জমি চাষ
তাইতো ফসল ফলে না রে
দুঃখ বারো মাস।।

আমি খাজনাপাতি সবই দিলাম
তবু জমিন আমার হয় যে নীলাম ।।
আমি চলি যে তার মন জোগাইয়া
দাখিলায় মেলে না সই।।

পরের জায়গা পরের জমিন
ঘর বানাইয়া আমি রই
আমি তো এই ঘরের মালিক নই।।

বিবিধ

চঞ্চল মন আনমনা হয় যে তার ছোঁয়া লাগে

চঞ্চল মন আনমনা হয় যে তার ছোঁয়া লাগে।।
ভোরের আকাশে আলো দেখে পাখি যেন জাগে।
চঞ্চল মন আনমনা হয় যে তার ছোঁয়া লাগে।।

সারাদিন রিমঝিম ঝিম কত বৃষ্টি
কত বৃষ্টি হয়েছে মন জুড়ে।।

দিশাহারা কোনো পাতা যেন
ঝড়ের মুখেতে গেল উড়ে
চোখের পাতায় এতো স্বপ্নের ভীড় হয়নি তো আগে
ভোরের আকাশে আলো দেখে পাখি যেন জাগে।
চঞ্চল মন আনমনা হয় যে তার ছোঁয়া লাগে।।

গুনগুন গুন গানে
মনে এসে বাসা ভ্রমরের মতো তার মন
এসে বসে মোর মনে
আমি সব কিছু – ভুলে গেছি গুন গুন গুন গানে

উচ্ছ্বল মন তোলপাড় অনাসৃষ্টি
অনাসৃষ্টি চলেছে সেই থেকে।।

বুঝিনি তো ভুল হয়ে গেছে
ঝড়ের মেঘেতে মন রেখে।

পিঞ্জর ভেঙ্গে উড়বার নেশা এতো হয়নিতো আগে
ভোরের আকাশে আলো দেখে পাখি যেন জাগে।

চঞ্চল মন আনমনা হয় যে তার ছোঁয়া লাগে।।
ভোরের আকাশে আলো দেখে পাখি যেন জাগে।
চঞ্চল মন আনমনা হয় যে তার ছোঁয়া লাগে।।

বিবিধ

এ রাত জাগা পাখি, কী গান যায়

এই রাত জাগা পাখি কি গান যায় শুনিয়ে
আসে ফিরে ফিরে তোমারই ইশারা।।

ঐ জোৎস্না ভেজা তোমার হাতছানি
শোনায় কত কথা মিটি মিটি তারা।

উদাসী হাওয়ায় হৃদয় উন্মন
মনে আসে যত কথা বলা বাকি।।

পাই ফিরে ভালবাসার এই মন
রামধনু রঙে কত ছবি আঁকি।

ঐ জোসনা ভেজা তোমার হাতছানি
শোনায় কত কথা মিটি মিটি তারা।

সারাবেলা যত সাধ থাকে গোপন
মায়াবি রাতে এসে দেয় সে উঁকি
হারানো কত স্মৃতি আসে ফিরে
ভরে যায় জীবনের অনেক ফাঁকি।

এই রাত জাগা পাখি কি গান যায় শুনিয়ে
আসে ফিরে ফিরে তোমারই ইশারা।

ঐ জোৎস্না ভেজা তোমার হাতছানি
শোনায় কত কথা মিটি মিটি তারা।

বিবিধ

কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে,

কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে,
ফুলে বাইলা ভোমরা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

সোয়া চন্দন ফুলের মালা,
সখিগণে লইয়া আইলা
কৃষ্ণ দিলায় রাধার গলে,
বাসর হইল উজালা
বাসর হইল উজালা গো,
বাসর হইলো উজালা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

কৃষ্ণ দিলায় রাধার গলে,
রাধায় দিলা কৃষ্ণর গলে
আনন্দে সখীগণ নাচে
দেখিয়া প্রেমের খেলা
দেখিয়া প্রেমের খেলা গো
দেখিয়া প্রেমের খেলা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

কৃষ্ণ প্রেমের প্রেমিক যারা,
নাচে গায় খেলে তারা
কুল ও মানের ভয় রাখে না,
ললিত ও আর বিশখা
ললিত ও আর বিশখা গো
ললিত ও আর বিশখা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

বিবিধ

নির্জন যমুনার কূলে

নির্জন যমুনার কূলে
বসিয়া কদম্ব তলে
বাঁজায় বাঁশী বন্ধু শ্যামরায় ।।

বাঁশীতে কি মধু ভরা আমারে করিল সারা
আমি নারী ঘরে থাকা দায়
কালার বাঁশী হলো বাম বলে শুধু রাধা নাম।।
কুলবঁধুর কুলমান মজায়
বাঁশীর সুরে অঙ্গ জ্বলে ঘরের জল বাহিরে ফেলে
মনে লয় যামু যমুনায়

শোন গো ললিতে সখী বন্ধু ছাড়া কেমনে থাকি
প্রাণপাখী উড়ে যেতে চায় ।।
আমি নারী কুলবালা কালার বাঁশী দিল জ্বালা।।
অঙ্গ কালা বন্ধুর চিন্তায়
যদি আমার কেউ থাকো বন্ধু এনে প্রাণটি রাখো
মন প্রাণ সব সঁপিব তার পা’য়

ভুবনমোহন সুরে ভাইটাল নদী উজান ধরে
জ্বলে অনল আমার অন্তরায়
মনের লয় সন্ন্যাসী হইয়া দেখবো তারে তল্লাসিয়া
কোন বনে সে বাঁশরী বাজায়
নইলে কলসী বেন্ধে গলে ঝাঁপ দেবো যমুনায় জলে
প্রাণ ত্যাজিব বলে দূরবীন শাহ

বিবিধ

বন্ধু তোর লাইগা রে

বন্ধু তোর লাইগা রে
বন্ধু তোর লাইগা রে
আমার তনু জড়জড়
মনে লয় ছাড়িয়ারে যাইতাম
থুইয়া বাড়ি ঘর
বন্ধু তোর লাইগা রে ।।

অরণ্য জঙ্গলার মাঝে আমার একখান ঘর
ভাইয়ো নাই বান্ধবও নাই মোর
কে লইবো খবর হায়রে
বন্ধু তোর লাইগা রে……।

বট বৃক্ষের তলে আইলাম ছায়া পাইবার আশে
তাল ভাঙ্গিয়া রৌদ্র ওঠে
আমার কর্মদোষে
বন্ধু তোর লাইগা রে……

নদী পাড় হইতে গেলাম নদীরও কিনারে
নদীরও কিনার বানাইয়া
নদী পাড় হইতে গেলাম নদীরও কিনারে
আমারে দেখিয়ারে নৌকা সরে দুরে দুরে
হায়রে বন্ধু তোর লাইগা রে……

সৈয়দ শাহ নূরে কান্দইন
নদীর কুলো বইয়া
পাড় হইমু পাড় হইমু কইরা
দিনতো যায় চলিয়া হায়রে
বন্ধু তোর লাইগা রে……

বিবিধ

বনমালী তুমি পরজনমে হইও রাধা

আমি মরিয়া হইবো শ্রীনন্দের নন্দন
তোমাকে বানাবো আধা
বনমালী তুমি পরজনমে হইও রাধা ।।

তুমি আমারই মতন কান্দিয়া কান্দিও
কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম বদনে বলিও ।।
যাইও যমুনার ঐ ঘাটে যাইও
আমার রঙ্গটি ছিল কত সাদা
বনমালী তুমি পরজনমে হইও রাধা ।।

তুমি আমারই মতন জ্বলিও জ্বলিও
বিরহ কুসুম হার গলেতে পরিও ।।
ঐ প্রেম না করিয়া
ছিলেম তো ভাল
আমার মনটি ছিল কত সাদা
বনমালী তুমি পরজনমে হইও রাধা ।।

ভাবিয়া সরোজ কয়
ঐ কৃষ্ণ ফদ
প্রেমেরও মায়া ডরে বান্ধিও বান্ধিও ।।

তুমি বুঝবে তখন ।।
নারীর কি বেদন
রাধার প্রাণে ছিল কত ব্যথা
বনমালী তুমি পরজনমে হইও রাধা ।।

বিবিধ

পাগল মন

কে বলে পাগল
সে যেনো কোথায়
রয়েছো কতই দূরে
মন কেন এতো কথা বলে ।।
ও পাগল মন, মন রে
মন কেন এতো কথা বলে

মনকে আমার যত চাইযে বুঝাইতে
মন আমার চায় রঙের ঘোড়া দৌড়াইতে ।।
পাগল মন রে
মন কেন এতো কথা বলে
ও পাগল মন, মন রে
মন কেন এতো কথা বলে

আমি বা কে আমার মনটা বা কে
আজো পারলাম না আমার মনকে চিনিতে ।।
পাগল মন রে
মন কেন এতো কথা বলে
ও পাগল মন, মন রে
মন কেন এতো কথা বলে

আশি তোলায় সের হইলে চল্লিশ সেরে মণ
মনে-মনে এক মন না হইলে মিলবে না ওজন ।।
পাগল মন রে
মন কেন এতো কথা বলে
ও পাগল মন, মন রে
মন কেন এতো কথা বলে

কে বলে পাগল
সে যেনো কোথায়
রয়েছো কতই দূরে
মন কেন এতো কথা বলে ।।
ও পাগল মন, মন রে
মন কেন এতো কথা বলে

বিবিধ

সবারে বাস রে ভালো,

সবারে বাস রে ভালো,
নইলে মনের কালো ঘুচবে নারে।
আছে তোর যাহা ভালো ।।
ফুলের মতো দে সবারে।
নইলে মনের কালো ঘুচবে নারে।

করি’ তুই আপন আপন
হারালি যা ছিল আপন; ।।
এবার তোর ভরা আপন; …
বিলিয়ে দে তুই যারে তারে।
নইলে মনের কালো ঘুচবে নারে।

যারে তুই ভাবিস ফণী
তারও মাথায় আছে মণি।।
বাজা তোর
বাজা তোর প্রেমের বাঁশি
ভবের বনে ভয় বা কারে।
সবাই যে তোর মায়ের ছেলে,
রাখবি কারে, কারে ফেলে ।।
একই নায়ে সকল ভাইয়ে …
যেতে হবে রে ওপারে।

নইলে মনের কালো ঘুচবে নারে।
সবারে বাস রে ভালো,
নইলে মনের কালো ঘুচবে নারে।

বিবিধ

যখন সময় থমকে দাঁড়ায়

যখন সময় থমকে দাঁড়ায়
নিরাশার পাখি দু’হাত বাড়ায়
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন
স্বপ্ন দেখে মন

যখন আমার গানের পাখি
শুধূ আমাকেই দিয়ে ফাঁকি
সোনার শিকলে ধরা দেয় গিয়ে
আমি শূন্যতা ঢাকি
যখন এঘরে ফেরে না সে পাখি
নিস্ফল হয় শত ডাকাডাকি
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন
স্বপ্ন দেখে মন

যখন এমনে প্রশ্নের ঝড়
ভেঙ্গে দেয় যুক্তির খেলাঘর
তখন বাতাস অন্য কোথাও
শোনায় তার উত্তর
যখন আমার ক্লান্ত চরন
অবিরত বুকে রক্তক্ষরন
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন
স্বপ্ন দেখে মন

যখন সময় থমকে দাড়ায়
নিরাশার পাখি দু’হাত বাড়ায়
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন
কি আর করে তখন
স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন
স্বপ্ন দেখে মন

বিবিধ

সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

লাল ফিতে সাদা মোজা সু স্কুলের ইউনিফর্ম
ন’টার সাইরেন সংকেত সিলেবাসে মনোযোগ কম
পড়া ফেলে এক ছুট ছুট্টে রাস্তার মোড়ে, দেখে
সাইরেন মিস করা দোকানীরা দেয় ঘড়িতে দম
এরপর একরাশ কালো কালো ধোঁয়া
স্কুল বাসে করে তার দ্রুত চলে যাওয়া

এরপর বিষন্ন দিন বাজেনা মনোবীণ
অবসাদে ঘিরে থাকা সে দীর্ঘ দিন
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

সন্ধ্যা ঘনাতো যখন পাড়ায় পাড়ায়
রক থাকতো ভরে কিছু বখাটে ছোড়ায়
হিন্দি গানের কলি সদ্য শেখা গালাগালি
একঘেয়ে হয়ে যেত সময় সময়

তখন উদাস মন ভোলে মনরঞ্জন
দাম দিয়ে যন্ত্রনা কিনতে চায়
তখন নীলাঞ্জনা প্রেমিকের কল্পনা
ওমনের গভীরতা জানতে চায়

যখন খোলা চুলে হয়তো মনের ভুলে
তাকাতো সে অবহেলে দু’চোখ মেলে
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

অংকের খাতা ভরা থাকতো আঁকায়
তার ছবি তার নাম পাতায় পাতায়
হাজার অনুষ্ঠান প্রভাত ফেরীর গান
মন দিন গুনে এই দিনে আশায়

রাত জেগে নাটকের মহরায় চঞ্চল
মন শুধু সে ক্ষনের প্রতিক্ষায়
রাত্রির আঙ্গিনায় যদি খোলা জানালায়
একবার একবার যদি সে দাড়ায়

বোঝেনি অবুঝ মন নীলাঞ্জনা তখন
নিজেতে ছিলো মগণ এ প্রানপণ
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

বিবিধ

এই বেশ ভাল আছি

এই বেশ ভাল আছি। এই বেশ ভাল আছি।
এই বেশ ভাল আছি, কর্ম কাজ নেই, গাড়ি ঘোড়া কিছু নেই,
অফিস কাছারি নেই, হাজিরা কামাই নেই,
শব্দ বা পরিবেশ দূষণ বালাই নেই,
সময় দেই না বলে তেলে বেগুণ জ্বলে গিন্নীর রাগ নেই,
টেলিফোনে ডাক নেই, শহরেতে কারফিউ, লোকজন কেউ নেই,
এক-চার-চার ধারা, ফুটপাথে থাকে যারা, কেউ কোথ্ থাও নেই,
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই–

দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে,
ঐ ধর্মের বাঘ হেসে, আবার উঠোনে এসে,
আশ্রয় চেয়ে যায় মানুষেরই কাছে।
তাই, ভয় আছে
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।

ভেঙে গেলে জোড়া যায় মন্দির মসজিদ,
ভাঙা কাঁচ, ভাঙা মন যায় না,
রাম আছে, শ্যাম আছে, কোরাণী সেলাম আছে,
রক্তলোলুপ কিছু হয় না।
এদেশ টা ফাঁকা আছে, বিদেশের টাকা আছে,
ধর্ম না গ্রাস করে আমাদের পাছে।

তাই, ভয় আছে
দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।

এই বেশ ভাল আছি। এই বেশ ভাল আছি।
এই বেশ ভাল আছি, ভাবার সময় আছে, তবুও ভাবনা নেই,
পার্কে তে ঘোরা নেই, সিনেমায় যাওয়া নেই,
উঠতি যুবকদের যাতনার সীমা নেই,
শিহরণ আনে প্রেমে এমন বাতাস নেই,
যুবতীর কটাক্ষ, চীরে দেয় এ বক্ষ, হায়রে এমন দিনে
সেই অবকাশ নেই, চাল নেই, ডাল নেই, পয়সার দাম নেই,
তবুও টিভির স্ক্রীনে খেলার বিরাম নেই।
নেই নেই কিছু নেই, তবুও তো আছে কিছু, বলতে যা বাধা নেই–

দু নয়নে ভয় আছে, মনে সংশয় আছে।

বিবিধ

বৃদ্ধাশ্রম

ছেলে আমার মস্ত মানুষ,মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার।
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী
সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি।
ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম!

আমার ব্যবহারের সেই আলমারি আর আয়না
ওসব নাকি বেশ পুরনো,ফ্ল্যাটে রাখা যায় না।
ওর বাবার ছবি,ঘড়ি-ছড়ি,বিদেয় হলো তাড়াতাড়ি
ছেড়ে দিলো, কাকে খেলো, পোষা বুড়ো ময়না।
স্বামী-স্ত্রী আর আ্যালসেশিয়ান-জায়গা বড়ই কম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম!

নিজের হাতে ভাত খেতে পারতো নাকো খোকা
বলতাম আমি না থাকলে কি করবি রে বোকা?
ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদতো খোকা আমার কথা শুনে-
খোকা বোধ হয় আর কাঁদে না,নেই বুঝি আর মনে।
ছোট্টবেলায় স্বপ্ন দেখে উঠতো খোকা কেঁদে
দু’হাত দিয়ে বুকের কাছে রেখে দিতাম বেঁধে
দু’হাত আজো খুঁজে,ভুলে যায় যে একদম-
আমার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম!

খোকারও হয়েছে ছেলে,দু’বছর হলো
তার তো মাত্র বয়স পঁচিশ,ঠাকুর মুখ তোলো।
একশো বছর বাঁচতে চাই এখন আমার সাধ
পঁচিশ বছর পরে খোকার হবে ঊনষাট।
আশ্রমের এই ঘরটা ছোট,জায়গা অনেক বেশি-
খোকা-আমি,দু’জনেতে থাকবো পাশাপাশি।
সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণ রকম
মুখোমুখি আমি,খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!
মুখোমুখি আমি,খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!
মুখোমুখি আমি,খোকা আর বৃদ্ধাশ্রম!