বাউল

পরানের মরা

পিরীতি করা পরানের মরা গো
যারা কইরাছে তারাই জানে

এ দিকে জোলেখা বিবি
আশি বছরের বুড়ি
শুধু প্রেমের লাগিয়া
সাজিলেন যৌবত নারী
আশি বৎসর পড়ে, ইউসুফের ধ্যান নাহি খুলে
শেষ দিকে মিলায় পরওয়ারে গো

ইউনুস নবী প্রেম করিলেন
মাছের ভিতর থাকিয়া
নামের সুধা পান করিলেন
রইলেন ইউনুস বাঁচিয়া
আশেকে দয়াময় মাশুকে পরিচয়
ইব্রাহিম বাঁচিয়া রয় জ্বলন্ত আগুনে গো

নূহরে বাঁচাইলেন অঘোরও তুফানে
খলিলের এ বাচাইলেন অঘোরও নিদানে
আমি বান্দা গুনাগার
মসরু পাগলা তোমার
শেষের দিনে পরয়ার, তরাইয়ো আমারে গো

বাউল

দয়াল

দয়াল তোমার বাড়ি তোমার গাড়ি
তুমি তাতে হও ড্রাইভার,
আর আমরা সবাই পেসেঞ্জার ।।
দয়াল তোমার ভব ইষ্টিশনে,
আমরা সবাই পেসেঞ্জার ।।

বডিতে বেশ নকশা কাটা,
স্বরুপে সব আলোর ছটা,
কৌশলে বেশ দরজা কয়টা,
কইরাছো তৈয়ার,
আন্দরে তাই সদর কোটা,
এই দেহ অলির মাজার,
আমরা সবাই পেসেঞ্জার ।।

সর্বদা সু-পথ কু-পথে
চালাও চলি দিনে রাইতে
মবিল পেট্রোল হয়না নিতে
ফুরায়না বার বার ।
হাওয়াই তেল দমে দমেতে
আজব ট্যাংকি ভিতরে তার ।।

পাগল হাসান গাড়ি লইয়া
শেষ দিনের ইষ্টিশন যাইয়া,
কর্ম কালের ফানা চাইয়া দয়াল
কান্দিবে জার জার,
হিসাব নিকাশ সব কষিয়া
হই যদি গো গুনাহগার ।।

বাউল

কূল ভেঙ্গেছে

কূল ভেঙ্গেছে যে নদীর
সেই নদীতো বুঝেছে
জীবন যাহার কূল ছেড়ে আজ
অকূলে পথ ধরেছে
সেজন বুঝেছে।।

নিঃস্বের নিঃস্ব আমি
হয়ে গেছি শেষের শেষ
আধাঁরে খুঁজে ফিরি
বিশ্বাসের অবশেষ ।
জীবন যাহার উল্টো স্রোতের
ভাটায় পড়েছে ।।

শূন্যের ও মাঝে আমি
খুঁজে ফিরি সম্ভাবনা
জানি আমার আশার আলো
জ্বলেও আর জ্বলবে না ।
জীবন যাহার শুকনো পাতার
মরমরে সুর তুলেছে।।

বাউল

বাঁশি তুই বাজিস নারে

বাঁশী তুই বাজিস নারে
বাড়ে বুকের জ্বালা
কেমন করে বোঝাই তোরে
আমি যে অবলা
বাঁশী বাজিস নারে

বাঁশী তুই তোর সুরেতে গানের খেয়া
(ওরে) জলে ভাসা নাও
গুনগুনাগুন মনের আগুন
জলে নেভে না

ওপার বাঁশী বাজিস বাঁকা
এপার বসে কাঁদি একা গো
আমার মনের নদী ঢেউ খেলে যায়
হইল পরান কালা

বাঁশী তোর বাঁশের আগায়
জনম রে তোর
বিষে ভরা অন্তরে তোর
হাতে যদি পাইতাম তোরে (ও বাঁশী)
ভাঙিতাম এ কেল্লা

বাউল

ভাটির দেশের মাঝি তুমি’রে

কথা : কাকন ফকির

ভাটির দেশের মাঝি তুমি’রে
যাও ভাঠিয়ালী গাইয়া।
এই অভাগী আছি তোমার পন্থপানে চাইয়া ।।

উজান দেশে পড়ে আছি, নাইওর যাইবার আশে –
পন্থপানে চাইয়া থাকি মাঝি, আমার নি কেউ আসে।
দিন কাটে মোর হা হুতাশে, আপন দেশ ভাবিয়া।।

রঙ বেরংয়ের পাল উড়াইয়া, কত মাঝি যায় –
হাতে ধরি পায়ে পড়ি মাঝি কেউ না ফিরে চায়।
সঙ্গে তো কেউ নেয়না আমায়, দূঃখে ফাটে হিয়া।।

মাঝি তোমার পায়ে ধরি, এই মিনতি করি –
আপন দেশে যাব আমি, নেওনা সঙ্গে করি।
নেও না যদি যাব মরি, বিষের বড়ি খাইয়া।।

দুর প্রবাসের বৈরী হাওয়া আর কত সহিবো-
ভিনদেশের প্রবাসী হইয়া পড়িয়া রহিবো।
ফকির কাকন সঙ্গী হব, নৌকা দেও ভিড়াইয়া।।

বাউল

মন হারালে মন

মন হারালে মন
কথা : মামুন মিজান সুর : দূরবাসী নূর
শিল্পী : কিশোর পলাশ

মন হারালে মন পাওয়া যায়
দেহ গেলে দেহ
আমি যদি একবার হারাই
পাবে না আর কেহ ।

ছিলাম একা শূন্য ঘরে
সর্ব সুখের রাজা
কে আমারে ভবে এনে
বানালো তার প্রজা ।
আবার শূন্যে তুলে নেবে
ছাড়ব সোনার গৃহ ।

শূন্যে মাঝে শেষ ঠিকানা
শূন্যে উড়াই পাল
ভেসে যাব শূন্যে আমি
থাকবো চিরকাল ।
শূন্যে যে আজ একের খেলা
মুক্তি পাইলো দেহ ।

শূন্যে আছি শূন্যে রব
পাবে না কেউ দেখা
বিলীন হবো শূন্যে আমি
এই কপালে লেখা ।
মামুন মিজান ভাবছে বসে
ছেড়ে সংসার স্নেহ ।

বাউল

গ্রামে গঞ্জে

গ্রামে গঞ্জে
কথা ও সুর : পাগল হাসান
শিল্পী : কিশোর পলাশ

গ্রামে গঞ্জে গেলে শুনি
ঢোল মন্দিরা ঝুনঝুনি,
শহরে অক্টোপ্যাড আর নাল
ও সোনারে. . . . . . . . .
বাজারে তাক ধুমা’ধুম তাল ।

ভাঁয়োলিন আর বাঁশিতে হয়
বিচ্ছেদ গানের সুর,
প্রেম বিরহী দেবদাস খোঁজে
পারু কত দূর ।
আমি খুঁজি মনের মানুষ
খুঁজতে তো আর নাই কোন দোষ
হইয়া বেহ্শু ঘটাইলাম জঞ্জাল ।

গানের ছন্দে বাউলা বন্ধে
আউলা হইয়া নাচে,
মন আনন্দে সোনা বন্ধে
ড্যান্স দিয়া জমাইছে ।
কোথা’ও বসে ফকির মেলা
সেইখানে আশেকের খেলা
যাত্রা বালায় বানাইছে মাতাল ।

যতই বলি আবোল-তাবোল
মূলে একটা খূঁটি,
তবল আর হারমোনিয়ামে
জীয়ন মরন জুঁটি
তাই ভাবিতে পাগল হাসান
দিন রজনী হয় অবসান
ডুবাইলো মান কীট-পতঙ্গের পাল ।

বাউল

সোনাবন্ধুর গান শুনিয়া

সোনাবন্ধুর গান শুনিয়া
আমার দিলের সুতায় লাগলো টান
আইজ আমারে আনিয়া দেওরে
আসমানেরও চাঁন।

মন্দিরার ঐ টুন্নুর টান্নুর
ভেলার হ্স্কো টান
ঢোলকের ও আলগা ঠেকায়
উড়াইয়া নিল পরাণ।

বাউলা বন্ধের আউলা চুল আর
মুখের হাসি খান
কলিজায় বিন্ধিয়া গেল
তেসরী চোখের নয়ন বাণ।

মনে না ধরিও আনাম
না করিও বারণ
নেশায় মাতাল হইয়া আজি
হারাই যদি কুলমান ।

বাউল

মাটির বালাখানা

মাটির বালাখানা
কথা ও সুর : পাগল হাসান
শিল্পী : কিশোর পলাশ

মাটির ও বিছানা, মাটির বালাখানা
নাই মশারি, কোল-বালিশ, কম্বল,
ও মন শোন মন মনুরা
মাটির ও পিঞ্জিরা,
ঠিকানা হইবো মাটির তল ।

অঙ্গে নয়া জোওয়ানি
খেলাও নাও দৌড়ানি
নয়া গাঁঙ্গে নয়া পানির ঢল ।
নয়া বসন্ত আইলো
নয়া কোকিল ডাকিল
নয়া প্রেমে হইয়াছ পাগল ।

মিছে তোর জমিদারি
সম্পদ সুন্দর নারী
টাকা কড়ি কইরাছ সম্বল ।
গায়ের পশম হইবে পর
বন্ধ কোঠা দালান ঘর
কার লাগিয়া বানাও রংমহল ।

আইবো’রে নিঠুর ও দিন
থাকবে না তোর নামের ছিন
দিনও হীন হাসান ভেবে পাগল ।
গলে পঁচে নিরাকার
দৌড় থামিবে দুই চাক্কার
মানব গাড়ি হইবোরে বিকল ।

বাউল

চাঁদ ঘুমায়

চাঁদ ঘুমায়
কথা : গোলাম রাব্বানী
সুর : রাসেল আযম

চাঁদ ঘুমায় কার ঘরেতে
চাঁদের আলো মাখি গায়
মন নাওরি যার নায়েতে
সেই না পথের দেখা নাই…

দশদিক তার এক লগিটি
লগির সঙ্গে জলের সন্ধী
চাইয়ে বন্দি মাছের মত দিশা পাইবা না
হইবা বন্দি হইবা বন্দি চাঁদ তো পাইবা না…

চাঁদ তো ঘুমায় জলের বুকে
নাচেরে সে লগির কোপে
এসব দেখি লগির চাতুরি
যাইতে দেয় না যাইতে দেয় না চাঁদেরও বাড়ি…

জল না হইলে নাচবে না চাঁদ
আমারও বুকে
কেমনে বন্ধু জল হইমু একবার কইয়া দে….

বাউল

দিল দিয়া যারে

দিল দিয়া যারে
কথা ও সুর ঃ মুনীর সরকার

হেরে গিয়েছি জীবনের বাজি
পেলাম শুধু চোখের জল ও রে
দিল দিয়া যারে ভালবাসিলাম
মন দিয়া যারে ভালবাসিলাম
সে তো হইল না আমার ।

তোমরা তো সেই ভ্রোমরা জাতি
ফুলে ফুলে মধু খাও রে
ফুলের ও মধু শুখাইয়া গেলে
আর না ফিরা বন্ধু চাও রে ।

আশা ছিল বন্ধুয়া সনে
বাঁধব সুখের একটা ঘর ও রে
সেই না ঘর ও উড়াইয়া নিল
কালবৈশাখী একটা ঝড় ও রে ।

মুনীর সরকার বন্ধুয়ার প্রেমে
পুইড়া হইছে বন্ধু কালা রে
পোড়ায় পোড়ায় কলিজা অঙ্গার
আর তো পোড়ার জায়গা নাই ও রে ।

বাউল

মনে লয় ডুবিতাম যমুনায়

ভাঙ্গা নায়
শিল্পী : কিশোর পলাশ

ভালবেসে ঘর বান্ধিলাম
সোনা বন্ধুর ভাঙ্গা নায়,
মনে লয় ডুবিতাম যমুনায় ।

আগেতো কইলা নারে বন্ধু
এমনি যাবে দিনো হাল,
মন সপিলাম দেখিয়া তার
নানান রং-বেরং এর পাল ।
সব দুই আঙ্গলা পোড়া কপাল
ঘুমটিতে পানি চুঁয়ায়…

কর্ম দোষে ধরল বিষে
ঝাইরা নামায় ওঝা নাই,
কাক পক্ষীরে খাওয়াইলাম
সোনার তন ঝরা কামাই ।
দিন রজনী লইয়া খেলাই
প্রাণ জুড়ায় না জোছনায়…

একবার যদি সূখ পাখিরে
হাতের কাছে ধরিতাম,
তার চরণেই পাগল হাসান
একেবারেই মরিতাম ।
প্রাণ সখিরে গান শুনাইতাম
শুইয়া ফুলের বিছাঁনায়…
…………………………………..

বাউল

ভবের বাড়ি

ভবের বাড়ি
কথা ও সুর ঃ কিশোর পলাশ

আমার জীবন হইল ভবের বাড়ি
দুঃখ নামের দিলা গাড়ি
জংসনে জংসনে গাড়ি থেমে থেমে যায়
যার আছে যত বেশী
তারে দাও তত খুশি
অপার হয়ে বসে আছি
শূন্যেরি খেলায় ।
ও বিধি তোমার কি দয়া মায়া নাই ।।

সুখেরই আশা যত
দিয়ে গেছে ফাঁকি
তুমি দয়াল শেষ ভরসা
কি আর আছে বাকি
দুঃখের অনলে পুড়ে ষোল আনাই ছাই ।

কত রঙ্গের মানুষ ভবে
কত রঙ্গের পাখি
আমারে নিঃস্ব কইরা
দুঃখ দিলা সাথী
তবু আমি পথ চলিলাম তোমারি আশায় ।

বাউল

করিমানা কাম করে না

করিমানা কাম ছাড়ে না মদনে
প্রেম রসিক হব কেমনে আমি

এই দেহেতে মদন রাজা করে কাচারি
কর আদায় করে নিয়ে যায় হুজুরি
মদন যে দুষ্টু ভারি তারে দেয় তহশিলদারি
করে সে মুন্সিগিরি গোপনে

চোর দিয়ে চোর ধরাধরি একি কারখানা
আমি তা জিজ্ঞাসিলে তুমি বল না
সাধু সব চুরি করে চোর দেখে পালায় ডরে
নিয়ে যায় শূন্য ভরে কোনখানে

লালন সাঁই যে বিনয় করে সিরাজ সাঁইর পায়
স্বামী মারিলে লাথি নালিশ করিবো কোথায়
তুমি মোর প্রাণ পতি কি দিয়ে রাখবো রতি
কেমনে হব সতী চরণে।

বাউল

দিন গেলে আর দিন আসে না

দিন গেলে আর দিন আসে না
ভাটা যদি লয় যৈবন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন
হায়রে পান করো রে পাগলা মন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা ।।

আসমানে জমিনে যে প্রেম অনন্তকাল ধরিয়া।
তাই তো তারে মেঘ বাদলে রাখে শান্ত করিয়া।
তা না হলে হলে হুলে। (হায়রে) শোভিত না (খোদার) এই ভুবন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন

পাহাড়ে সাই ঘুরে যে প্রেম ফাটাইয়াছে এক সাথে।
তাই তো পানি বাস্প হইয়া উঠে গিয়া তার মাঝে।
দেখছ নি তাই মন ভাবিয়া। হইতেছে কত পরেশন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন

খোদার প্রেমে জংগলবাসী মনি ঋষি আওলিয়া (আওলিয়া…)।
সারা জনম কাটায় তারা গাছতলাতে বসিয়া
পাইলো কী ধন কইলো না রে
পাইলো কী ধন কইলো না তাই (সদাই) কান্দেরে জালালের মন
থাকতে ক্ষুধা প্রেম শুধা
পান করো রে পাগলা মন।।