বাউল

যারে ঘর দিলা সংসার দিলা রে, তারে বৈরাগী মন কেন দিলা রে

যারে ঘর দিলা সংসার দিলা রে।।
তারে বৈরাগী মন কেন দিলা রে।।

যে অন্তরে ভালোবাসা স্বপন জীবন ভর
সে অন্তরে কত জ্বালা কত ঘৃণা পর।।
যারে নয়ন দিলা…….
যারে নয়ন দিলা আলো দেখিতে।।
গুরু, আঁধার জীবন কেন দাও তারে।।

নিজের হাতে নিজের মতে গড়ো এ ভূবন
সে ভূবনে ওলট পালট হয় কেন এমন ?
যারে জীবন দিলা …….
যারে জীবন দিলা জীবন গড়িতে।।
তারে, মরার আগে মারো কেন রে।।

কথাঃ লিটন অধিকারী রিন্টু; সুরঃ আলী আকবর রুপু; অ্যালবামঃ শিকারী; বছরঃ ১৯৯৬

বাউল

সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলি

চাতোরী করিয়া মোরে, বান্ধিয়া পিরিতের ডোরে
(ওরে) বিচ্ছেদ সাগরে ভাসাই গেলি রে বন্ধুয়া {দ্বিতীয়বার ওরে নেই}
সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলি
আমার সাদা দিলে, (হায় হায়) {দ্বিতীয়বার হায় হায় নেই}
সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলিরে বন্ধুয়া
সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলি (আবার প্রথম থেকে)

পিরিতি আগে বুঝি নাই, তুই পিরিতি শিখাইলি তাই
তুই নিষ্ঠুরে ক্যামনে কইরা ভুলি (হায়) (।।)
কত না সোহাগ করিয়া, হাউসে পিরিত শিখাইয়া…।।
কোন পরাণে গেলি আমায় ফেলি রে বন্ধুয়া
সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলি

কত দিনের কত কথা, হৃদয়ে মোর আছেরে গাঁথা
তুই কি নিঠুর ভুইলাছি সকলই (হায়) (।।)
আমি কানতে কানতে ঘুমাই যখন…..।।
আমি কানতে কানতে ঘুমাই যখন, স্বপ্নে তোরে দেখি তখন।।।।
পাইনা তোরে আবার চোক্ষু মেলিরে বন্ধুয়া
সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলি

পিরিতি আগে বুঝি নাই, তুই পিরিতি শিখাইলি তাই
তুই নিষ্ঠুরে ক্যামনে কইরা ভুলি (হায়) (।।)
কত না সোহাগ করিয়া …….।।
কত না সোহাগ করিয়া, হাউসে পিরিত শিখাইয়া।।
কোন পরাণে গেলি আমায় ফেলি রে বন্ধুয়া
সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলি

বাউল

হবিগঞ্জের জালালী কইতর

হবিগঞ্জের জালালী কইতর সুনামগঞ্জের কুড়া
সুরমা নদীর গাংচিল আমি শূন্যে দিলাম উড়া
শূন্যে দিলাম উড়া রে ভাই যাইতে চান্দের চর
ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কইলকাত্তার উপর,
তোমরা আমায় চিননি… তোমরা আমায় চিননি
তোমরা আমায় চিননি…
ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কইলকাত্তার উপর।

হাওরের পানি নাইরে হেথায় নাইরে তাজা মাছ
বিলের বুকে ডানা মেইলা নাইরে হিজল গাছ
বন্ধু নাইরে তাজা মাছ ।
তবু নিদহারা নগরের পথে রাইতের দুপুরে
মরমিয়া ভাটিয়ালী আমার গালায় ঝরে ।

এই সুরে আছেরে বন্ধু অশত্থ বটের ছায়া
এই সুরে বিছাইয়াদেরে শীতল পাটির মায়া
গো বন্ধু অশত্থ বটের ছায়া ।
এইনা সুরের পালের দোলায় খুশির হাওয়া বয়
এই সুরের দৌলতে আমি জগৎ করলাম জয় ।

হবিগঞ্জের জালালী কইতর সুনামগঞ্জের কুড়া
সুরমা নদীর গাংচিল আমি শূন্যে দিলাম উড়া
শূন্যে দিলাম উড়া রে ভাই যাইতে চান্দের চর
ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কইলকাত্তার উপর,
তোমরা আমায় চিননি… তোমরা আমায় চিননি
তোমরা আমায় চিননি…
ডানা ভাইঙ্গা পড়লাম আমি কইলকাত্তার উপর।

বাউল

মায়া নদী

মায়া নদী কেমনে যাবি বাইয়া
ও নাইয়া ….মায়া নদী কেমনে যাবি বাইয়া
ও রঙ্গিলা দেশের নাইয়া …..
মায়া নদী ……..(2)

ও নাইয়া ………..ও নাইয়া …..
এই না নদীর বাকে বাকে কুমির থাকে ঝাকে ঝাকে
সেই কুমিরে ফেলবে তোরে খাইয়া
ও নাইয়া ….সেই কুমিরে ফেলবে তোরে খাইয়া
বিবেক হলুদ গায়ে মাইখা …বিবেক হলুদ গায়ে মাইখা
অনাসে যাও না পারি দিয়া ….ও রঙ্গিলা দেশের নাইয়া
মায়া নদী কেমনে ……..(2)

ও নাইয়া ………ও নাইয়া …….ওরে এই নদীর তিনটি ঘাট
ছায়ামনি ধৈরা সেথা তাদের রূপ দেখিয়া যেওনা ভুলিয়া
তাদের রূপ দেখিয়া ভুইলা গেলে ..এ ..নাইয়া রূপ দেখিয়া ভুইলা গেলে
মরবি শেষে পার খাটায় কালিয়া
ও রঙ্গিলা দেশের নাইয়া ….মায়া নদী ……

ও নাইয়া …….এই না নদীর হুমার জোটে
পার ভাঙ্গিয়া পানি ছোটে
কত সাধের বাগান গেল রে ভাসিয়া
ও নাইয়া …সাধের বাগান গেল রে ভাসিয়া
কত সাধুর জনা ডুবে মরে রে নাইয়া …কত সাধুর জনা ডুবে মরে রে নাইয়া
এই নদীর হাবুডুবু খাইয়া
ও রঙ্গিলা দেশের নাইয়া …..মায়া নদী …..

বাউল

চাতক বাচে কেমনে

চাতক বাঁচে কেমনে
মেঘের বরিষণ বিনে।।

তুমি হে নব জলধর
চাতকিনী মল এবার
ঐ নামের ফল সুফল এবার
রাখ ভুবনে।।

তুমি দাতার শিরোমণি
আমি চাতক অভাগিনী
তোমাবিনে আর না জানি
রাখ চরণে।।

চাতক মলে যাবে জানা
ঐ নামের গৌরব রবেনা
জল দিয়ে কর সান্তনা
অবোধ লালনে।।

বাউল

পাবে সামান্যে কি তার দেখা!

পাবে সামান্যে কি তার দেখা!
(ওরে) বেদে নাই যার রূপ-রেখা।।
কেউ বলে, পরম মিষ্টি কারো না হইল দৃষ্টি ।।
বরাতে দুনিয়া সৃষ্টি ।।
তাই নিয়ে লেখাজোখা।
(ওরে) তাই নিয়ে লেখাজোখা।
নিরাকার ব্রহ্ম হয় সে সদাই ফেরে অচিন দেশে ।।
দোসর তাই নাইকো পাশে ।।
ফেরে সে একা একা।
(ওরে) ফেরে সে একা একা।
কিঞ্চিৎ ধ্যানে মহাদেব, সে তুলনা কি আর দেবো ।।
লালন বলে, গুরু ভাবো
যাবে রে মনের ধোঁকা।
(ওরে) যাবে রে মনের ধোঁকা।

বাউল

রাখিলেন সাঁই কূপজল করে

রাখিলেন সাঁই কূপজল করে,
আন্ধেলা পুকুরে..

কবে হবে সজল বরষা?
রেখেছি মন সেই ভরষা..
আমার এই ভগ্ন দশা,
যাবে কত দিন পরে?..

এবার যদি না পাই চরণ,
আবার কি পড়ি ফ্যাড়ে..
রাখিলেন সাঁই কূপজল করে,
আন্ধেলা পুকুরে..

নদীর জল কূপজলই হয়,
বিল-বাওরে পড়ে রয়..
সাধ্য কি সে গঙ্গাতে যায়?
গঙ্গা না এলে পরে..

তেমনি জীবের ভজন বৃথা,
তোমার দয়া নাই যারে..
রাখিলেন সাঁই কূপজল করে,
আন্ধেলা পুকুরে..

তোমার যন্তরে পুড়ি এই অন্তর,
রয় যদি সে লক্ষ বছর..
যন্ত্রী বিহনে যন্ত্র,
কভু না বাজতে পারে?..

আমি যন্ত্র তুমি যন্ত্রী,
সুবল বলাও আমারে..
রাখিলেন সাঁই কূপজল করে,
আন্ধেলা পুকুরে..

বাউল

সেই কালাচাঁদ নদেয় এসেছে

সেই কালাচাঁদ নদেয় এসেছে।
ও সে বাজিয়ে বাঁশি ফিরছে সদাই
কুলবতীর কুলনাশে।।

মজবি যদি কালার পিরিতি
আগে জান গে যা তার কেমন রীতি।
প্রেম করা নয় প্রাণে মরা
অনুমানে বুঝিয়েছে।।

ঐ পদে কেউ রাজ্য যদিও দেয়
তবু কালার মন নাহি পাওয়া যায়।
রাধা বলে কাঁদছে এখন
তারে কতো কাঁদিয়েছে।।

ব্রজে ছিল জলদ কালো
কী সাধনে গৌর হলো।
লালন বলে চিহ্ন কেবল
দুনয়ন বাঁকা আছে।।

বাউল

একটা চিঠি লিখি তোমার কাছে

একটা চিঠি লিখি তোমার কাছে ব্যাথার কাজলে
আশা করি পরান বন্ধু আছো কুশলে
আগে নিও ভালোবাসা অবলার না বলা ভাষা
আমার যত গোপন আশা ভিজাইয়া দেই নয়ন জলে

প্রথম যেদিন এসে তুমি মিলাইলে হাত
ফুটিল মনের বনে প্রেম পারিজাত
সেই বাসরে শুণ্যহিয়া আমি থাকি তবু পথ চাহিয়া
কান্দে আমার মন পাপিয়া গুঞ্জরিয়া বুকের তলে

যে বকুলের তলায় বসে শুনেছিলাম বাঁশী
সেই বকুলের মুকুলেতে গন্ধে অলি হাসে
ছিঁড়ে গেছে গাঁথা মালা বুকে জ্বলে দারুন জ্বালা
কুলবধু হইলা একলা কান্দি বসে নিরালে

ভুলে যাওয়া পথটি ধরে ভুল করে এসে
পার যদি দেখে যেও দিনের শেষে
(আমি) কেমন আছি পরের ঘরে দেখে যেও নয়ন ভরে
বনবিহঙ্গী থাকে যেমন বাঁধা শিকলে

কি যে লিখি কি বা বাকি পাইনা খুঁজিয়া
অভাগিনীর মনের বেদন (তুমি) লও বুঝিয়া
চিঠি লিখি করি ইতি নিও আমার প্রেম পিরীতি
(অধম) রসিক বলে শেষ মিনতি চরণ কমলে

বাউল

আর জ্বালা সয়না গো সরলা

আমি-তুমি দুইজন ছিলাম, এখন আমি একেলা
আর জ্বালা, আর জ্বালা সয়না গো সরলা।।

দুনিয়া ঘুরিনু ঠাই, দুঃখ কইবার জায়গা নাই
মনের দুঃখ কারে জানাই বসে কাঁদি নিরালা
আর জ্বালা, আর জ্বালা সয়না গো সরলা।।

দুঃখে আমার জীবন গড়া, সইলাম দুঃখ জনমভরা
হইলাম আমি সর্বহারা এখন যে আর নাই বেলা
আর জ্বালা, আর জ্বালা সয়না গো সরলা।।

আর কতো সয় কোমল প্রানে, আর কতকাল ঘুরবো বনে
আর কতদিন দুই নয়নে বহাবো নদী-নালা
আর জ্বালা, আর জ্বালা সয়না গো সরলা।।

তুমি চলে গেলে দূরে, প্রাণ-পাখি যাইতে চায় উড়ে গো
যে পাখিরে জনমভরে খাওয়াইলাম দুধ-কলা
আর জ্বালা, আর জ্বালা সয়না গো সরলা।।

বলে করিম দীনহীনে, কতো কথা উঠে মনে গো
তুমি বিনে এ ভুবনে ভাঙ্গিল ভবের খেলা
আর জ্বালা, আর জ্বালা সয়না গো সরলা।।

বাউল

কোথা’ হতে কোথা’ এলি

কোথা’ হতে কোথা’ এলি
কোথা’ হতে কোথা’ এলি জানলি না মন এখনো
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো।
কোথা’ হতে কোথা’ এলি জানলি না মন এখনো
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো॥
লক্ষ বছর হলো গত
ঘুরে মহাজগত।
লক্ষ বছর হলো গত
ঘুরে মহাজগত।
সোনা মাছের মতো ভুলে
সোনা মাছের মতো ভুলে (ভোলা মন)
সোনা মাছের মতো ভুলে সুখে তুই রইলি যেন।
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো।
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো।।
আগে পরে না জানলে পর
কেঁদেই যাবি জীবন ভর।
আগে পরে না জানলে পর
কেঁদেই যাবি জীবন ভর।
আসা-যাওয়ার এপার ওপার
আসা-যাওয়ার এপার ওপার (ভোলা মন)
আসা-যাওয়ার ওপার বাদ রাখিস না কোনো।
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো।।
কোথা’ হতে কোথা’ এলি
কোথা’ হতে কোথা’ এলি জানলি না মন এখনো
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো
আবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো
অাবার কোথায় চলে যাবি কেউ কি জানে কখনো।।

বাউল

কলংকি

আমারে কান্দাইয়া রে বন্ধু
কি সুখে ঘুমাও,
কলংকি বানাইলা রে বন্ধু
ঘাটে বাইন্ধা নাও আমায় ।।

আসমানে তোর বাড়ী বন্ধু
কোন জমিনে ঠিকানা,
এতো ভালোবাইসা ও তোর
মন পাইলাম না,
তোমারে দোষী বলি না
সবই আমার বাও ।।

হৃদ মাজারে পাই না তোরে
হারাইয়া করি দর্শন,
হইলা না রে সুজন বন্ধু
বিফল প্রেম সাধন,
পাগল হাসান ভাবে আপন
যতোই প্রেম খেলাও ।।

বাউল

তুমি যেওনা গো

তুমি যেওনা , যেওনা হায় আমায় একা করে
তুই বিহনে পরান বন্ধু যাবো আমি মরে ।

তুই যে আমার মন মহুয়া
তোর পিরীতেই জ্বলি
আমার মনের ফুল বাগানে
তুই য়ে গানের কলি ।
মনের কথা কেমন করে
তোমায় আমি বলি ।।

তুই যে আমার মাথারও কেশ
চিরল চুলের চেলি
নাকের নোলক, হাতের কাকন
কানের কর্নফুলি ।
মনের খাতায় আদর করে
রাখবো তোমায় তুলি ।

বাউল

এক জীবনে

এক জীবনে দুইবার মরা
মরিবো সাঁই কেমনে
প্রেমের মরা মরলাম জনমে (দয়াল) ॥

রঙ্গখেলার দুনিয়াটা
প্রেমের হাট-বাজার (দয়াল)
কেহ করে প্রেমের সওদা
কেহ হাহাকার (দয়াল)।
আমি কাঙ্গাল প্রেমে মরা
মরলাম রসিক বিহনে ॥

প্রেম সাগরের পারঘাটাতে
আমি অধম মাঝি (দয়াল)
কতো প্রেমিক আসে আর যায়
আমার রসিক খুঁজি (দয়াল)।
আমি কাঙ্গাল প্রেমে মরা
মরলাম রসিক বিহনে ॥

বাউল

মাতাল

তাল হারা এক বেতালা
বসে বাজায় বেহালা
উদর ভরিয়া প্রেমের
শারাব খেয়েছি ……
মাতাল হয়েছিরে আমি শারাব খেয়েছি ।

খেয়েছি প্রেমের শারাব
আমার কিসের অভাব
বাংলার নবাব আমি সেজে গেছি
কখন আসবে মীরজাফর
ভয়ে কাঁপে এ অন্তর
এই হালে দিন আমি কাটাইতে আছি ।

শারাবের ভিতরে রেখেছি যারে
তার ছবি আমি আঁকিতে আছি
পেলে তার দরশন ……
ছাড়তাম না দু চরন
মনে প্রাণে এই আশা, আমি করেছি ।

শ্বেত পাথরের গেলাস ভরে
দেরে শারাব দে আমারে
আমি যে প্রেমের নেশায়
ডুবে আছি ……
আলো আর অন্ধকার
আমার কি আর দরকার
কয় সালাম সরকার
আমার পথেই তো আছি ।