দেশাত্মবোধক গান

সেই রেল লাইনের ধারে মেঠো পথটার পাড়ে দাড়িয়ে

সেই রেল লাইনের ধারে মেঠো পথটার পাড়ে দাড়িয়ে
এক মধ্যবয়সী নারী এখনো রয়েছে হাত বাড়িয়ে
খোকা ফিরবে,ঘরে ফিরবে
কবে ফিরবে,নাকি ফিরবে না ।

দৃষ্টি থেকে তার বৃষ্টি গেছে কবে শুকিয়ে
সে তো অশ্রু মুছেনা আর গোপনে আঁচলে মুখ লুকিয়ে
শুধু শূণ্যে চেয়ে থাকে যেন আকাশের সীমা ছাড়িয়ে
খোকা ফিরবে,ঘরে ফিরবে
কবে ফিরবে,নাকি ফিরবে না ।

দস্যি ছেলে সেই যুদ্ধে গেল ফিরলো না আর
আজো শূণ্য হৃদয়ে তার গুমড়ে গুমড়ে যায় হাহাকার
খোকা আসবে,ঘরে আসবে যেন মরণের সীমা ছাড়িয়ে
খোকা ফিরবে,ঘরে ফিরবে
কবে ফিরবে,নাকি ফিরবে না ।

দেশাত্মবোধক গান

সুন্দর সুবর্ণ তারুন্য লাবন্য

সুন্দর সুবর্ণ তারুন্য লাবন্য
অপূর্ব রূপসী রূপেতে অনন্য।

আমার দু’চোখ ভরা স্বপ্ন
ও দেশ তোমারই জন্য।।

থাকবে নাতো দুঃখ দারিদ্র
বিভেদ-বেদনা-ক্রন্দন।।

প্রতিটি ঘরে একই প্রশান্তি
একই সুখের স্পন্দন।।

তোমার জন্য হবো দুরন্ত
তোমার জন্য শান্ত
প্রহরী হয়ে দেব পাহারা
যেথায় তোমার সীমান্ত।।

দেশাত্মবোধক গান

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি

আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি

চিরদিন তোমার আকাশ ।।
তোমার বাতাস
আমার প্রানে
ওমা আমার প্রানে বাজায় বাঁশী

ওমা ফাগুনে তোর আমার বনে ঘ্রানে পাগল করে
মরি হায়
হায় রে ওমা
ফাগুনে তোর আমার বনে ঘ্রানে পাগল করে ।
ওমা অগ্রানে তোর ভরা খেতে
কি দেখেছি
আমি কি দেখেছি মধুর হাসি
সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবভাসি

কি শোভা কি ছায়া গো
কি স্নেহ কি মায়া গো
কি আঁচল বিছায়েছ বটের মুলে
নদীর কূলে কূলে

মা তোর মুখের বানী
আমার কানে লাগে সুধার মতো
মরি হায় , হায় রে মা তোর
মুখের বানী
আমার কানে লাগে সুধার মতো

মা তোর বদন খানি মলিন হলে
আমি নয়ন
ওমা আমি নয়ন জ্বলে ভাসি

সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি ।

দেশাত্মবোধক গান

সূর্যদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি

সূর্যদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি
ও আমার বাংলাদেশ, প্রিয় জন্মভূমি।।

জলসিঁড়ি নদীর তীরে,
তোর খুশির কাঁকন যেন বাজে
ও—কাশবনে ফুলে ফুলে,
তোর মধুর বাসর যেন সাজে
তোর একতারা হায়,
করে বাউল আমায় সুরে সুরে।।

আঁকাবাঁকা মেঠো পথে
তোর রাখাল হৃদয় যেন হাসে
ও—পদ্ম পাতা, দীঘির ঝিলে
তোর সোনার স্বপন যেন ভাসে
তোর এই আঙিনায়
ধরে রাখিস আমায় চিরতরে।।

দেশাত্মবোধক গান

সালাম সালাম হাজার সালাম

সালাম সালাম হাজার সালাম
সকল শহীদ স্মরণে,
আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই
তাদের স্মৃতির চরণে।।

মায়ের ভাষায় কথা বলাতে
স্বাধীন আশায় পথ চলাতে
হাসিমুখে যারা দিয়ে গেল প্রাণ
সেই স্মৃতি নিয়ে গেয়ে যাই গান
তাদের বিজয় মরণে,
আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই
তাদের স্মৃতির চরণে।।

ভাইয়ের বুকের রক্তে আজিকে
রক্ত মশাল জ্বলে দিকে দিকে
সংগ্রামী আজ মহাজনতা
কন্ঠে তাদের নব বারতা
শহীদ ভাইয়ের স্মরণে,
আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই
তাদের স্মৃতির চরণে।।

বাংলাদেশের লাখো বাঙালি
জয়ের নেশায় আনে ফুলের ডালি
আলোর দেয়ালি ঘরে ঘরে জ্বালি
ঘুচিয়ে মনের আঁধার কালি।
শহীদ স্মৃতি বরণে,
আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই
তাদের স্মৃতির চরণে।।

দেশাত্মবোধক গান

সবকটা জানালা খুলে দাওনা

সবকটা জানালা খুলে দাওনা
আমি গাইব গাইব বিজয়েরই গান
ওরা আসবে চুপি চুপি যারা এই দেশটাকে
ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ।।

চোখ থেকে মুছে ফেল অশ্রুটুকু
এমন খুশির দিনে কাঁদতে নেই
হারানো স্মৃতি বেদনাতে
একাকার করে মন ডাক দিলে
ওরা আসবে চুপি চুপি যারা এই দেশটাকে
কেউ যেন ভুল করে গেয়নাক
মন ভাঙা গান।।

আজ আমি সারানিশি থাকব জেগে
ঘরের আলো সব আঁধার করে।
তৈরি রাখব আতর গোলাপ
এদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে
ওরা আসবে চুপি চুপি যারা এই দেশটাকে
কেউ যেন ভুল করে গেয়নাক
মন ভাঙা গান।।

দেশাত্মবোধক গান

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।।

যে মাটির চির মমতা আমার অঙ্গে মাখা
যার নদী জল ফুলে ফুলে মোর স্বপ্ন আঁকা।
যে দেশের নীল অম্বরে মন মেলছে পাখা
সারাটি জনম সে মাটির টানে অস্ত্র ধরি।।

মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি―
মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি
মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি
মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি।।

যে নারীর মধু প্রেমেতে আমার রক্ত দোলে
যে শিশুর মায়া হাসিতে আমার বিশ্ব ভোলে
যে গৃহ কপোত সুখ স্বর্গের দুয়ার খোলে
সেই শান্তির শিবির বাঁচাতে শপথ করি।।

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।।

দেশাত্মবোধক গান

মুক্তির মন্দির সোপানতলে

মুক্তির মন্দির সোপানতলে
কত প্রাণ হল বলিদান,
লেখা আছে অশ্রুজলে ।।

কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা,
বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা
তাঁরা কি ফিরিবে আজ সু-প্রভাতে,
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।।

যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন
স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভুমি
এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি
সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি।

যাঁরা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা,
মৌন মলিন মুখে জোগালো ভাষা
আজি রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি
বিজয় লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরই গলে।

দেশাত্মবোধক গান

মাঝি নাও ছাইড়া দে

মাঝি নাও ছাইড়া দে
ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে
গা-রে মাঝি গা কোন গান।।

একদিন তোর নাও মাঝি
ভাসবে না রে নীল নদীতে রে
সেদিন তোর গান মাঝি
শুনবে না কেউ গাইবে না বলে-
ও মাঝি রে, ও কলের নৌকা কাইরা নিবে সুর।।

যন্ত্রের নাও ধোঁয়া ছাইড়া
আঁধার করল নীল আকাশটারে, ও মাঝি রে-
সেদিন তোর নাও মাঝি
শূণ্য হয়ে থাকবে রে পরে-
ও মাঝি রে-
ও চল রে মাঝি যাইরে বহু দূর।।

দেশাত্মবোধক গান

প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ

প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ,
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ,
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।।

আমার আঙিনায় ছড়ানো বিছানো,
সোনা সোনা ধুলিকণা,
মাটির মমতায় ঘাস ফসলে,
সবুজের আল্পনা,
আমার তাতেই হয়েছে
স্বপ্নের বীজবোনা।।

অরূপ জোছনায়, সাজানো রাঙানো
ঝিলিমিলি চাঁদ তলে
নিবিড় মমরায়, পিউ পাপিয়া
হৃদয়ের দ্বার খোলে,
আমি তাতেই রেখেছি
স্বপ্নের দ্বীপ জ্বেলে।।

দেশাত্মবোধক গান

ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা

ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা,
ওসে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সেদেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সেযে আমার জন্মভূমি, সেযে আমার জন্মভূমি।

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা, কোথায় উজান এমন ধারা,
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ, এমন কালো মেঘে,
ও তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে পাখির ডাকে জেগে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সেযে আমার জন্মভূমি, সেযে আমার জন্মভূমি।

এতো স্নিগ্ধ নদী তাহার, কোথায় এমন ধূম্র পাহাড়,
কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে,
এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায়, বাতাস তাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সেযে আমার জন্মভূমি, সেযে আমার জন্মভূমি।

পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী, কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি,
গুঞ্জরিয়া আসে অলি, পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে,
তারা ফুলের উপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সেযে আমার জন্মভূমি, সেযে আমার জন্মভূমি।

ভাইয়ের মায়ের এতো স্নেহ, কোথায় গেলে পাবে কেহ,
ও মা তোমার চরণ দুটি বুকে আমার ধরি,
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সেযে আমার জন্মভূমি, সেযে আমার জন্মভূমি।

দেশাত্মবোধক গান

তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর

তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর,
পাড়ি দিব রে
আমরা ক’জন নবীন মাঝি
হাল ধরেছি রে।।
জীবন কাটি যুদ্ধ করি
প্রাণের মায়া সাঙ্গ করি
জীবনের সাধ নাহি পাই।।

ঘর-বাড়ির ঠিকানা নাই
দিন-রাত্রি জানা নাই
চলার ঠিকানা সঠিক নাই।।

জানি শুধু চলতে হবে
এ তরী বাইতে হবে
আমি যে সাগর মাঝি রে।
জীবনের রঙে মনকে টানে না
ফুলের ঐ গন্ধ কেমন জানি না
জ্যোৎস্নার দৃশ্য চোখে পড়ে না
তারাও তো ভুলে কভু ডাকে না।।

বৈশাখেরই রুদ্র ঝড়ে
আকাশ যখন ভেঙে পড়ে
ছেঁড়া পাল আরও ছেঁড়ে যায়।।

হাতছানি দেয় বিদ্যুৎ আমায়
হঠাৎ কে যে শঙ্খ শোনায়
দেখি ঐ ভোরের পাখি গায়।।

তবু তরী বাইতে হবে
খেয়া পারে নিতে হবে
যতই ঝড় উঠুক সাগরে।
তীরহারা এই ঢেউয়ের
সাগর পাড়ি দিব রে।।

দেশাত্মবোধক গান

জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো

জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো
এমন করে আকুল হয়ে
আমায় তুমি ডাকো।।

তোমার কথায় হাসতে পারি
তোমার কথায় কাঁদতে পারি
মরতে পারি তোমার বুকে
বুকে যদি রাখো মাগো।।

তোমার কথায় কথা বলি
পাখির গানের মতো
তোমার দেখায় বিশ্ব দেখি
বর্ণ কত শত।
তুমি আমার—খেলার পুতুল
আমার পাশে থাক মাগো।।

তোমার প্রেমে তোমার গন্ধে
পরান ভরে রাখি
এইতো আমার জীবন-মরণ
এমনি যেন থাকি।
বুকে তোমার—ঘুমিয়ে গেলে
জাগিয়ে দিও নাকো মাগো।।

দেশাত্মবোধক গান

একতারা তুই দেশের কথা

একতারা তুই দেশের কথা
বলরে এবার বল
আমাকে তুই বাউল করে, সঙ্গে নিয়ে চল
জীবন মরণ মাঝে, তোর সুর যেন বাজে।।

একটি কথা আমি শুধু বলে যেতে চাই
বাংলা আমার সুখে-দুখে হয় যেন গো ঠাই রে।।

একটি গান আমি শুধু গেয়ে যেতে চাই,
বাংলা আমার, আমি যে তার
আর তো চাওয়া নাই রে।।

প্রাণের প্রিয় তুমি, মোর সাধের জন্মভূমি
তোমায় বরণ করে
যেন যেতে পারি মরে।।

দেশাত্মবোধক গান

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

দুঃসহ বেদনার এ কণ্টক পথ বেয়ে।
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।।

যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
পদ্মা-মেঘনার কলতানে
বাউলের একতারাতে
আনন্দ ঝংকারে
তোমাদের নাম ঝংকৃত হবে।

নতুন স্বদেশ গড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে।
আমরা তোমাদের ভুলব না।।