দেশাত্মবোধক গান

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?।।
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?।।
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?।।

দেশাত্মবোধক গান

ভাষার গান । আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রুগড়া এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

একুশে ফেব্রুয়ারির গান
কথা: আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সুর: শহীদ আলতাফ মাহমুদ
তাল: দাদরা

দেশাত্মবোধক গান

উঠ গো ভারত-লক্ষ্মী, উঠ আদি-জগত-জন-পূজ্যা

উঠ গো ভারত-লক্ষ্মী, উঠ আদি-জগত-জন-পূজ্যা,
দুঃখ দৈন্য সব নাশি করো দূরিত ভারত-লজ্জা।
ছাড়ো গো ছাড়ো শোকশয্যা, কর সজ্জা
পুনঃ কনক-কমল-ধন-ধান্যে!

জননী গো, লহো তুলে বক্ষে,
সান্ত্বন-বাস দেহো তুলে চক্ষে;
কাঁদিছে তব চরণতলে
ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।[১]

কাণ্ডারী নাহিক কমলা, দুখলাঞ্ছিত ভারতবর্ষে;
শঙ্কিত মোরা সব যাত্রী কালসাগর-কম্পন-দর্শে।
তোমার অভয়-পদ-স্পর্শে, নব হর্ষে,
পুনঃ চলিবে তরণী শুভ লক্ষ্যে।

জননী গো, লহো তুলে বক্ষে,
সান্ত্বন-বাস দেহো তুলে চক্ষে;
কাঁদিছে তব চরণতলে
ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।[১]

ভারত-শ্মশান করো পূর্ণ পুনঃ কোকিল-কূজিত কুঞ্জে,
দ্বেষ-হিংসা করি চূর্ণ, করো পূরিত প্রেম-অলি-গুঞ্জে,
দূরিত করো পাপ-পুঞ্জে তপঃ-তুঞ্জে,
পুনঃ বিমল করো ভারত পুণ্যে।

জননী গো, লহো তুলে বক্ষে,
সান্ত্বন-বাস দেহো তুলে চক্ষে;
কাঁদিছে তব চরণতলে
ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।

দেশাত্মবোধক গান

প্রিয় মৃত্তিকা

প্রিয় মৃত্তিকা প্রিয় জন্মভূমি প্রিয়তম স্বদেশ
তুমি ভয় পেয়োনা মাগো তুমি ভয় পেয়োনা
আমরা জেগে আছি
এই ধূসর রাত্রিতে”” তোমাকেই এনে দেবো
পৃথিবীর সবচেয়ে উজ্জ্বল দেশ
প্রিয় মৃত্তিকা প্রিয় জন্মভূমি প্রিয়তম স্বদেশ

স্মৃতির ঘড়ের বন্ধ জানালা খুলে দিয়েছি
অতিতের সাহসী একএকটি মুখ খুঁজে এনেছি
ওরা দুপায়ে দলে গেছে মৃত্যুর ভয়
ওরা ভিরুতার পরাজয়ে উড়িয়েছে জয়
স্বাধীনতা চেয়ে ওরা বেঁধেছিল জীবনের জাতী বন্ধন

তোমার বুকের মমতায় কেঁদে ওঠে মাগো একদিন
দারুন ক্রোধে জ্বলে উঠেছিল অগ্নি শিশু
বীর ক্ষুদিরাম ক্ষুদিরাম ক্ষুদিরাম
সূর্যসেনের পদচিহ্ন দেখে হেটে গেলো অমিত তেজে
রফিক সালাম বরকত ( আরো কত নাম )৩
ওরা চেতনায় দ্বীপ্ত সাহসী মশাল
ওরা চেয়েছিল জীবনের সোনালী সকাল
দুঃশাষনের বুকে বজ্র হেনে ওরা গেয়েছিল গান

দেশাত্মবোধক গান

বাংলার দামাল ছেলে

দেখেছি তোমায় তোমায় ভাষা আন্দোলনে
দেখেছি তোমায় তোমায় স্বাধীনতা যুদ্ধে
দেখবো তোমায় এই দেশকে বাঁচাতে (২)
বাংলার দামাল ছেলে তুমি এগিয়ে যাও
আমরা আছি সাথে এই বুক পেতে (২)।।

তুমি বীর সেনানী
তুমি কালপুরুষ
তুমি জয়ী
তুমি হারনি কভু (২)
বাংলার দামাল ছেলে তুমি এগিয়ে যাও
আমরা আছি সাথে এই বুক পেতে।।

তুমি গর্বিত মায়ের
গর্বিত সন্তান
তুমি জয়ী
পিছিয়ে যেওনা কভু (২)
বাংলার দামাল ছেলে তুমি এগিয়ে যাও
আমরা আছি সাথে এই বুক পেতে।।

দেশাত্মবোধক গান

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা কারো দানে পাওয়া নয়

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা কারো দানে পাওয়া নয়
দাম দিছি প্রাণ লক্ষকোটি জানা আছে জগৎময়।।

১৭৫৭ সনে ভাইবা দেখেন পড়বে মনে,
দাম দিছি পলাশীর মাঠে ইতিহাস তাঁর সাক্ষী রয়।।

সেইবারে জানিল বিশ্ব আমরা কত ধনী রে
দান করিতে লক্ষ জীবন তুচ্ছ বলে গণি রে,
১৮৫৭ সালে দাম দিছি ফের জানে মালে
পিছন ফিরে চাইলে পরে ১০০ বছর কথা কয়।।

বৃটিশ গেল সঁইপা গেল জল্লাদেরই হাতে রে
তারা মোদের খুন কইরাছে নানান অজুহাতে রে,
লক্ষ তরুণ হাসি হাসি খাইছে গুলি পরছে ফাঁসি
তবু না দুঃখিনী বাংলা তোমার আমার কারো হয়।।

বাহান্নতে মুখের ভাষা কিনছি বুকের খুনে রে
বরকতেরা রক্ত দিছে বিশ্ব অবাক শুনে রে,
দিছি রক্ত জন্মাবধি সাগর-সাগর নদী-নদী
রক্তে বাংলা লাল কইরাছি__ এই কথা তো মিথ্যা নয়।।

দাম দিয়াছি ৭১এ পঁচিশা মার্চ রাতে রে
সর্বহারা করছে আমায় পশ্চিমা ডাকাতে রে,
বাপের সামনে বলুক তো ঝুট, মেয়ের ইজ্জত হয় নি কি লুট?
দুঃখে বাংলার পদ্মা-মেঘনা-যমুনা জে উজান বয়।।

দাম দিয়াছি মায়ের অশ্রু, বোনের সম্ভ্রম রে
বলতে কি কেউ পারো তোমরা, সে দাম কারো কম রে?
কত কূলের কূলাঙ্গনা নাম নিয়াছে বীরাঙ্গনা
আজো বাংলার আকাশ বাতাস তারই শোকে উদাস হয়।।

দাম দিয়াছি বুদ্ধিজীবী নামি দামি লোক কত!
এ জন্মে ফুরাবে ভাই আমার বুকের সেই ক্ষত?
১৯৭১ সালে ষোলই ডিসেম্বর সকালে
অবশেষে দুঃখিনী এই বাংলা মা যে আমার হয়।।

দেশাত্মবোধক গান

কালো রাজপথ যেন মনে হয় হাজার হাজার পলাশ হয়ে চেয়ে রয়

কালো রাজপথ যেন মনে হয়
হাজার হাজার পলাশ হয়ে চেয়ে রয়।।

সে কোন যাদুকর পথের উপর ফূটিয়েছে রক্ত পলাশ__
বুকের রুধিরে পাষাণ ঘিরে রেখে গেছে ইতিহাস,
রেখে গেছে দুখিনী মায়ের পরিচয়।।

মায়ের দুচোখে সে কোন পলকে বয়ে গেছে অশ্রুনদী__
সে নদী এসে মিশেছে শেষে রক্ত পলাশ অবধি,
রেখে গেছে হারানো প্রাণের বিনিময়।।

দেশাত্মবোধক গান

উদীচী এমনই এক আয়না

আরশির সামনে একা একা দাঁড়িয়ে
যদি ভাবি কোটি জনতার মুখ দেখব__
হয় না হয় না হয় না ___
কে বলেছে হয় না এসো এই মঞ্চে
উদীচী এমনই এক আয়না ।।

সত্যেন রণেশের আঁকা পদচিহ্ন
লাল খামে বাঙালির ঠিকানা অভিন্ন
কানাগলি রাজপথ মিশেছে সেই মোহনায়
অন্য পথের দিশা চাই না।।

প্রগতির মিছিলে এই নবমাত্রা
শুরু হোক অনিয়ম ভাঙবার যাত্রা
থেমে থাকা আর নয় এখনি সে সময়
যুদ্ধে যাবার দেরি সয় না।।

দেশাত্মবোধক গান

আমি লিখতে পেরেছি বিশ্বের সেরা মুক্তির ইতিহাস

আমি লিখতে পেরেছি বিশ্বের সেরা মুক্তির ইতিহাস
আর রক্ত আখরে মুক্তির জয়গান।
বাংলাদেশের কবি আমি সবচেয়ে ভাগ্যবান।।

আমি সুরকার__
সুরে বেঁধেছি মৃত্যুর মহাহুঙ্কার,
মহাশ্মশানের কান্নার মাঝে তুলেছি খুশির ঝঙ্কার।
কামানের ধ্বনি সুরে ফেলে আমি করেছি বাংলা গান__
বাংলাদেশের সুরকার আমি সবচেয়ে ভাগ্যবান।।

শিল্পী আমি
যে গান গেয়েছি রক্তের দামে কিনে__
মৃত্যুর ভিড়ে কণ্ঠ সেধেছি যুদ্ধের সাইরেনে।
সমুখে মৃত্যু দেখে জীবন্ত ছেড়েছি গানের তান__
বাংলাদেশের শিল্পী আমি সবচেয়ে ভাগ্যবান।।

দেশাত্মবোধক গান

রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশ দিলো ডাক

রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশ দিলো ডাক সুনীল ভোরে।
শপথের মশাল হাতে
ছুটে চল নতুন প্রাতে,
বাজা রে অগ্নিবীণা প্রাণে প্রাণে প্রান্তরে।।

একুশের অমোঘ বাণী
দিয়াছে সূর্য আনি,
জীবনের অর্ঘ্য ধোয়া ওই যে ওই রুদ্র আকাশ__
ঝরাবোই স্নিগ্ধ আলো আলো আজি অঝরে।।

অলখের বিড়ম্বনা সাবধান সাবধান!
কোটি কোটি মোরা আজ দীপ্ত প্রাণ দীপ্ত প্রাণ দীপ্ত প্রাণ।

স্বাধীন এই বাংলা আমার
কোটি প্রাণ শহীদমিনার__
নেবই নেব, নেবই নেব,
নেবই নেব আমরা মনের মতো এই দেশ গড়ে।।

দেশাত্মবোধক গান

ও রূপসা নদীর মাঝিরে

ও রূপসা নদীর মাঝিরে

ও মেঘনা নদীর মাঝিরে
ও পদ্মা নদীর মাঝিরে
দোহাই তোমার ধীরে নৌকা বাউ
ময়নামতি গ্রামটি আমায় একটু দেখতে দাও।।

ঐ তো পুরোন পাঠশালা
ঐ তো শিমুলতলার মাঠে
একদল যে করছে চড়ইভাতি
সেই ভীড় শনিবারের হাঠে

ঐ মোড়লবাড়ির বাড়-দুয়ারে
যাত্রা হতো ফি বছরে।
রাতটা জেগে দেখেছি তায়
ময়নামতি গ্রামটি আমায় একটু দেখতে দাও।।

সেই যে পুতুল খেলার ফাঁকে
একদিন হয়েও গেল বিয়ে
কেউ তো ছিল না তিন কূলে
কে আসে বাপের বাড়ি নিয়ে

এই আশা যাওয়ার পথের ধারে
গ্রামটি যখন চোখে পড়ে।
সেই স্মৃতিতে মন যে হয় উধাও।।

দেশাত্মবোধক গান

ঠিক যেখানে চলতে গেলে

ঠিক যেখানে চলতে গেলে ঘাসে ডুবে পা
শিরীষ বটের শাখায় শাখায় পাখির জটলা
বৃষ্টি রোদে ধোয়া আকাশ মাটির সবুজ গা

আহা সেইটি আমার গা, আহা সেইটি আমার গাঁ।

সূর্যি ও চাঁদ প্রথম আলোয় দেখে যে তার মুখ
সেই খুশি হয় শ্রাবণে জুঁই ফাগুনে কিংসুক।

হিমছড়ি ঐ নদী শান্ত নিরবধি।
তার বুকেতে ভেসে চলে ছইহাতা ঐ না।।

আহা সেইটি আমার গা, আহা সেইটি আমার গাঁ।

আহা রূপশালী ঐ ধান আরে মিঠে পাতার পান।
উদাস বাউল গান
আর সহজ সরল মানুষেরাই আমার গাঁয়ের প্রাণ
আমার গাঁয়ের প্রাণ

শহর জীবন থাক পিছে থাক এসো কিছুক্ষণ
পল্লী মায়ের কুটির ঘরে রইলো নিমন্ত্রণ

দেবো প্রীতি সুধা মিটবে মনের ক্ষুধা।
ক্লান্তি তোমার শান্তি সুখের পাবে ঠিকানা

আহা সেইটি আমার গা, আহা সেইটি আমার গাঁ।

দেশাত্মবোধক গান

স্বাধীনতা ।। কালের লিখন

তুমি নয় মাস ছিলে মাতৃগর্ভে
মুজিব তোমার পিতা,
রক্ত দিয়ে পেয়েছি তোমায়,
বাংলার স্বাধীনতা।।

কৃষক শ্রমিক নারী পুরুষ মিলে,
মুক্তি যুদ্ধে গেলো দলে দলে,
যায়নি সেই ত্যাগ বিফলে,
মুক্ত হলো বঙ্গমাতা।।

পরাধীনতার গ্লানি মুছে দিয়ে,
নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে,
শপথ নিলো জমিন ছুঁয়ে
পূর্ণ হলো আকুলতা।।

বাবার চোখে দেশের ভালোবাসা,
মায়ের বুকে ফসলের প্রত্যাশা,
লিখন বলে থাকলে আশা,
নিশ্চিত আসে সফলতা।।

দেশাত্মবোধক গান

তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর

তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর
পাড়ি দেবো রে।
আমরা ক’জন নবীন মাঝি
হাল ধরেছি,
শক্ত হাতে রে।

জীবন কাটে যুদ্ধ করে ,
প্রাণের মায়া সাঙ্গ করে,
জীবনের স্বাদ নাহি পাই।।

ঘরবাড়ির ঠিকানা নাই,
দিনরাত্রি জানা নাই,
চলার সীমানা সঠিক নাই।

জানি শুধু চলতে হবে,
এ তরী বাইতে হবে,
আমি যে সাগর মাঝি রে।

জীবনের রঙে মনকে টানে না,
ফুলের ওই গন্ধ কেমন জানিনা,
জোছনার দৃশ্য চোখে পড়ে না,
তারাও তো ভুলে কভু ডাকে না।

বৈশাখের ওই রুদ্র ঝড়ে,
আকাশ যখন ভেঙ্গে পড়ে’
ছেঁড়া পাল আরো ছিঁড়ে যায়।

হাতছানি দেয় বিদ্যুৎ আমায়,
হঠাত কে যে শঙ্খ শোনায়,
দেখি ওই ভোরের পাখি গায়।

তবু তরী বাইতে হবে ,
খেয়া পাড়ি দিতেই হবে,
যতই ঝড় উঠুক সাগরে।