ব্যান্ড

বাংলাদেশ

যে মাটির পরতে পরতে
সোঁদা গন্ধ বীজ ঘুমিয়ে আছে
সবুজের সারি রাঙ্গা আলপনায়
রাখালিয়া সুর মিশে একাকার
এ মাটি নয় অন্য মাটি
প্রতিভায় বরেণ্য ঘাটি
সাধু সন্নাসী পরিজন ভুলে
বেধেছে শানি কি মায়া জালে

যে মাটির মায়ায় কিষানীর ছায়ায়ে কি মাতম দোলা
শিল্পীর তুলি খোলা অঞ্জলি কভু যায় ভোলা

বাংলাদেশ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ এই বাংলাদেশ।।

যে মায়ের বুকে একে বেকে যায়
খাল বিল নদী অন্ত ধারায়
এ মা তো নয় অন্য মাতা
উপশম করে যে ব্যথা
লাখ সন্তানের দুঃখী অন্তরে
বিয়োগের পাশে স্বজনের বেশে
যে মায়ের কোলে সুর কুঞ্জনে পিউ পাপিয়া
পথে প্রান্তরে মোড়ানো যেন নকশীকাথা
বাংলাদেশ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ এই বাংলাদেশ।।

পীর আউলিয়া হাসন রাজা লালন শাহ জয়নুল কবি নজরুল
আব্বাস উদ্দিন রবীন্দ্র বীর অমর গাথা
বাংলাদেশ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ এই বাংলাদেশ।।

যে মাটির মায়ায় কিষানীর ছায়ায়ে কি মাতম দোলা
শিল্পীর তুলি খোলা অঞ্জলি কভু যায় ভোলা।।

ব্যান্ড

পাহাড়ী মেয়ে

পাথুরে নদীর জলে
পাহাড়ী মেয়ে নামে
ভেজা তার তনু মন ধরা দেয় না
কি স্বপন একে দিল বলা যায় না

স্বপ্ন চোখের মাঝে
সবুজ বনানী কাপে
ছায়া ফেলে এই জল ঝরনা
অধীর ঢেউ এ তোলা
নিয়ে যায় আন্ মোনা
থেকে থেকে শুধু জল ঝরা

বাতাস আকুল হয়ে
জলের ছন্দ নিয়ে
পাহাড়ি মেয়ে সে তো চেয়ে দেখে না
পাখি ডাকে অচেনা
বয়ে যায় ভাবনা
স্বজন বুঝি তার ফিরে এলোনা

ব্যান্ড

কতকাল খুজবো তোমায়

শেষ বিকেলের আলো বিষাদ সন্ধা
চলতে চলতে পথে
হঠাৎ প্রশ্ন জাগে –
কতকাল খুজবো তোমায়
আর কতকাল খুজবো তোমায়

মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গে
চেয়ে দেখি আকাশে তাঁরার মেলা
রাতের নির্জনে গাছের পাতা এমন সময়।
হঠাৎ প্রশ্ন জাগে –
কতকাল খুজবো তোমায়
আর কতকাল খুজবো তোমায়

মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গে
চেয়ে দেখি আকাশে জোছনা ধারা
উদাসি পাখি কাঁদে চেয়ে শুন্যতায় এমন সময়।
হঠাৎ প্রশ্ন জাগে –
কতকাল খুজবো তোমায়
আর কতকাল খুজবো তোমায়।।

ব্যান্ড

মিলনের রক্ত

রক্ত আমার এখন পথে মুছে যায় নি
জনতার স্রোত মন্থর হয়ে থেমে থাকেনি
রক্ত আমার জ্বলছে বিষের আগুনে
চারিদিক আজ প্রতিহিংসার আগুনে
আমি প্রতিশোধ নেব এবার।

ও গো মা তুমি কেদো না
মিলনের রক্তে আমি
হটিয়েছি স্বৈরাচারী
উড়িয়েছি স্বাধীনতার পতাকা

মিলনের গা ঢাকা আছে মা গো কাল কাফনে
বিজয়ের মশাল জ্বেলে গেছে সে ঘরে ঘরে
পাগলা মিছিল বেরিয়েছে মা কোটি জনতার
বদলা নেবে তারা মিলনের জঘন্য হত্যার

আমি প্রতিশোধ নেব এবার।
ও গো মা তুমি কেঁদো না
মিলনের রক্তে আমি
হটিয়েছি স্বৈরাচারী
উড়িয়েছি স্বাধীনতার পতাকা

ব্যান্ড

বালুকাবেলায়

সেই সে বালুকাবেলায়
মনে পরে হাজারো কথায়
মুখরিত অবুঝ এই হৃদয়
আবেগী সীমানায় হারিয়ে ছিলো।

সেই সে প্রেমময়তা সুগন্ধী সুপ্রিয় চিঠিটা
সুরেলা হৃদয় খামে বন্দিনী হয়ে আছে
হাজারো সৃতি মাঝে

সুর কখনো মুছে যায় না
সবটুকুতো মুছে যায় মনের অজানায়
তোমাতে তুমি যা আমারো সুরে তা
জীবন্ত হয়ে থাক

এই কি আছে জীবনে
কিছু সুখে কিছু বেদনায়
বেশ তো কেঁটে যায় অযথা আর
পিছু ডাকার নয় কি হবে বলো
শেষ কথা যা হল না
বুঝে নিও নিছুক কল্পনা
কিছু তো হারাতে হবে
কিছুকে পেতে হলে
ভাঙ্গা গড়ার এ ধরাতে

সুর কখনো মুছে যায় না
সবটুকুতো মুছে যায় মনের অজানায়
তোমাতে তুমি যা আমারো সুরে তা
জীবন্ত হয়ে থাক।

ব্যান্ড

প্রেম তুমি

প্রেম তুমি প্রেম তুমি

তুমি সুর্যাদয়ে যেন বনকোকিল
সুরেলা কোন মধুবীণা
আর অস্তগামী হলে জোছনাতে
রুপালী চাঁদে ঝি ঝি ডাকা
পড়ন্ত দুপুর ফুলে ফুলে সুবাসিনী মায়াবিনী
অশান্ত বিকেলে ক্লান্তিতে দখিনা হাওয়া
তুমি যেন রংধনু সাত রঙ্গে রং
লুকোচুরি সোনালী ফসলের
নয়ন জুড়ি যেন
কাল বৈশাখী প্রলয় শেষে
নতুন দিনের আলোয় সাজানো বনভুমি

প্রকৃতি অকৃত্তিম সুন্দর আলো আধারে
তেমনি হে প্রেম তুমি সুন্দর দুটি অন্তরে
প্রেম সত্য প্রেম শ্বাশ্বত প্রেম অবিনশ্বর
এমনও প্রেমের মাঝেই রহিত ঈশ্বর

তুমি যেন রংধনু সাত রঙ্গে রং
লুকোচুরি সোনালী ফসলের
নয়ন জুড়ি যেন
কাল বৈশাখী প্রলয় শেষে
নতুন দিনের আলোয় সাজানো বনভুমি

ব্যান্ড

পালাই পালাই

পনের ষোল’র এক কিশোর ছেলে
একটি কিশোরী নিয়ে স্বপ্নে বিভোর
স্বপ্নের জাল বোনে মনের কোণে
স্বপ্নের রাত শেষে কবে হবে ভোর
বাবা মা কে বললে ভেঙ্গে দেবে হাড়
পাকামো করছো বেশী বেড়েছো যে বাড়
মেয়ের বাড়ীতে তারা নালিশ জানায়
সাবধান যদি তারা মেয়েকে হারায়
কচি দুটি মাথা তাতে স্বপ্ন জুড়ে
নেয় সিদ্ধান্ত পালাবে দূরে
পালাই পালাই অনেক দূরে যেখানে
পালাই পালাই থাকবে না কোন বাধা
পালাই পালাই তুমি আর আমি শুধু
পালাই পালাই দুজনার শুধুই দুজন

শৃংখল ভেঙ্গে তারা যাবে বহুদূর
দূর ঠিকানার পথ জানে কোন দূর
ছোট এক সংসার রোমাঞ্চিত মন
কঠিন পৃথিবী তবু সুখের জীবন
প্রয়োজন হলে ছেলে কাজ করবে
আয় যা হবে তাতে চলেই যাবে
অশান্ত মন দুটো বাধা মানে না
জীবনের কাছে তারা হার মানে না
কচি দুটি মাথা তাতে স্বপ্ন জুড়ে
নেয় সিদ্ধান্ত পালাবে দূরে

পালাই পালাই অনেক দূরে যেখানে
পালাই পালাই থাকবে না কোন বাধা
পালাই পালাই তুমি আর আমি শুধু
পালাই পালাই দুজনার শুধুই দুজন

ব্যান্ড

কার কাছে যাবো

নিস্তব্ধ এই নাগরিক লোকালয়ে
জীবনের কাছ থেকে সবটুকু পরাজয় মেনে নিয়ে
এখন আমি কার কাছে যাব। বলে দাও

আমার অনেক সুবর্ন ফেরারী
অগোছালো জীবনের পথে
দাড়িয়ে থাকবে না কেউ
বুকে তুলে নিতে আমাকে।

এখন আমি কার কাছে যাব। বলে দাও

চিনতে পারেনি আমায় অনেকে
পরিচিত ভেবেছি যাকে
অচেনা হয়েছি আমি
চেনা কত মানুষের কাছে।

এখন আমি অহুওও কার কাছে যাব। বলে দাও

ব্যান্ড

হারায়

শান্ত বিকেলে রোদে
সোনাঝরা আবীর সে ছড়ায়
বিমুগ্ধ চোখে আমার
দূরমর এই মন যে হারায়
হারায় এই মন যে আমার সে হারায়
এই রোদে আলোতে হারায়
সোনাঝরা বিকেলে হারায়

গোধুলী পৃথিবী আমার
গান গেয়ে উঠেছে এ ভুবন
অস্থির অপার এই রিদয়ে দেখা দেয়
দুরমর এই মন সে আমার
ঠিক তখনি নিবিড় করে
তোমাকে আর কাছে পেতে চায়

হারায় এই মন যে আমার সে হারায়
এই রোদে আলোতে হারায়
সোনাঝরা বিকেলে হারায়

চন্দন বরণের সেই মেয়ে
ছুয়ে যায় আমার হৃদয়
তোমাকেও সেও এখনো ছুয়ে যায়
শোকারত নিঃশ্বাস আমার
অন্য কোন একাকী হৃদয়ে
মায়াজাল বিস্তার যেন করতে চায়

হারায় এই মন যে আমার সে হারায়
এই রোদে আলোতে হারায়
সোনাঝরা বিকেলে হারায়

ব্যান্ড

বড় বাবু মাষ্টার

ট্রেন আসে চলে যায় ট্রেন
কোলাহল থেমে গেলে
তিনি বসে ভাবেন
ভেঙ্গে পড়া শরীরে শীর্ণ আঙ্গুলে
গুনে গুনে বয়সের হিসেব রাখেন

জীবনের শেষ ট্রেন তাকে নিয়ে যেতে
কত বাকি আর
মধুপুর স্টেশনের সবার প্রিয়
বড় বাবু মাষ্টার।।

স্টেশনের ঝোলানো ঘণ্টা থেকে
ঢং ঢং যখন বাজে
ইদানিং তিনি বড় চমকে উঠেন
জীবনের এই ক্লান্ত সাঁজে

জীবনের শেষ ট্রেন তাকে নিয়ে যেতে
কত বাকি আর
মধুপুর স্টেশনের সবার প্রিয়
বড় বাবু মাষ্টার, বড় বাবু মাষ্টার

কত নিশুতি রাতে শুন্য প্লাটফর্মে
নিঃসঙ্গ করে সৃতিচারণ
বহুদূরে জ্বলে থাকা সিগন্যাল বাতি
তার হৃদয়ে তোলে আলোড়ন

জীবনের শেষ ট্রেন তাকে নিয়ে যেতে
কত বাকি আর
মধুপুর স্টেশনের সবার প্রিয়
বড় বাবু মাষ্টার।।

ব্যান্ড

লোকজন কমে গেছে

বাপ মরা অসহায় একটি ছেলে,
ঘরকুনো স্বভাবের পড়ুয়া সে যে।
খোঁজ নেই এলাকার দুর্ঘটনায়,
থমথমে চারিদিক সন্ধাবেলায়।
দলাদলি- রেষারেষি ফলাফল খুন
এলাকায় এলোমেলো সবার জীবন।

লোকজন কমে গেছে রাস্তাঘাটে
ধরাধরি চলছে সমান তালে ।

স্বপ্নটা ভেঙ্গে গেলো সেই ছেলের,
নিরপরাধ হয়েও অপরাধী হয়েছে।
সবাই জানে ফিরে আসবে একদিন
টকটকে লাল চোখ জোড়া ক্ষোভ নিয়ে।
দলাদলি রেষারেষি আবার শুরু হবে,
আবারও শান্ত কোন ছেলে চলে যাবে জেলে।

লোকজন কমে গেছে রাস্তাঘাটে
ধরাধরি চলছে সমান তালে ।

প্রতীক্ষায় বসে আছে তার মা,
ছেলের ফেরার পথে তাকিয়ে থাকা।
হঠাৎ বুকেতে জাগে ভীষণ ব্যথা,
অশুভ চিন্তা মনে হৃদয় কাদায়।
ব্যাকুল মায়ের মন মানেনা বারণ
কোথায় হারিয়েছে তার আপনজন।

ব্যান্ড

ব্যস্ততা

ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর
তাই বলে ভেবো না আমায় স্বার্থপর
যেখানে যাই তুমি আছ মনের ভিতর

তোমার মনের কথা বুঝতে আমি
পারি নি হয়ত ভাবছো তুমি
ভালবাসার কথা বলি নি আজ
যেখানে যাই তুমি আছ মনের ভিতর

সুখের তুলি দিয়ে স্বপ্ন এঁকে
আমার চোখের নীলে দিয়েছি রেখে
আমার ভালবাসা নয়তো পাথর
যেখানে যাই তুমি আছ মনের ভিতর

ব্যান্ড

কিছু কথা কিছু গান

কিছু কথা কিছু গান আছে
তবুও আমার ব্যাথা আছে
ছিড়েছে তার তবু প্রাণ আছে
ছিন্ন বীণায় কি সুর বাজে।।

চোখেতে ঝলক ছিল
ছিল কত আশা
হৃদয়ে আমার ছিল ভালবাসা
আজও আছে শুধু সেই তুমি নেই
দেখেছি যেমন বিদায় সাজে।।

নিভৃতে পুড়েছে মন প্রণয় ঝড়ে
না বলা কথামালা গাথারও তরে
সুর কি কখনো বল রইবে থেমে
পৃথিবী হারিয়ে মোর তোমারও প্রেমে।।

ব্যান্ড

উদাসী

উদাসী এই মনে আমি যা ভেবেছি
এত আশা নিয়ে এই মনে
আমি কি পেয়েছি

জীবনের যা কথা কিছু নয় হতাশার
শুধু সুখ চাই আর ভালবাসা
আশা হোক দুরাশা

চাই কার মন পেতে
চাই কারো সুর হতে

ভাবনা নয় কোন যেতে চাই সুদূরে
তুমি আমি যাব হারিয়ে দুটি হাত বাড়িয়ে

জীবনের যা কথা কিছু নয় হতাশার
শুধু সুখ চাই আর ভালবাসা আশা হোক দুরাশা

ব্যান্ড

নীল বেদনা

রাত ঘুম নেই আমার চোখে
জেগে আছি এই চন্দ্রালোকে
নীল জোছনায় তুমি কোথায়

বুক ভরা শুধু দুখেরই ক্ষত
বাউলের একতারার মত
এই আমাকে শুধু কাঁদায়

নীল বেদনা ঘিরে রয়েছে আমায়
দূর অতিতের দুঃখ ডাকে আমায়

তুমি এ রাতে কোন সুদূরে
মন তাই মেতে অচেনা সুরে
চেনা আমাকে নিয়ে কাছে

তুমি যেন এক নদীর মত
বলছ আমায় ডেকে কত
আমি তোমাকে ভালবাসি

তবু কেন যে ধুসর এই পৃথিবী আমার
বোবা অশ্রুতে নোনা হয়ে যায় চেতনা

একাকী একজন এই আমি
স্বপ্নের যত ক্লান্তি আমার
আপন করে বুকে জড়ায়

ক্লান্ত রাজপথ ঘুমাল যখন
তুমিও আমার কবিতা তখন
ধীরে ধীরে জেগে ওঠো