দেশাত্মবোধক গান

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?।।
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?।।
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?।।

পল্লীগীতি

আল্লা মেঘ দে পানি দে

বেলা দ্বি প্রহর, ধু ধু বালূচর
ধূপেতে কলিজা ফাটে পিয়াসে কাতর….

আল্লাহ মেঘ দে পানি দে
ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে,
আসমান হইল টুটা টুটা জমিন হইল ফাটা
মেঘ রাজা ঘুমাইয়া রইছে মেঘ দিব তোর কেডা
আল্লাহ মেঘ দে আল্লাহ মেঘ দে
আল্লাহ মেঘ দে পানি দে পানি
ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে।।

ফাইটা ফাইটা রইছৈ যত খালা বিলা নদী
পানির লাইগা কাইন্দা ফিরে পঙ্খী জলদি
আল্লাহ মেঘ দে পানি দে পানি
ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে।।

কপোত কপোতি কাদে কূপেতে বসিয়া
শুকনা ফুরের কলি পড়ে ঝড়িয়া ঝড়িয়া
আল্লাহ মেঘ দে পানি দে পানি
ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে।।

জীবনমুখী গান

বিশ্বসংগীত

আমরা করব জয়
আমরা করব জয় একদিন
ও হো বুকের গভীরে আমরা জেনেছি
যে আমরা করব জয় একদিন।।

আমরা নই একা
আমরা নই একা আজকে
ও হো বুকের গভীরে আমরা জেনেছি
আমরা নই একা আজকে।।

আমাদের নেই কোন ভয়
আমাদের নেই কোন ভয় আজকে
ও হো বুকের গভীরে আমরা জেনেছি
আমাদের নেই কোন ভয় আজকে।।

দেশাত্মবোধক গান

ভাষার গান । আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রুগড়া এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

একুশে ফেব্রুয়ারির গান
কথা: আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সুর: শহীদ আলতাফ মাহমুদ
তাল: দাদরা

ছড়াগান

প্রিয় ফুল শাপলা ফুল

প্রিয় ফুল শাপলা ফুল
প্রিয় দেশ বাংলাদেশ।
প্রিয় ভাষা বাংলা ভাষা
মায়ের কথার মিষ্টি রেশ।।

প্রিয় পাখি দোয়েল পাখি
প্রিয় সবুজ লাল,
আরো প্রিয় জষ্ঠী মাসের
সুবাসী কাঁঠাল।
মাঠের রাখালিয়া বাঁশি
ভোলায় যত দুঃখ ক্লেশ।।

প্রিয় নদী পদ্মা নদী
প্রিয় ইলিশ মাছ,
সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল
আর সুন্দরী গাছ।
চির সবুজ আমার দেশের
রূপের যেন নেইকো শেষ।।

কথা: নজরুল ইসলাম বাবু
সুর: খোন্দকার নুরুল আলম

রবীন্দ্র সংগীত

আন্‌মনা , আন্‌মনা ,

আন্‌মনা , আন্‌মনা ,
তোমার কাছে আমার বাণীর মাল্যখানি আনব না ॥

বার্তা আমার ব্যর্থ হবে , সত্য আমার বুঝবে কবে ,
তোমারো মন জানব না , আন্‌মনা , আন্‌মনা ॥

লগ্ন যদি হয় অনুকূল মৌনমধুর সাঁঝে ,
নয়ন তোমার মগ্ন যখন ম্লান আলোর মাঝে ,
দেব তোমায় শান্ত সুরের সান্ত্বনা ॥

ছন্দে গাঁথা বাণী তখন পড়ব তোমার কানে
মন্দ মৃদুল তানে ,
ঝিল্লি যেমন শালের বনে নিদ্রানীরব রাতে
অন্ধকারের জপের মালায় একটানা সুর গাঁথে

একলা তোমার বিজন প্রাণের প্রাঙ্গণে
প্রান্তে বসে একমনে
এঁকে যাব আমার গানের আল্‌পনা ,
আন্‌মনা , আন্‌মনা ॥

রবীন্দ্র সংগীত

অলকে কুসুম না দিয়ো, শুধু শিথিল কবরী বাঁধিয়ো

অলকে কুসুম না দিয়ো, শুধু শিথিল কবরী বাঁধিয়ো।
কাজলবিহীন সজল নয়নে হৃদয়দুয়ারে ঘা দিয়ো ॥

আকুল আঁচলে পথিকচরণে মরনের ফাঁদ ফাঁদিয়ো–
না করিয়া বাদ মনে যাহা সাধ, নিদয়া, নীরবে সাধিয়ো ॥

এসো এসো বিনা ভূষণেই, দোষ নেই তাহে দোষ নেই।
যে আসে আসুক ওই তব রূপ অযতন-ছাঁদে ছাঁদিয়ো।
শুধু হাসিখানি আঁখিকোণে হানি উতলা হৃদয় ধাঁদিয়ো ॥

রবীন্দ্র সংগীত

না, না গো না, কোরো না ভাবনা

না, না গো না,
কোরো না ভাবনা –
যদি বা নিশি যায় যাব না যাব না ॥

যখনি চলে যাই আসিব ব’লে যাই,
আলোছায়ার পথে করি আনাগোনা ॥

দোলাতে দোলে মন মিলনে বিরহে।
বারে বারেই জানি তুমি তো চির হে।

ক্ষণিক আড়ালে বারেক দাঁড়ালে
মরি ভয়ে ভয়ে পাব কি পাব না ॥

রবীন্দ্র সংগীত

কিছু বলব বলে এসেছিলেম

কিছু বলব বলে এসেছিলেম,
রইনু চেয়ে না বলে॥

দেখিলাম, খোলা বাতায়নে মালা গাঁথ আপন-মনে,
গাও গুন্‌-গুন্‌ গুঞ্জরিয়া যূথীকুঁড়ি নিয়ে কোলে॥

সারা আকাশ তোমার দিকে
চেয়ে ছিল অনিমিখে।

মেঘ-ছেঁড়া আলো এসে পড়েছিল কালো কেশে,
বাদল-মেঘে মৃদুল হাওয়ায় অলক দোলে॥

রবীন্দ্র সংগীত

আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান

আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান–
তুমি জান নাই, তুমি জান নাই,
তুমি জান নাই তার মূল্যের পরিমাণ ॥

রজনীগন্ধা অগোচরে
যেমন রজনী স্বপনে ভরে সৌরভে,
তুমি জান নাই, তুমি জান নাই,
তুমি জান নাই, মরমে আমার ঢেলেছ তোমার গান ॥

বিদায় নেবার সময় এবার হল–
প্রসন্ন মুখ তোলো, মুখ তোলো, মুখ তোলো–
মধুর মরণে পূর্ণ করিয়া সঁপিয়া যাব প্রাণ চরণে।
যারে জান নাই, যারে জান নাই, যারে জান নাই,
তার গোপন ব্যথার নীরব রাত্রি হোক আজি অবসান ॥

রবীন্দ্র সংগীত

হে মাধবী, দ্বিধা কেন?

হে মাধবী, দ্বিধা কেন,
আসিবে কি ফিরিবে কি–
আঙিনাতে বাহিরিতে মন কেন গেল ঠেকি॥

বাতাসে লুকায়ে থেকে
কে যে তোরে গেছে ডেকে,
পাতায় পাতায় তোরে পত্র সে যে গেছে লেখি॥

কখন্‌ দখিন হতে কে দিল দুয়ার ঠেলি,
চমকি উঠিল জাগি চামেলি নয়ন মেলি।

বকুল পেয়েছে ছাড়া,
করবী দিয়েছে সাড়া,
শিরীষ শিহরি উঠে দূর হতে কারে দেখি॥

রবীন্দ্র সংগীত

তুমি খুশি থাক আমার পানে চেয়ে চেয়ে

তুমি খুশি থাক আমার পানে চেয়ে চেয়ে
তোমার আঙিনাতে বেড়াই যখন গেয়ে গেয়ে॥

তোমার পরশ আমার মাঝে সুরে সুরে বুকে বাজে,
সেই আনন্দ নাচায় ছন্দ বিশ্বভুবন ছেয়ে ছেয়ে॥

ফিরে ফিরে চিত্তবীণায় দাও যে নাড়া,
গুঞ্জরিয়া গুঞ্জরিয়া দেয় সে সাড়া।

তোমার আঁধার তোমার আলো দুই আমারে লাগল ভালো–
আমার হাসি বেড়ায় ভাসি তোমার হাসি বেয়ে বেয়ে॥

রবীন্দ্র সংগীত

বসে আছি হে কবে শুনিব তোমার বাণী

বসে আছি হে কবে শুনিব তোমার বাণী।
কবে বাহির হইব জগতে মম জীবন ধন্য মানি॥

কবে প্রাণ জাগিবে, তব প্রেম গাহিবে,
দ্বারে দ্বারে ফিরি সবার হৃদয় চাহিবে,
নরনারীমন করিয়া হরণ চরণে দিবে আনি॥

কেহ শুনে না গান, জাগে না প্রাণ,
বিফলে গীত-অবসান–
তোমার বচন করিব রচন সাধ্য নাহি নাহি।

তুমি না কহিলে কেমনে কব প্রবল অজেয় বাণী তব,
তুমি যা বলিবে তাই বলিব, আমি কিছুই না জানি।
তব নামে আমি সবারে ডাকিব, হৃদয়ে লইব টানি॥

রবীন্দ্র সংগীত

গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে

গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে
রুদ্ধবাণীর অন্ধকারে কাঁদন জেগে উঠে॥

বিশ্বকবির চিত্তমাঝে ভুবনবীণা যেথায় বাজে
জীবন তোমার সুরের ধারায় পড়ুক সেথায় লুটে॥

ছন্দ তোমার ভেঙে গিয়ে দ্বন্দ্ব বাধায় প্রাণে,
অন্তরে আর বাহিরে তাই তান মেলে না তানে।

সুরহারা প্রাণ বিষম বাধা– সেই তো আঁধি, সেই তো ধাঁধা–
গান-ভোলা তুই গান ফিরে নে, যাক সে আপদ ছুটে॥

রবীন্দ্র সংগীত

জীবন যখন ছিল ফুলের মতো

জীবন যখন ছিল ফুলের মতো
পাপড়ি তাহার ছিল শত শত॥

বসন্তে সে হ’ত যখন দাতা
ঝরিয়ে দিত দু-চারটি তার পাতা,
তবু যে তার বাকি রইত কত॥

আজ বুঝি তার ফল ধরেছে , তাই
হাতে তাহার অধিক কিছু নাই।

হেমন্তে তার সময় হল এবে
পূর্ণ করে আপনাকে সে দেবে,
রসের ভারে তাই সে অবনত॥