Uncategorized

কার লাগি সজল আঁখি, ওগো সুহাসিনী?

কার লাগি সজল আঁখি, ওগো সুহাসিনী?
হৃদয়ে তব কি ব্যথা নব, ওগো হৃদয়-বিলাসিনী?

প্রভাত-ফুলে তারি হাসি, দেখিয়া কি মন উদাসী?
দেখাল কি তার আঁখি নিঠুর নিশীথিনী?

অঙ্গনে বিহঙ্গগীতি তারই কি আহ্বানস্মৃতি
কারে যাচি’ মৌন আজি, ওগো সুহাসিনী?

Uncategorized

আমি তোমার ধরব না হাত

আমি তোমার ধরব না হাত,
নাথ, তুমি আমায় ধরো।
যারা আমায় টানে পিছে
তারা আমা হতেও বড়ো।
শক্ত ক’রে ধরে হে নাথ,
শক্ত ক’রে আমায় ধরো।

যদি কভু পালিয়ে আসি
তারা কেমন ক’রে বাজায় বাঁশি!
বাজাও তোমার মোহন বীণা
আরো মনোহর ।
তাদের চেয়েও মধুর সুরে
বাজাও মনোহর ।

বেহাগ

দেশাত্মবোধক গান

উঠ গো ভারত-লক্ষ্মী, উঠ আদি-জগত-জন-পূজ্যা

উঠ গো ভারত-লক্ষ্মী, উঠ আদি-জগত-জন-পূজ্যা,
দুঃখ দৈন্য সব নাশি করো দূরিত ভারত-লজ্জা।
ছাড়ো গো ছাড়ো শোকশয্যা, কর সজ্জা
পুনঃ কনক-কমল-ধন-ধান্যে!

জননী গো, লহো তুলে বক্ষে,
সান্ত্বন-বাস দেহো তুলে চক্ষে;
কাঁদিছে তব চরণতলে
ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।[১]

কাণ্ডারী নাহিক কমলা, দুখলাঞ্ছিত ভারতবর্ষে;
শঙ্কিত মোরা সব যাত্রী কালসাগর-কম্পন-দর্শে।
তোমার অভয়-পদ-স্পর্শে, নব হর্ষে,
পুনঃ চলিবে তরণী শুভ লক্ষ্যে।

জননী গো, লহো তুলে বক্ষে,
সান্ত্বন-বাস দেহো তুলে চক্ষে;
কাঁদিছে তব চরণতলে
ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।[১]

ভারত-শ্মশান করো পূর্ণ পুনঃ কোকিল-কূজিত কুঞ্জে,
দ্বেষ-হিংসা করি চূর্ণ, করো পূরিত প্রেম-অলি-গুঞ্জে,
দূরিত করো পাপ-পুঞ্জে তপঃ-তুঞ্জে,
পুনঃ বিমল করো ভারত পুণ্যে।

জননী গো, লহো তুলে বক্ষে,
সান্ত্বন-বাস দেহো তুলে চক্ষে;
কাঁদিছে তব চরণতলে
ত্রিংশতি কোটি নরনারী গো।

ভক্তিমূলক গান

পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গে, মা (দ্বিজেন্দ্রগীতি)

পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গে, মা
শ্যামবিটপীঘন-তট-বিপ্লাবিনী ধূসর তরঙ্গ ভঙ্গে।।

কত নগ-নগরী তীর্থ হইল তব চুম্বী চরণ যুগমায়ী,
কত নর-নারী ধন্য হইল মা তব সলিলে অবগাহি,
বহিছ জননী এ ভারতবর্ষে কত শত যুগ যুগ বাহি,
করি সুশ্যামল কত মরু-প্রান্তর শীতল পুণ্য তরঙ্গে।।

নারদ কীর্তন পুলকিত মাধব বিগলিত করুণা করিয়া,
ব্রহ্ম কমণ্ডলু উচ্ছলি ধূর্জটি জটিল জটাপর ঝরিয়া,
অম্বর হইতে সোমশত ধারা জ্যোতিঃ প্রপাত তিমিরে,
নাহি ধরায় হিমাচল মূলে মিশিলে সাগর সঙ্গে।।

পরিহরি ভব সুখ-দুঃখ যখন মা, শায়িত অন্তিম শয়নে,
বরিষ শ্রবণে তব জল কলরব, বরিষ সুপ্তি মম নয়নে,
বরিষ শান্তি মম শঙ্কিত প্রাণে, বরিষ অমৃত মম অঙ্গে,
মা ভাগীরথী জাহ্নবী সুরধুনী কল কল্লোলিনী গঙ্গে।।

নজরুল গীতি

সখি বলো বঁধুয়ারে নিরজনে

সখি বলো বঁধুয়ারে নিরজনে
দেখা হলে রাতে ফুলবনে।

কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালি
কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
জেনেছে ফুলমালি গোপনে।

কাঁটারি আড়ালে গোলাপেরি বাগে
ফুটায়েছে কুসুম কপট সোহাগে
সে কুসুম ঘেরা মেহেদির বেড়া
প্রহরী ভোমোরা সে কাননে।

পথেতে চোরকাঁটা সখি তায় বলে দিও
বেঁধেনা বেঁধেনা লো যেন তার উত্তরীয়।
এ বনফুল লাগি না আসে কাঁটা দলি
আপনি যাব আমি বঁধুয়ার কুঞ্জ গলি
বিকাব বিনিমূলে ও চরণে।।

Uncategorized

বঁধুয়া নিদ নাহি আঁখিপাতে

বঁধুয়া নিদ নাহি আঁখিপাতে।
আমিও একাকী, তুমিও একাকী আজি এ বাদল রাতে।।

ডাকিছে দাদুরী মিলনতিয়াসে ঝিল্লি ডাকিছে উল্লাসে।
পল্লীর বধু বিরহী বঁধুরে মধুর মিলনে সম্ভাষে।
আমারো যে সাধ বরষার রাত কাটাই নাথের সাথে।।

গগনে বাদল, নয়নে বাদল জীবনে বাদল ছাইয়া;
এসো হে আমার বাদলের বঁধু, চাতকিনী আছে চাহিয়া।

কাঁদিছে রজনী তোমার লাগিয়া, সজনী তোমার জাগিয়া।
কোন্ অভিমানে হে নিঠুর নাথ, এখনও আমারে ত্যাগিয়া?
এ জীব- ভার হয়েছে অবহ, সঁপিব তোমার হাতে।।

(তাল: একতাল)

Uncategorized

বঁধু এমন বাদলে তুমি কোথা?

বঁধু এমন বাদলে তুমি কোথা?
আজি পড়িছে মনে মম কত কথা।

গিয়াছে রবি শশী গগন ছাড়ি,
বরষে বরষা বিরহ-বারি;
আজিকে মন চায় জানাতে তোমায়
হৃদয়ে হৃদয়ে শত ব্যথা।

দমকে দামিনী বিকট হাসে;
গরজে ঘন ঘন, মরি যে ত্রাসে।
এমন দিনে হায়, ভয় নিবারি,
কাহার বাহু ‘পরে রাখি মাথা।।

(তাল: তেওড়া)

আধুনিক

বাজে ঐ আগমনী গান

বাজে ঐ আগমনী গান
ঝরে শেফালি দোলে কাশের গুচ্ছ
মধুর বায়ে হল উতলা পরাণ।।

শুভ্র মেঘের ভেলা সুনীল আকশে
(পা নি রে রে রে রে রে/ নি রে নি পা সা নি/ গা পা রে রে/ রে রে রে
নি রে পা/ রে পা নি/ পা নি রে/ নি রে পা গা/ সা নি পা রে সা/ রে সা /রে সা)
ধানের মঞ্জরী দোলে বাতাসে
পুলকে জেগে ওঠে আনন্দ তান।।

শারদ অঞ্জলি বাঁশির সুরে
আনে আশার বাণী হৃদয় জুড়ে

শিশির ভেজা ঘাসে ঝরা মালতী
(পা নি সা রে গা পা গা পা গা রে সা নি পা/ রে রে রে
নি রে গা রে গা রে সা নি পা পা গা নি নি/ গা পা গা রে সা নি রে রে রে
পা গা রে সা/ পা গা পা/ রে সা নি পা
সা নি সা/ পা গা রে সা/ সা পা নি রে সা)

আসিবে ঘরে চিরচেনা অতিথি
বনে মর্মরে শুনি তারি আহ্বান।।

লালন

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?

কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ কি দিয়ে জুড়াই বলো সখি?
কে বুঝবে অন্তরের ব্যথা কে মোছাবে আঁখি?

যে দেশেতে আছে আমার বন্ধু চাঁদ কালা,
সে দেশেতে যাব নিয়ে ফুলের মালা।
নগর গাঁয়ে ঘুরবো আমি যোগিনী বেশ ধরি।

তোমরা যদি দেখে থাকো খবর দিও তারে,
নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব যমুনারই নীরে,
কালা আমায় করে গেল অসহায় একাকী।

কালাচাঁদকে হারাইয়ে হইলাম যোগিনী,
কত দিবা নিশি গেল কেমনে জুড়াই প্রাণী?
লালন বলে, যুগল চরণ আমার ভাগ্যে হবে কি?

আধুনিক

এক একে এক, দুই একে দুই

এক একে এক, দুই একে দুই-
নামতা পড়ে ছেলেরা সব পাঠশালার ওই ঘরে,
নন্দী বাড়ির আটচালাতে কুমোর ঠাকুর গড়ে
মন বসে কি আর!
আহা হা! চণ্ডী তলায় বাদ্যি বাজে ঢাক গুরু গুর
জা গি না, তাক্‌ তা ধিনা, তাক্‌ তা ধিনা, তাক্‌ কুরু কুর
কুরুর কুরুর তাক্‌ !

দু একে দুই, দুই দুগুণে চার
তিন দুগুণে ছয়, চার দুগুণে আট
ভাল্লাগেনা পুজোর সময় পাঠশালার এই পাঠ,
গুরুমশাই বসে আছেন চশমাটি আঁট-সাঁট।
কে জানে, এতক্ষুণে হয়ত মায়ের মুখ হল রঙ করা!
আনমনা ওই ছেলেরা সব, থাক্‌ না এবার পড়া!
মন বসে না আর!
আহা হা! চণ্ডী তলায় ঢাকের আওয়াজ মিষ্টি মধুর!
জা গি না, তাক্‌ তা ধিনা, তাক্‌ তা ধিনা, তাক্‌ কুরু কুর
কুরুর কুরুর তাক্‌ !

তিন একে তিন, তিন দুগুণে ছয়
চার দুগুণে আট, পাঁচ দুগুণে দশ
ভুল হয়ে যায়, কঠিন পড়ায়, মন মানে না বশ,
পড়ার কথা ভাবলে চোখে জল পড়ে টস টস!
কে জানে, এবার বোধয় সিংহ-রাজের কেশর দিল জুড়ে!
অসুর বোধয় বেরিয়ে গেছে মোষের পেটটি ফুঁড়ে!
মন মানে না আর!
আহা হা! কতক্ষণে যাবে এসব দেখবে ঠাকুর!
জা গি না, তাক্‌ তা ধিনা, তাক্‌ তা ধিনা, তাক্‌ কুরু কুর
কুরুর কুরুর তাক্‌ !

বিবিধ

গৌরী এল, দেখে যা লো

বলদে চড়িয়া শিবে শিঙ্গায় দিলা হাঁক
আর শিঙ্গা শুনি মর্ত্যেতে বাজিয়া উঠল ঢাক
শিবের সনে কার্তিক গণেশ লক্ষ্মী সরস্বতী
আশ্বিন মাসে বাপের বাড়ি আসেন ভগবতী

গৌরী এল, দেখে যা লো…
ভবের ভবানী আমার ভবন করিল আলো।

দেখি সিংহের উপর উইঠ্যা ছুঁড়ি
আরে! সিংহের উপর উইঠ্যা ছুঁড়ি
অসুরের পিঠটি ধরি
গলায় দিছে খাপ ছড়াইয়া, বুকে দিছে খোঁচা।।
কী দুগ্‌গী দেখলাম চাচা! কী দুগ্‌গী দেখলাম চাচী!

ওই যে এক থোম্বা বদন
দাঁত দুইডা তার মূলার মতন
কান দুইডা তার কুলার মতন
মাথা লেপা-পোঁছা
কী ঠাকুর দেখলাম চাচা! কী দুগ্‌গী দেখলাম চাচী!

আছে ডাইনে বাঁয়ে দুইডা ছেমড়ি
পইরা আছে ঢাহাই শাড়ি
ঘুরতে দেখছি বাড়ি বাড়ি
ফশম (ফ্যাশন) দেখায় ভারি!
আবার ময়ুরের ‘পরে বইছেন যিনি
এনার বড় চিকচিকানি
ধুতি করছেন কোঁচা
কী ঠাকুর দেখলাম চাচা!
কী দুগ্‌গী দেখলাম চাচী! কী দুগ্‌গী দেখলাম চাচা!

সপ্তমীতে মা জননী মণ্ডপে মণ্ডপে
অষ্টমীতে মা জননী ফুলে-ফলে-ধূপে
নবমীতে মা জননী নিশি পোহাইলা
দশমীতে পাগলা ভোলা নাচিতে লাগিলা
শিবে দুর্গারে লইয়া যাবে কৈলাস ভবন
বিসর্জনের বাজনা বাজে বিজয়া গমন।
জয় জয় বিজয়া গমন।

হে, আইল আমার ভোলানাথ রে
আইল আমার কাশীনাথ, আইল আমার তিন্নাথ
আইল আমার ভোলানাথ রে

ভোলানাথের শিঙ্গায় বলে
বব বম্‌, বব বম্‌, দিদি দিম্‌, দিদি দিম্‌, দিম্‌
বব বম্‌, বব বম্‌, দিদি দিম্‌, দিদি দিম্‌, দিম্‌।।

বিবিধ

আমারে fraud করে কালিয়া dam তুই কোথায় গেলি

আমারে fraud করে
কালিয়া dam তুই কোথায় গেলি।
I am for you very sorry,
Golden body হল কালি।।

Ho my dear dearest, মধুপুরে তুই গেলি কেষ্ট,
O my how to rest,
Hear dear বনমালী।
(শুনো রে শ্যাম তোরে বলি)

Poor কিরিচার (creature) Milk-গেরেল (girl)
তাদের breast-এ মারিলি শেল,
Nonsense তোর নাইকো আক্কেল,
Breach of contract করলি।
(female গণে fail করলি)

লম্পট শঠের fortune খুলল,
মথুরাতে king হল, uncle-এর প্রাণ নাশিল,
কুবুজার কুঁজ, পেলে ডালি।
(নিলে দাসীরে মহিষী বলি)

শ্রীনন্দের boy young lad, কুরুকেড (crooked) mind hard,
কহে RCD Bird-এ
পেলাকার্ড (placard) কৃষ্ণকলি।।
(Half English half বাঙালি)।।

আধুনিক

কেউ বলে ফাল্গুন, কেউ বলে পলাশের মাস

কেউ বলে ফাল্গুন, কেউ বলে পলাশের মাস, আমি বলি আমার সর্বনাশ
কেউ বলে দখিনা কেউ বলে মাতাল বাতাস আমি বলি আমার দীর্ঘশ্বাস।

কেউ বলে নদী কেউ তটিনী, কেউবা নাম দিয়েছে নাম তরঙ্গিনী
আমিতো তাকে কোনো নামে ডাকিনি – সে যে আমার চোখেই জলোচ্ছাস।।

জোনাকীর নাম নাকি আঁধার মাণিক, আমি তো দেখি আগুন জ্বলে ধিকি ধিক্‌
খর বৈশাখে প্রথম যেদিন মেঘের মিছিলে ঐ আকাশ রঙিন
তৃষিত হৃদয়ে বাজে আনন্দ বীণ্‌ আমি শুনি ঝড়ের পূর্বাভাস।।

আধুনিক

মন বলছে আজ সন্ধ্যায় কিছু বলতে তুমি আসবে কি

হু…
মন বলছে আজ সন্ধ্যায় কিছু বলতে তুমি আসবে কি!
আসবে কি…
আমি শুনবো কিছু বলবো, কিছু স্বপ্ন চোখে ভাসবে কি!

বনে স্বর্ণচাপা ফুটবে দু’টি একটি তারা উঠবে
ওরা হয়তো সেই লগ্নে চেয়ে দেখবে মৃদু হাসবে কি!

ঐ ক্লান্ত নীড়ে পান্থ পাখী ফিরবে গান থামবে
কাছে আমরা বসে থাকবো ছায়া ঘিরবে রাত নামবে

আরও শুনতে তুমি চাইবে, আরও বলতে গান গাইবে
আধো লজ্জায় হাসি তুলবে, দেখে তাই যে ভালবাসবে কি!

ছায়াছবি

ও বক্ বক্ বকম্ বকম্ পায়রা

ও বক্ বক্ বকম্ বকম্ পায়রা তোদের রকম সকম দেখে
মুখ টিপে যে হাসছে ভোরের আকাশটা দূর থেকে।।

খোলা হাওয়ার ওই যে আলোর ঝরণা ঝরানো
রঙ বেরঙের নতুন খুশীর মাতন ছড়ানো
শুনিস্‌ নাকি মিষ্টি সুরে বলছে ওরা ডেকে
পাখনা মেলে আয়না চলে বাঁধন ফেলে রেখে।।

লোটন লোটন পায়রা তোরা ঝোঁটন বেঁধে নে
নে হারিয়ে যাওয়া সুরে প্রাণের বাঁশী সেধে নে।

একটু আরাম একটু সুখের মিথ্যে আশাতে
যেচে কেন বন্দী থাকিস ছোট্ট বাসাতে
যা চলে যা অবাধ ডানায় স্বপ্ন চোখে এঁকে
অথৈ নীলে নতুন দিনের সোনালী রোদ মেখে।।