ছায়াছবি

এই জীবন আমি তো আর চাই না

এই জীবন আমি তো আর চাই না
এই জ্বালা প্রাণে সহে না
মরণ সাজা দাও আমাকে
কলংক আর ভাল লাগে না।।

খাঁচার মাঝে বন্দি হয়ে থাকতে হবে জানি
শুনবে না কেউ অভাগিনীর দুঃখের কাহিনী
বলবে না কেউ আর কেঁদো না
বুঝবে না কেউ এই বেদনা
কোন দেষেতে পেলাম আমি এতই বঞ্চনা।।

সবার মাঝে নাচতে হবে গাইতে হবে গান
বিনিময়ে পাব জানি শুধুই অপমান
আমায় নিয়ে সারাবেলা নিয়তির এই নিঠুর খেলা
এই জীবনে কভু কী আর শেষ হবে না।।

পল্লীগীতি

আমার হাড় কালা করলাম রে

আমার হাড় কালা করলাম রে
আমার দেহ কালার লাইগা রে
আরে আমার অন্তর কালা করলাম রে
দুরন্ত পরবাসে

মন রে, ওরে হাইলা লোকের লাঙ্গল বাঁকা
জনম বাঁকা চাঁদরে জনম বাঁকা চাঁদ।

হায়রে, তার চাইতে অধিক বাঁকা
আমি যারে দিসি প্রাণরে, দুরন্ত পরবাসে।।

(ওরে) মন রে, আরে কূল বাঁকা গাঙ বাঁকা
বাঁকা গাঙের পানি রে, বাঁকা গাঙের পানি
আরে, সকল বাঁকায় বাইলাম নৌকা
তবু বাঁকা রে না জানি রে, দুরন্ত পরবাসে।।

(ওরে) মন রে, ওরে হাড় হইল জড় জড়
অন্তর হইল গুড়া রে, আমার অন্তর হইল গুড়া
পিড়িতি ভাঙ্গিয়া গেলে, নাহি লাগে জোড়া রে
দুরন্ত পরবাসে।।

ছায়াছবি

খোদার ঘরে নালিশ করতে দিল না আমারে

খোদার ঘরে নালিশ করতে দিল না আমারে।
পাপ পূণ্যের বিচার এখন মানুষে করে।।

আমার দুঃখের কথা শোনার মত কোন মানুষ নাই
আমি কার কাছে জানাই
আমার চক্ষের পানি মুছার মত আপন কেহ নাই
আমি কোথায় পাবো ঠাই

আজ শোনরে মানুষ শোন
এই দুঃখেরই আগুন
(ও) আর কতকাল জ্বালিয়ে রাখবি আমার অন্তরে
পাপ পূণ্যের বিচার এখন মানুষই করে।।

আধুনিক

কেঁদে কেঁদে কি হবে

কেঁদে কেঁদে কি হবে
আরেকটা হবে না তো যমুনা

না হবে পদ্মা না হবে মেঘনা
না হবে তাজমহলের নমুনা।।

কেঁদেই যদি দুঃখ যেতো
তবে অশ্রুধারায় শত নদী সাগর গড়ে উঠতো।

তাই মিছে এই কান্নার অশ্রুটুকু
তুমি মুছে ফেল না
না হবে পদ্মা না হবে মেঘনা
না হবে তাজমহলের নমুনা।।

সুখ যদি চিরসাথী হতো
তবে দুঃখ কী আর স্মৃতি
গভীর চোখের জলে ভাসতো।

তাই হৃদয়টা পোড়া অগ্নি জ্বালা
তুমি *** রেখো না
না হবে পদ্মা না হবে মেঘনা
না হবে তাজমহলের নমুনা।।

আধুনিক

বাবা

আমার বাবার কথা বড়ই মনে পড়ে
ছবির দিকে তাকিয়ে এখন দুচোখ জলে ভরে।।

আদর করে দুহাত ধরে মেলায় আমায় নিত
এক পয়সার পাতার বাঁশি বাবা কিনে দিত
কিনত নাটাই কিনত ঘুড়ি
বোনের জন্য আলতা চুড়ি
মায়ের জন্য ডুরে শাড়ি-কিনে ফিরতো ঘরে।।

মাঝে মাঝে বকতো বাবা পড়া ফাকি দিলে
ধারাপাতের নামতাগুলো খেতে হতো গিলে
সাংগ হত দিনের খেলা, উঠত তারা সন্ধা বেলা
বাবা এদের নাম শেখাতো-কতই যতন করে।।

এখন আমি নিজেই বাবা পাক ধরেছে চুলে
পেছন দিকে তাকিয়ে ভাবি স্মৃতির দোয়ার খোলে
আজও আমায় বাবাই ডাকে প্রতি কাজে জড়িয়ে থাকে
ওপাড় হতে বলছে যেন ভাল থাকিস ওরে।।

ছায়াছবি

আমি রূপনগরের রাজকন্যা

আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি
ইরান তুরান পার হয়ে আজ তোমার দেশে এসেছি।

নয়নের বান দিয়ে গো, যৌবনের দোল দিয়ে গো
নুপুরেরও তালে তালে তোমায় আমি বেঁধেছি
জানি গো জানি আমি তোমারে যে বেঁধেছি।।

সবার চোখে রং লাগিয়ে, সবার মনে ঢেউ জাগিয়ে
নতুন দেশের পথে আমি আজকে আবার চলেছি
জানি গো জানি সবার মনকে নিয়ে চলেছি।।

আধুনিক

কিসের এত গরব করিস ভাই

কিসের এত গরব করিস ভাই
এটাই আমার সেটাই আমার
চোখ বিঝলেই অন্ধকার
এই আছি এই নাই।।

তালুল মুলুক কিনেরে তুই করিস জমিদারী
দেশ বিদেশে তৈরী করিস কত না ঘর বাড়ি

সাড়ে তিন হাত জমি ছাড়া
শেষ দিনে তোর আর কী চাই
এই আছি এই নাই।।

জ্ঞান শক্তি রূপের বড়াই যে দেহটা ঘিরে
ঘাড় মাংস রক্ত ছাড়া ওতে আছে কিরে
কবর দিলে হয়রে মাটি পুড়লে চিতায় হয় যে ছাই
এই আছি এই নাই।।

তাই তো বলি থাকতে সময় ডাকরে ও মনটারে
যেই বিনা তোর ভিতর বাহির কেউ তো জানে নারে
জীবনটা যে ধন্য হবে যদি রে তাঁর দয়া পাই
এই আছি এই নাই।।

দেশাত্মবোধক গান

ও রূপসা নদীর মাঝিরে

ও রূপসা নদীর মাঝিরে

ও মেঘনা নদীর মাঝিরে
ও পদ্মা নদীর মাঝিরে
দোহাই তোমার ধীরে নৌকা বাউ
ময়নামতি গ্রামটি আমায় একটু দেখতে দাও।।

ঐ তো পুরোন পাঠশালা
ঐ তো শিমুলতলার মাঠে
একদল যে করছে চড়ইভাতি
সেই ভীড় শনিবারের হাঠে

ঐ মোড়লবাড়ির বাড়-দুয়ারে
যাত্রা হতো ফি বছরে।
রাতটা জেগে দেখেছি তায়
ময়নামতি গ্রামটি আমায় একটু দেখতে দাও।।

সেই যে পুতুল খেলার ফাঁকে
একদিন হয়েও গেল বিয়ে
কেউ তো ছিল না তিন কূলে
কে আসে বাপের বাড়ি নিয়ে

এই আশা যাওয়ার পথের ধারে
গ্রামটি যখন চোখে পড়ে।
সেই স্মৃতিতে মন যে হয় উধাও।।

দেশাত্মবোধক গান

ঠিক যেখানে চলতে গেলে

ঠিক যেখানে চলতে গেলে ঘাসে ডুবে পা
শিরীষ বটের শাখায় শাখায় পাখির জটলা
বৃষ্টি রোদে ধোয়া আকাশ মাটির সবুজ গা

আহা সেইটি আমার গা, আহা সেইটি আমার গাঁ।

সূর্যি ও চাঁদ প্রথম আলোয় দেখে যে তার মুখ
সেই খুশি হয় শ্রাবণে জুঁই ফাগুনে কিংসুক।

হিমছড়ি ঐ নদী শান্ত নিরবধি।
তার বুকেতে ভেসে চলে ছইহাতা ঐ না।।

আহা সেইটি আমার গা, আহা সেইটি আমার গাঁ।

আহা রূপশালী ঐ ধান আরে মিঠে পাতার পান।
উদাস বাউল গান
আর সহজ সরল মানুষেরাই আমার গাঁয়ের প্রাণ
আমার গাঁয়ের প্রাণ

শহর জীবন থাক পিছে থাক এসো কিছুক্ষণ
পল্লী মায়ের কুটির ঘরে রইলো নিমন্ত্রণ

দেবো প্রীতি সুধা মিটবে মনের ক্ষুধা।
ক্লান্তি তোমার শান্তি সুখের পাবে ঠিকানা

আহা সেইটি আমার গা, আহা সেইটি আমার গাঁ।

ছায়াছবি

সখী কারে ডাকে ঐ বাঁশি নাম ধরিয়া

সখী কারে ডাকে ঐ বাঁশি নাম ধরিয়া
তুই দে না বলিয়া।

আমি হৃদয়ও আসনে তারে
বসাবো যতন করে
খোঁপাতে রাখিবো গাঁথিয়া
তারে দে না আনিয়া।।

কহিতে শরম লাগে
আধারে কাঁপন জাগে।

মরেছি আমি সখী মরার আগে
আমি দেখিবো নয়ন ভরে
কাজল করিয়া তারে
নয়নে রাখিবো আঁকিয়া
তারে দে না আনিয়া।।

বলে যা বলুক লোকে
পরাণ সপিবো তাকে।

পীড়িতি আগুন সখী পোড়াবো তাকে
আমি সারাটি জনম ধরে
আপন করিয়া তারে
আঁচলে রাখিবো বাধিয়ে
তারে দে না আনিয়া।।

ছায়াছবি

সবাই আমায় প্রেমিক বলে

সবাই আমায় প্রেমিক বলে
আমি নাকি রসিয়া প্রেমে পাগল হয়েছি।

ওরা যদি প্রশ্ন করে কার প্রেমে জড়িয়ে গেলাম তবে আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব

তোমাকে তো না করেছি
এ খোপাতে ফুলের তোড়া দিও না গো।

ওরা যদি প্রশ্ন করে ফুলের তোড়া কোনখানে পেলাম
তবে আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব

পথে ঘাটে ঘুরে বেড়াই থাকি এলোমেলো
লোকে বলে ছেলেটা কি কবি হয়ে গেলো।

ওরা যদি প্রশ্ন করে আমি কেন কবি হলাম
তবে আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব

তোমাকে তো না করেছি
এ খোপাতে ফুলের তোড়া দিও না গো।

ওরা যদি প্রশ্ন করে ফুলের তোড়া কোনখানে পেলাম
তবে আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব

পায়েতে নূপুরর জড়াই হাতে কাঁকন বালা
রাঙা হাতে ফুলের বনে কাঁধে ফুলের মালা।

ওরা যদি প্রশ্ন করে কেন চোখে কাজল দিলাম তবে আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব
আমি তোমার নাম নেব।।

আধুনিক

তুমিতো কতই ফুল দিয়েছ আমায়

তুমিতো কতই ফুল দিয়েছ আমায়
আমি কেন মালা দিতে পারি না তোমায়।

নয়ন যতই ভুলে তোমার রূপে
হৃদয় যতই পুড়ে প্রেমের ধুপে।
হারায় মুখের ভাষা জানি না কোথায়।।

বলায় যা ছিল তা বলা হয় না
প্রাণের দুয়ারখানি খোলা হয় না।
জীবন ভরে উঠে মধুর ব্যাথায়।।

ছড়াগান

বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে

বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে
আয় না যা না গান শুনিয়ে।
দূর দূর বনের গান।
নীল নীল নদীর গান।
দুধভাত দেব সন্দেশ মাখিয়ে।।

ঝিলমিল ঝিলমিল ঝর্ণা যেথায়
কুলকুল কুলকুল রোজ বয়ে যায়
ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী গল্প শোনায়
রাজার কুমার পক্ষীরাজ চড়ে যায়।

ভোরবেলা পাখনা মেলে দিয়ে তোরা-
এলি কি বল না সেই দেশ বেরিয়ে?।।

কোন গাছে কোথায় বাসা তোদের?
ছোট্ট কি বাচ্চা আছে তোদের?
দিবি কি আমায় দুটো তাদের?
আদর করে আমি পুষব তাদের
সোনার খাঁচায় রেখে ফল দেব খেতে
রাতে কৃষ্ণনাম দেব শুনিয়ে।।

ব্যান্ড

ট্রেন

ঝিক ঝিক ঝক্কর ট্রেনটা
চলছিল চলছিল রাত্রে
আলো ছিল, ছিল কি মনে নেই
চোখে ছিল ফ্রয়েডের চিত্র ।।

চুপচাপ ভাঙচুর গল্পে
ট্রেন যায় ট্রেন যায় শেষ নেই
রাত্রির কালো গায়ে দোলনায়
বসে ছিল মেয়েটা তিরিশের
আঠারোর মনে এলো প্রশ্ন
উত্তর দেয় নাই সৃষ্টি
তার চোখে কোন ভাষা ছিলনা
ট্রেনে এলো পার্থের পক্ষ
পার হল মেঘনার ব্রিজটা
তারপর তারপর নদীটায়
হয়ে গেল স্বপ্নের সত্য
রাত্রির কালো কালো সূর্যে

ট্রেন এর পাশাপাশি বহুকাল
তাঁরাদের আলো কেউ জ্বালেনি
শ্রাবণের রাত ছিল সেইদিন
বৃষ্টির কান্না ভাঙ্গা কাঁচ
জোনাকিরা একটানা জ্বলছেই
বেহালার শিল্পীত কারুকাজ
মুনালিসা বসে ছিল সামনেই
লিওনার্দো হবো ভাবিনি
পার হল মেঘনার ব্রিজটা
তারপর তারপর নদীটাই
হয়ে গেল স্বপ্নের সত্য
রাত্রির কালো কালো সূর্যে

ফ্রয়েডের গল্পে ভেসে গেল মেঘনা
ডুবে গেল মেঘনায় ট্রেনটা
ঝিকঝিক ঐ কালো রাত্রে
ইতিহাস জ্বেলেছিল নির্জন কক্ষ ।

আধুনিক

আমি একটু আমার সঙ্গে দেখা করতে চাই

আমি একটু আমার সঙ্গে
দেখা করতে চাই।।
কালো কালোয় মন্দ ভালোয়
একলা হতে চাই।।

প্রথম ভোরের ঘুম চোখেতেই
আমার আমিকে ডাকলাম
পাবো কী পাব না সারা আমি তার
ভাবলায় ডুবে থাকলাম

ঘুম ঘুম সেই ভোরে
আমাক অবাক করে।
শীষ দিয়ে উঠে যেই পাখিটা
জেগে উঠে আর সব্বাই।।

ধু ধু করা ঐ দুপুরে আমায়
কথা ছিল আমি বললাম
বললো সে কিছু মনে করো না
সময় তো নেই চললাম।

পৃথিবী ঘুমায় চাঁদ ডুবে যেই
আপন মনেতে হাসলাম
কতটুকু পেলাম এ জীবনে
হাজার প্রশ্নে ভাসলাম

নির্জন সেই রাতে
আমার অপেক্ষাতে।
উনমনা দেখি স্বপ্ন আমার
তাই ফিরে আসি একলা।।