ব্যান্ড

তুমিহীনা

তুমিহীনা দুপুরে নগরীর গতিময়তায়
অশান্ত এ দুচোখে যা দেখি অচেনা
সময় এসে চলে যায় ঘড়ির কাঁটার ব্যস্ততায়
তুমি আসবে বলে তাই পথ চেয়ে থাকি অস্থিরতায়(২)
বলো তুমি এমন কেন একবার দেখে যাও
যদি এসে চলে যাও আমি আছি যাবো না কোথাও
বলো তুমি এমন কেন একবার দেখে যাও
যদি এসে চলে যাও আমি আছি যাবো না কোথাও(২)

রোদজ্বালা এ দুপুরে অস্থির লাগে আমার এ মন
আবেগী মনে আজ মৌনতার আয়োজন
আলো ছায়ার মায়াতে মোহনীয় এই শূণ্যতা
তুমি আসবে বলে তাই হবে স্বপ্নের সবই পূর্ণতা
বলো তুমি এমন কেন একবার দেখে যাও
যদি এসে চলে যাও আমি আছি যাবো না কোথাও
বলো তুমি এমন কেন একবার দেখে যাও
যদি এসে চলে যাও আমি আছি যাবো না কোথাও

বিকেলের এ প্রহর কাটেনা অপেক্ষায়
এ সময় থেমেছে তোমারই এ শূণ্যতায়

তারাগুলো রাত জেগে তোমাকে পথ দেখাবে
আমার এই প্রার্থনা কিভাবে তুমি ফেরাবে
তুমি যদি না-ই আসো অপেক্ষা শেষ হবেনা
তুমি যদি না-ই আসো কখনো ভোর হবেনা
বলো তুমি এমন কেন একবার দেখে যাও
যদি এসে চলে যাও আমি আছি যাবো না কোথাও
বলো তুমি এমন কেন একবার দেখে যাও
যদি এসে চলে যাও আমি আছি যাবো না কোথাও

ছায়াছবি

সোনালী প্রান্তরে

সোনালী প্রান্তরে ভ্রোমরার গুঞ্জরে
দখিনা পবনেতে অন্ধ আবেগে
থাকে না মন ঘরে।।
বারে বারে যেন আসি ফিরে এমন দেশে
উষ্ণ বালির বুকে সূর্য যেথায় ওঠেন হেসে।
ভালোবাসা কত আশা, ছড়ানো এ বাতাসে
স্বপ্নমাখা মেঘের নকশা ঝড়ানো এ আকাশে।
স্বপ্ন জড়ানো মন চেয়ে থাকে অনুক্ষণ
এ কথা জানায় বারে বারে।।
(ও) আজ নতুন সাজে এলো যে বৈশাখী এরা
হাতেতে যেন থাকে ও সুজন তোমারই হাত।
উষ্ণ মরুর শুকনো বুকে থাকে বাতাস ছবি
দিবারাত্রি যেন কাব্য লিখে যায় কোন্‌ সে কবি।
স্বপ্ন জড়ানো মন চেয়ে থাকে অনুক্ষণ
এ কথা জানায় বারে বারে।।

আধুনিক

ফাইসা গেছি

আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি, মাইনকার চিপায়।

আমারও দিলের চোট বোঝে না কোনো হালায়।।

কোন্‌ পাগলে পাইছিল করছি শখের শাদী
ক্ষমতার যিমুন তিমুন, ভাবে শাহজাদী।

সকাল-বিকাল, রাইত-দুপুর বউয়ে দেয় ঠেলা
কয় ‘বউ পুষার মুরাদ নয়, তয় বিয়া করছস কেলা।

আমি ইধারকা মাল ওধার করি, সারাদিন পেজকি মারি
দিনের বেলায় আরতদারী, রাইতে চোরাকারবাড়ি।
দিন-দুনিয়া সবই গেল, জীবন ভেস্তে যায়।।

মাইয়া আমার চিজ একখান, যেমুন ফিল্মের নায়িকা
মাধুরী, ঐশ্বরিয়া, কাজলরে, কয় অফ যা।

পোলায় আমার শিক্ষিত, পড়ে দশ কেলাশের উপরে।
হাত খরচা না দিলে, ইংলিশে গাইল পাড়ে।

মনে মনে কই আমি, গাইলের আর হুনছস কি
আমগো গাইল হুনলে পড়ে, খাড়াইব মুরদাবি।

আমি হালায় কলুর বলদ ফাইটা জীবন যায়।।

ব্যান্ড

সব আলো নিভে যাক আঁধারে

সব আলো নিভে যাক আঁধারে
শুধু জেগে থাক ঐ দূরের তারা রা
সব শব্দ থেমে যাক নিস্তব্ধতায়
শুধু জেগে থাক এই সাগর আমার পাশে
আহা হা হা আহা হা।

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক সহজ অবাক দৃষ্টিতে
থমকে দাঁড়িয়েছে মহাকাল এখানে
আহা হা হা আহা হা।

শুভ্র বালির সৈকতে এলোমেলো বাতাসে গীটার হাতে
নিস্তব্ধতা চৌচির উম্মাদ ঝংকারে কাঁদি
অবাক সুখের কান্না যেন চুনি হীরা পান্না
সাগরের বুকে আল্পনা এঁকে দিয়ে যায়
অবাক ভালোবাসায়।

সব আলো নিভে যাক আঁধারে
শুধু জেগে থাক ঐ দূরের তারা রা
সব শব্দ থেমে যাক নিস্তব্ধতায়
শুধু জেগে থাক এই সাগর আমার পাশে
আহা হা হা আহা হা।

সব কষ্ট বয়ে যাক সুখের ঝড়
হৃদয় ভরে যাক সহজ মিল স্বপনে
হৃদয় গভীরে অবাক দৃষ্টিতে
থমকে দাঁড়িয়েছে মহাকাল এখানে
আহা হা হা আহা হা।

শুভ্র বালির সৈকতে এলোমেলো বাতাসে গীটার হাতে
নিস্তব্ধতা চৌচির উম্মাদ ঝংকারে কাঁদি
অবাক সুখের কান্না যেন চুনি হীরা পান্না
সাগরের বুকে আল্পনা এঁকে দিয়ে যায়
অবাক ভালোবাসায়।

ব্যান্ড

গাড়ি চলে না চলে না

গাড়ি চলে না চলে না,
চলে না রে, গাড়ি চলে না।
চড়িয়া মানব গাড়ি
যাইতেছিলাম বন্ধুর বাড়ি
মধ্য পথে ঠেকলো গাড়ি
উপায়-বুদ্ধি মেলে না।।

মহাজনে যতন করে
তেল দিয়াছে টাংকি ভরে
গাড়ি চালায় মন ড্রাইভারে
ভালো-মন্দ বোঝে না।।

ইঞ্জিনে ময়লা জমেছে
পার্টসগুলো ক্ষয় হয়েছে
ডাইনামো বিকল হয়েছে
হেডলাইট দুইটা জ্বলে না।।

ইঞ্জিনে ব্যতিক্রম করে
কন্ডিশন ভালো নয় রে
কখন জানি ব্রেক ফেল করে
ঘটায় কোন্‌ দুর্ঘটনা।।

আব্দল করিম ভাবছে এইবার
কোন্‌ দিন গাড়ি কি করবে আর
সামনে বিষম অন্ধকার
করতেছে তাই ভাবনা।।

ব্যান্ড

শুধু তোমার বাণী নয় গো

শুধু তোমার বাণী নয় গো, হে বন্ধু, হে প্রিয়,
মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো॥

সারা পথের ক্লান্তি আমার সারা দিনের তৃষা
কেমন করে মেটাব যে খুঁজে না পাই দিশা—
এ আঁধার যে পূর্ণ তোমায় সেই কথা বলিয়ো॥

হৃদয় আমার চায় যে দিতে, কেবল নিতে নয়,
বয়ে বয়ে বেড়ায় সে তার যা-কিছু সঞ্চয়।
হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো, দাও গো আমার হাতে—
ধরব তারে, ভরব তারে, রাখব তারে সাথে,
একলা পথের চলা আমার করব রমণীয়॥

ব্যান্ড

তুমি কি কেবলই ছবি

তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা।
ওই-যে সুদূর নীহারিকা
যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়,
ওই যারা দিনরাত্রি
আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী গ্রহ তারা রবি,
তুমি কি তাদের মত সত্য নও।
হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি।।
নয়নসমুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই– আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।
নাহি জানি, কেহ নাহি জানে–
তব সুর বাজে মোর গানে,
কবির অন্তরে তুমি কবি–
নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি।।

ব্যান্ড

যেতে যেতে একলা পথে

যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি।
ঝড় এসেছে ওরে ওরে, ঝড় এসেছে ওরে এবার
ঝড়কে পেলেম সাথি॥
আকাশকোণে সর্বনেশে ক্ষণে ক্ষণে উঠছে হেসে,
প্রলয় আমার কেশে বেশে করছে মাতামাতি॥
যে পথ দিয়ে যেতেছিলেম ভুলিয়ে দিল তারে,
আবার কোথা চলতে হবে গভীর অন্ধকারে।
বুঝি বা এই বজ্ররবে নূতন পথের বার্তা কবে—
কোন্ পুরীতে গিয়ে তবে প্রভাত হবে রাতি॥

ব্যান্ড

পুরানো সেই দিনের কথা

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।
আয় আর-একটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়।

মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়–
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়।
হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়–
আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়।।

ব্যান্ড

কিছু বলব বলে এসেছিলেম

কিছু বলব বলে এসেছিলেম,
রইনু চেয়ে না বলে।।
দেখিলাম, খোলা বাতায়নে মালা গাঁথ আপন-মনে,
গাও গুন্-গুন্ গুঞ্জরিয়া যূথীকুঁড়ি নিয়ে কোলে।।
সারা আকাশ তোমার দিকে
চেয়ে ছিল অনিমিখে।
মেঘ-ছেঁড়া আলো এসে পড়েছিল কালো কেশে,
বাদল-মেঘে মৃদুল হাওয়ায় অলক দোলে।।

ব্যান্ড

ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়

ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়।।
তটিণী-র হিল্লোল তুলে কল্লোলে চলিয়া যায়।
পিক কিবা কুঞ্জে কুঞ্জে।।

কুউহু কুউহু কুউহু গায়
কি জানি কিসের লাগি প্রাণ করে হায় হায়।।

তটিণী-র হিল্লোল তুলে কল্লোলে চলিয়া যায়।
পিক কিবা কুঞ্জে কুঞ্জে।।

কুউহু কুউহু কুউহু গায়
কি জানি কিসের লাগি প্রাণ করে হায় হায়।

ব্যান্ড

শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা

শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা
নিশীথযামিনী রে।

কুঞ্জপথে, সখি, কৈ সে যাওব অবলা কামিনী রে।
উন্মদ পবনে যমুনা তর্জিত, ঘন ঘন গর্জিত মেহ।

দমকত বিদ্যুত, পথতরু লুন্ঠিত, থরহর কম্পিত দেহ
ঘন ঘন রিমঝিম, রিমঝিম রিমঝিম, বরখত নীরদপুঞ্জ।

শাল-পিয়ালে তাল-তমালে নিবিড়তিমিরময় কুঞ্জ।
কহ রে সজনী, এ দুরুযোগে কুঞ্জে নিরদয় কান
দারুণ বাঁশী কাহে বজায়ত সকরুণ রাধা নাম।
মোতিম হারে বেশ বনা দে, সীঁথি লগা দে ভালে।

উরহি বিলুন্ঠিত লোল চিকুর মম বাঁধহ চম্পকমালে।
গহন রয়নমে ন যাও, বালা, নওলকিশোরক পাশ।
গরজে ঘন ঘন, বহু ডর পাওব, কহে ভানু তব দাস।।

ব্যান্ড

সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে

সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা।
কহো কানে কানে, শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা।।

ক্ষুদ্র আশা নিয়ে রয়েছে বাঁচিয়ে, সদাই ভাবনা।
যা-কিছু পায় হারায়ে যায়, না মানে সান্ত্বনা।।

সুখ-আশে দিশে দিশে বেড়ায় কাতরে–
মরীচিকা ধরিতে চায় এ মরুপ্রান্তরে।।

ফুরায় বেলা, ফুরায় খেলা, সন্ধ্যা হয়ে আসে–
কাঁদে তখন আকুল-মন, কাঁপে তরাসে।।

কী হবে গতি, বিশ্বপতি, শান্তি কোথা আছে–
তোমারে দাও, আশা পূরাও, তুমি এসো কাছে।। ।

ব্যান্ড

গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ

গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ
আমার মন ভুলায় রে।
ওরে কার পানে মন হাত বাড়িয়ে লুটিয়ে যায় ধুলায় রে।।
ও যে আমায় ঘরের বাহির করে, পায়ে-পায়ে পায়ে ধরে
মরি হায় হায় রে।
ও যে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে; যায় রে কোন্ চুলায় রে।
ও যে কোন্ বাঁকে কী ধন দেখাবে, কোন্খানে কী দায় ঠেকাবে–
কোথায় গিয়ে শেষ মেলে যে ভেবেই না কুলায় রে।।

ব্যান্ড

প্রান্তর

ছেলেবেলায় ……
ফেলে আসা দীর্ঘশ্বাস
অকারণে কথা বলা
আমার পথচলা

সেই কবেকার হারিয়ে যাওয়া
ঘুড়ি সূতোয় ছন্দমাখা
ছেলেবেলা

দেখি ……
এ খোলা প্রান্তরে
স্বপ্ন আমারই ভেসে যায়
দু’চোখে ……

স্বপ্ন দেখার একদিন
স্মৃতির মিছিল নিয়ে এই অবেলায়
গল্প বলার কোনদিন
পুরনো সংলাপে অনেক অজানায়

ছেলেবেলায় ……
ফেলে আসা পথ ধরে
অকারণে কথা বলা
অকারণে পথ চলা

সেই কবেকার দুপুরবেলা
চুপিচুপি ঘুম পালানো
ছেলেবেলা।