লালন

যাও হে শ্যাম রাই কুঞ্জে

এলে ভাল হবে না ও শ্যাম
যাও হে শ্যাম রাই কুঞ্জে
আর এসো না।।

গাছ কেটে জল ঢালো পাতায়
এ চাতুরি শিখলে কোথায়
উচিত শিক্ষা পাবে হেথায়
নইলে যে টের পাবে না।।

করতে চাও শ্যাম নাগরালি
যাও যেথা সেই চন্দ্রাবলী
এ পথে পড়েছে কালি
এ কালি আর যাবে না।।

কেলে সোনা জানা গেল
উপর কালো ভিতর কালো
লালন বলে উভয় ভালো
করি উভয়ের বন্দনা।।

লালন

রবে না এ ধন

মন আমার গেল জানা।
কারো রবে না এ ধন জীবন যৌবন
তবেরে কেন এত বাসনা;
একবার সবুরের দেশে বয় দেখি দম কষে
উঠিস নারে ভেসে পেয়ে যন্ত্রণা।।

যে করল কালার চরণের আশা
জানোনারে মন তার কী দুর্দশা
ভক্তবলী রাজা ছিল, সর্বস্ব ধন নিল
বামুনরূপে প্রভু করে ছলনা।।

প্রহ্লাদ চরিত্র দেখ চিত্রধামে
কত কষ্ট হল সেই কৃষ্ণনামে
তারে অগ্নিতে জ্বালালো জলে ডুবাইল
তবু না ছাড়িল শ্রীরূপসাধনা।।

কর্ণরাজা ভবে বড় দাতা ছিল
অতিথিরূপে তার সবংশ নাশিল
তবু কর্ণ অনুরাগী, না হইল দুখী
অতিথির মন করল সান্ত্বনা।।

রামের ভক্ত লক্ষণ ছিল সর্বকালে
শক্তিশেল হানিল তার বক্ষস্হলে
তবু রামচন্দ্রের প্রতি, লক্ষণ না ভুলিল ভক্তি
লালন বলে কর এ বিবেচনা।।

ছায়াছবি

আমার যমুনার জল

আমার যমুনার জল দেখতে কালো
চান করিতে লাগে ভালো
যৌবন মিশিয়া গেল জলে।

গডা পানিতে নাইম্যা কন্যা গডা মাঞ্জন করে,
আডু পানিতে নাইম্যা কন্যা আডু মাঞ্জন করে।।

উরাৎ পানিতে নাইম্যা কন্যা উরাৎ মাঞ্জন করে
কোমর পানিতে নাইম্যা কন্যা কোমর মাঞ্জন করে।।

পেড পানিতে নাইম্যা কন্যা পেড মাঞ্জন করে,
বুক পানিতে নাইম্যা কন্যা বুক মাঞ্জন করে।।

গলা পানিত নাইম্যা কন্যা গলা মাজন করে
মাথা পানিত নাইম্যা কন্যা ডুব দিয়া ডুব খেলে।

গোসল বড় কইরা সখি মুখে দিছে পান,
ঘর থাইকা বাইর হইছে পূর্ণিমারই চান।।

ব্যান্ড

বকুল ফুল বকুল ফুল

বকুল ফুল বকুল ফুল
সোনা দিয়া হাত কেনে বান্ধায়লি
শালুক ফুলের লাজ নাই
রাইতে শালুক ফোটে লো
রাইতে শালুক ফোটে
যার সাথে যার ভালবাসা
সেইতো মজা লোটে লো

শাওন ও ভাদ্রর মাসে
জামাই আদর করে লো
জামাই আদর করে
ইচ্ছে জামাই করবো আদর
দানাতো নাই ঘরে লো

আমার জামাই ধান বায়
হরিণ ডাঙার মাঠে লো
হরিণ ডাঙার মাঠে
সোনা দেহে ঘাম ঝরে
দুঃখে পরান ফাটে লো

পল্লীগীতি

আমার মনের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ তোমারে না পাইয়া

আমার মনের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ তোমারে না পাইয়া
পিরিতি শিখাইয়া কান্দাইয়া গেলা ফিরা তো আর আইলানা
বন্ধু ফিরা তো আর আইলানা।।

পাশানে বান্ধিয়া হিয়া —-
সব নিল কাহাড়িয়া ।

তুমি কোন পরানে আছ বন্ধু
কোন পরানে এ আছ বন্ধু
থোইয়া গেলা না
পিরিতি শিখাইয়া কান্দাইয়া গেলা ফিরা তো আর আইলানা
বন্ধু ফিরা তো আর আইলানা।।

মনের ঘরে দাগা দিয়া
বন্ধু গেলা চলিয়া ।
আমার আশার তরী আশায় রইল
আশার তরী আশায় রইল
তুমি বাইলানা
পিরিতি শিখাইয়া কান্দাইয়া গেলা ফিরা তো আর আইলানা
বন্ধু ফিরা তো আর আইলানা।।

পল্লীগীতি

আমার সোনা বন্ধুরে তুমি কোথায় রইলা রে

আমার সোনা বন্ধুরে তুমি কোথায় রইলা রে।
দিনে রাইতে তোমায় আমি
দিনে রাইতে তোমায় আমি খুইজা মরি রে।।

প্রথম দেখার কালে বন্ধু কথা দিয়েছিলে
ভুলিবে না মোরে এ জীবন গেলে।।
যদি না পাই তোমারে আমার জীবনের তরে
সোনার জীবন আঙ্গার হইব।।
তোমার লাইগা রে ।

ভুলতে পার বন্ধু তুমি আমি ভুলি নাই
পর কালে যেন বন্ধু
মরন কালে যেন বন্ধু একবার তোমায় পাই।
যদি না পাই সে কালে প্রেম যাইব বিফলে
তখন কিন্তু বলব আমি , তখন কিন্তু বলব আমি
প্রেম কিছুই না রে ।।

ছায়াছবি

যারে যাবি যদি যা

যারে যাবি যদি যা
পিঞ্জর খুলে দিয়েছি
যা কিছু কথা ছিল
ভুলে গিয়েছি।।

যারে বাঁধন কেঁটে যা
যারে হৃদয় ভেঙ্গে যা।

শুনেছি খাঁচার পাখি
আপন হবার নয়
জানি রে জানি তোকে
ভালোবাসা ভালো নয়।

যারে আকাশে উড়ে যা
যারে পথ ভুলে যা
জানি রে এ জীবনে
তোকে পাবার নয়।
আকাশের ঠিকানা
খুঁজে পাবার কথা নয়।।

পল্লীগীতি

আমি কেমন করে পত্র লিখি গো বন্ধু

আমি কেমন করে পত্র লিখি গো বন্ধু
গ্রাম পোস্ট অফিস নাই জানা
তোমায় আমি হলেম অচেনা

বন্ধুরে হইতা যদি দেশের দেশী
ঐ চরণে হইতাম দাসীরে
আমি দাসী হইয়া সঙ্গে যাইতাম রে বন্ধু
শুনতামনা কারো মানা

বন্ধুরে শুইলে না আসে রে নিদ্রা
ক্ষণে ক্ষণে আসে তন্দ্রা গো
আমি স্বপন দেখে জেগে উঠি রে বন্ধু
কেন্দে ভিজাই বিছানা

নজরুল গীতি

তোমার হাতের সোনার রাখি

তোমার হাতের সোনার রাখি
আমার হাতে পড়ালে ।
আমার বিফল বনের কুশুম তোমার পায়ে ঝরালে।।

খুজেছি তোমায় তারার চোখে
কত সে গ্রহে কত সে লোকে ।
আজ কি ত্রিশিত মরুর আকাশ
বাদল ও মেঘে ভরালে।

দূর অভিমানে সৃতি
কাদায় কেন আজিগু
মিলন ও বাঁশি সহসা উঠে
ভৈরবী তে বাজি গো

হেনেছ হেলা দিয়েছ ব্যাথা
মনে কেন আর পরে সে কথা
মরন এ বেলায় কেন এ গলায়
মালার মতন জড়ালে ।