বিবিধ

কালের পুঁথি

ওরে দিন চলে যায় ডিসকো মেলায়,
হারাইয়াছে ধুতি।
কালের লিখন পড়ছে দেখ গেরাম বাংলার পুঁথি।
ওরে দিন ফিরে আয়…

ওরে দিন ফিরে আয়, হারিয়ে যাই,
পুঁথি পড়ার দিনে
ছেড়ে হিন্দি ছবি সিরিয়াল সস্তা বিনোদনে।
শোন বাংলার পুঁথি…

শোন বাংলার পুঁথি মনে গাথি,
সুরে সুরে গাও,
মন যমুনায় ভাসাইয়া দাও প্রেমের ঘাটের নাও।
শোন দেশের কথা…

শোন দেশের কথা দশের ব্যাথা,
বাংলার গানে গানে,
জীবন নামের তরী ভাসুক মধুর কলতানে।
চল মূলে ফিরি…

চলো মূলে ফিরি নয় আর দেরি,
সবার সুখে দুখে,
মনে যা মুখেও তাই বলি অন্তর মুখে।
হই মানুষ আবার…

হই মানুষ আবার ফুলের খামার,
ফলের করি চাষ।
মিলেমিশে করি সবাই বাংলায় বসবাস।
গাই জীবনের গান…

গাই জীবনের গান কৃষকের ধান,
গোয়াল ভরা গরু,
আঁচল ভরা ভাঁজা খই হাতে চিড়ার নাড়ু।
ও সেই বিকেল বেলা…

ও সেই বিকেল বেলা হা ডু ডু খেলা,
সন্ধ্যা বেলার হাটে,
কবি গানের আসর দেখ ভরা নদীর ঘাটে।
বাজে দু’তারাটা…

বাজে দু’তারা টা পানের বাটা,
দাদী নানীর হাতে,
ঢোলের তালে ময়ূর নাচে সারা গাও একসাথে।
আজকে পুঁথির আসর…

আজকে পুঁথির আসর ফুলের বাসর,
আনন্দ সব ঘরে,
সময় নায়ে চড়ে আবার অতীতে যাই ফিরে।
আমরা অতীতে যাই ফিরে…

দেশাত্মবোধক গান

স্বাধীনতা ।। কালের লিখন

তুমি নয় মাস ছিলে মাতৃগর্ভে
মুজিব তোমার পিতা,
রক্ত দিয়ে পেয়েছি তোমায়,
বাংলার স্বাধীনতা।।

কৃষক শ্রমিক নারী পুরুষ মিলে,
মুক্তি যুদ্ধে গেলো দলে দলে,
যায়নি সেই ত্যাগ বিফলে,
মুক্ত হলো বঙ্গমাতা।।

পরাধীনতার গ্লানি মুছে দিয়ে,
নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে,
শপথ নিলো জমিন ছুঁয়ে
পূর্ণ হলো আকুলতা।।

বাবার চোখে দেশের ভালোবাসা,
মায়ের বুকে ফসলের প্রত্যাশা,
লিখন বলে থাকলে আশা,
নিশ্চিত আসে সফলতা।।

ভক্তিমূলক গান

বার্ধক্য ।। কালের লিখন

তুমি গাছ চিনায়ে খুব যতনে
টেনে নিলে দয়ার মই
মন মরিলে অচল গাড়ী
আমি তো আর আমার নই।
যৌবনের সেই উতলা দিন
কোন ফাঁকে কই গেলরে সই।।

কেশ পেশীতে অকাল ঝরা
রসিক মনে ভাবের খরা
কানামাছি ভোঁ ভোঁ করে
ধরলে মিছে কোথায় কারে
জল শুকিয়ে কাঁদায় ভাসে
মরা গাঙ্গে জ্যান্ত কৈ।।

চোখের দেখায় ভুল হয়ে যায়
দেহের সুধা ক্ষুধাতে খায়
দিনে দিনে দরদ ফুরায়
ভিড়বে তরী কোন কিনারায়
নিজের বলে কি ধন রবে
উড়ে যাবে মনের বারুই।।

কোথায় যাবে নাই ঠিকানা
দন্ধে আছো ও মন কানা
কিসে হবে কার্য করণ
ভুল বিলাসে ভজন সাধন
লিখন বলে কোন পথে যাই
সময় ফুরায় কাণ্ডারি কই।।