আধুনিক

ভেবেছিলাম আঙ্গুল ছোঁব

ভেবেছিলাম আঙুল ছোঁব, আঙুল চুয়ে বিষ নেমেছে
সত্তা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাসনাহেনায় মেঘ জমেছে।
হিসেব কষে আঁক মেলানো, চক মেলানো স্বপ্নসারি
বুকের মধ্যে আলপনা দেয় শ্যাওলা-ধরা বসতবাড়ি
রিক্ত হাতে এখন শুধু ব্যক্তিগত দুঃখ কুড়াই
মেঘের ওপর মেঘ জমিয়ে ভালো থাকার স্বপ্ন সাজাই।।

জ্যোৎস্না ভিজে একাই জাগি, রাতের পরে রাত জমা হয়
চোখের নিচের অন্ধকারে কান্নাগুলো শব্দ হারায়।
রিক্ত হাতে এখন শুধু ব্যক্তিগত দুঃখ কুড়াই
মেঘের ওপর মেঘ জমিয়ে ভালো থাকার স্বপ্ন সাজাই।।

শরীর জুড়ে আঁধার মেখে, আলোর মাঝে আড়াল খুঁজি
আঙুল মেপে জমিয়ে রাখি একলা থাকার ছোট্ট পুঁজি।
রিক্ত হাতে এখন শুধু ব্যক্তিগত দুঃখ কুড়াই
মেঘের ওপর মেঘ জমিয়ে ভালো থাকার স্বপ্ন সাজাই।।

আধুনিক

কখনো কি মেঘহীন আকাশ দেখেছো তুমি ছাড়া

কখনো কি মেঘহীন আকাশ দেখেছো
দেখেছো কি জল ছাড়া নদী
শীতের পাতা ঝরা ওই গাছ গুলো যেমন
আমি অপূর্ণ ঠিক তেমনই
তুমি ছাড়া…

কখনো কি সুর ছাড়া গান গেয়েছো
হেঁটেছ কি একা দীর্ঘ পথ
জোছনা ছাড়া রাতের আঁধার ঠিক যেমন
আমি অপূর্ণ ঠিক তেমনই
তুমি ছাড়া…

দিন শুরু হয় তোমার আশায়
দিন কেটে যায় তোমার অপেক্ষায়
রাত কাটে আজ না পাওয়ার বেদনায়
শুধু আমি জানি আমি অপূর্ণ
তুমি ছাড়া…

পল্লীগীতি

যখন আমি শিশু ছিলাম মায়ের কোলে ছিলো বাড়িঘর

যখন আমি শিশু ছিলাম মায়ের কোলে ছিলো বাড়িঘর
আমি কাঁদলে কেঁপে উঠতো জননীর অন্তর।।

হাসতাম যখন মধুর হাসি
মায়ের হৃদয় উঠতো তখন খুশিতে ভরে
আমার যখন অসুখ হতো
মা জননী জেগে রইতো সারা রাত্রি ধরে
আমার জন্যে মায়ের অন্তর করিতো ধরফর।।

মা জননী স্নেহের সাগর
দুনিয়াতে এত আদর কে করিতে পারে
মা হারা সন্তানে বলে
বুক ভেসে যায় চোখের জলে, জল তো শুকায় না রে
মায়ের মত করে কেউ তো করে না আদর।।

ভাওয়াইয়া গান

হামার বাড়ি রংপুর

(এই) রঙ্গে রসে ভরপুর হামার বাড়ি রংপুর
হামার ওত্তি জান
(আরে) রঙ্গে রসে ভরপুর ভাওয়াইয়া দেশ রংপুর
রঙ্গপুরে যান
হামার আইগন্যাত বসি তোমরা
শুনি আইসেন ভাওয়াইয়া গান।।

বেগম রোকেয়ার বাড়ি রঙ্গপুরের বুকে
মনটা তোমার হারে যাইবে তিস্তা নদীর বাঁকে
আরে তাজহাট ঘুরি দেইখমেন
যদি সমায় সুযোগ থাকে
মনটা তোমার হারে যাইবে ধল্লা নদীর বাঁকে
(আরে) গান শুনমেন আর মনের সুখে খাইমেন খিলি পান।
(শোনেন) সাগাই ভালোবাসি হামরা, হামার বাড়ি যান।।

বিন্নি ধানের ভাত আন্দিমো খির পাকামো রসি
সিদোল পোড়া ভত্তা খাইমেন শীতল পাটিত বসি
নাপা শাকের প্যালকা আর মাশকলাইয়ের ডাল
আলু ভত্তাত পুড়ি দিমু শুটা আকালির ঝাল
(এই যে) হাড়িভাঙ্গা আমি খোয়ামু যদি খাবার চান।
সাগাই ভালোবাসি হামরা, হামার বাড়ি যান।।

আধুনিক

আমি তোমার হাতে রেখে হাত

আমি তোমার হাতে রেখে হাত
হারিয়ে যাবো দূর বহুদুর
তোমার মাঝে খুঁজে নেবো
আকাশ ছোঁয়া প্রজাপতি সুর
তুমি আমার উদাসী সত্তা পাগল করা প্রাণ
তুমি আমার মন বাগানে পবিত্র এক গান…

তুমি স্নান করো মেঘ ধোয়া জলে,
লজ্জায় চাঁদ ঢেকে যায়
কিছু মধুমাস বুনোহাঁস হয়ে
দিগন্তে নীল ছুয়ে যায়
মেঘ মলাটে প্রেমের নেশায় অভিসারী দুটি প্রাণ…
মেঘ মলাটে প্রেমের নেশায় সুখপিয়াসী দুটি প্রাণ…

মন বাড়িতে, জোছনা রাতে
এই অভিসারী লগ্ন
আবেগের কানা গলি বেয়ে,
মন নীল কুয়াশায় মগ্ন
তুমি জান্নাত তুমি শান্তি, তুমি বৃষ্টি সুরের গান…
তুমি জান্নাত তুমি শান্তি, জানে খোদা মেহেরবান…

আধুনিক

প্রজাপতি সুর

আমি তোমার হাতে রেখে হাত
হারিয়ে যাবো দূর বহুদুর
তোমার মাঝে খুঁজে নেবো
আকাশ ছোঁয়া প্রজাপতি সুর
তুমি আমার উদাসী সত্তা পাগল করা প্রাণ
তুমি আমার মন বাগানে পবিত্র এক গান

তুমি স্নান করো মেঘ ধোয়া জলে
লজ্জায় চাঁদ ঢেকে যায়
কিছু মধুমাস বুনোহাঁস হয়ে
দিগন্তে নীল ছুয়ে যায়
মেঘ মলাটে প্রেমের নেশায় অভিসারী দুটি প্রাণ…
মেঘ মলাটে প্রেমের নেশায় সুখপিয়াসী দুটি প্রাণ…

মন বাড়িতে, জোছনা রাতে
এই অভিসারী লগ্ন
আবেগের কানা গলি বেয়ে,
মন নীল কুয়াশায় মগ্ন
তুমি জান্নাত তুমি শান্তি, তুমি বৃষ্টি সুরের গান…
তুমি জান্নাত তুমি শান্তি, জানে খোদা মেহেরবান…

জীবনমুখী গান

বন্ধুর হাতে গিটার আর আমার কন্ঠে গান

বাড়ি ফেরার পথে ঝুলতে থাকা চৈতালির গেট
অবুঝ চোখে স্বপ্ন আঁকা ভাবনা অনিঃশেষ।

স্বপ্নের ধুলো মাখা পথে হাতে হাত রেখে চলা
দীপ্ত শপথ প্রেরণা আজও অপরাজেয় বাংলা
বন্ধুর হাতে গিটার আর আমার কন্ঠে গান
জীবন পথের ধুসর মায়ায় বন্ধুর পিছুটান।।

মলের মাঠে শর্ট ক্রিজ ক্রিকেট দুই একটা রান চুরি
ক্লাশের শেষে আড্ডাবাজি ডাকসুর ভেলপুরি
কলাভবন, শহীদ মিনার, কার্জনে ঘোরাঘুরি
কারও হাতে সিগারেট আর কারও হাতে ঝালমুড়ি
আড্ডাবাজির নেই যে শেষ কখন পাঁচটা বাজে
চৈতালিতে বাড়ি ফেরা, কেউ বা অন্য কাজে
এই তো জীবন স্বপ্নিল জীবন মিস করি তাই ভীষণ
এভাবেই হাতে হাত রেখে চলে স্বপ্নের বিবর্তন
বন্ধুর হাতে গিটার আর আমার কন্ঠে গান
জীবন পথে ধুসর মায়ায় বন্ধুর পিছুটান

জেগে থাকা ফুলার রোড আর সোডিয়ামের বাতি
হন্টক হয়ে ছুটতাম পথে সন্ধ্যা থেকে রাতি
মামায় বসে গরম ভাত আর মুরগীর ঝালফ্রাই
এক বাটিতে হয়ে যেত তিন জনের পেট ঝালাই
বন্ধুর হাতে গিটার, আর সঞ্জীব দা’র গান
আমি তোমাকেই বলে দেবো কি যে একা দীর্ঘ রাত
আমি হেঁটে গেছি বিরান পথে

ভালোবাসার ক্যনভাস রাঙায় টিএসসির ওই ঘাস
মিষ্টি আবেশ ছুঁয়ে যেত প্রিয়ার চোখের আকাশ
কখনো আমতলায় কিংবা কখনো বটতলায়
কাক মামাটা ভীষণ পাজি প্রেমের রেশটা থামায়
কিনে দিতাম বইমেলাতে হুমায়ুনের বই
মধুমাখা সেই দিন গুলো হারিয়ে গেলো কই
এই তো জীবন স্বপ্নিল জীবন
মিস করি তাই ভীষণ
এভাবেই হাতে হাত রেখে চলে স্বপ্নের বিবর্তন
বন্ধুর হাতে গিটার আর আমার কন্ঠে গান
জীবন পথে ধুসর মায়ায় বন্ধুর পিছুটান…

কথা ও সুরঃ সাহস মোস্তাফিজ
সঙ্গীতায়োজনঃ বাপ্পা মজুমদার

আধুনিক

স্বপ্নের বিবর্তন

বাড়ি ফেরার পথে ঝুলতে থাকা চৈতালির গেট
অবুঝ চোখে স্বপ্ন আঁকা ভাবনা অনিঃশেষ
স্বপ্নের ধুলো মাখা পথে হাতে হাত রেখে চলা
দৃপ্ত শপথ প্রেরণা আজও অপরাজেয় বাংলা
বন্ধুর হাতে গিটার আর আমার কন্ঠে গান
জীবন পথের ধুসর মায়ায় বন্ধুর পিছুটান।।

মলের মাঠে শর্ট ক্রিজ ক্রিকেট দুই একটা রান চুরি
ক্লাশের শেষে আড্ডাবাজি ডাকসুর ভেলপুরি
কলাভবন, শহীদ মিনার, কার্জনে ঘোরাঘুরি
কারও হাতে সিগারেট আর কারও হাতে ঝালমুড়ি
আড্ডাবাজির নেই যে শেষ কখন পাঁচটা বাজে
চৈতালিতে বাড়ি ফেরা, কেউ বা অন্য কাজে
এই তো জীবন স্বপ্নিল জীবন
মিস করি তাই ভীষণ
এভাবেই হাতে হাত রেখে চলে
স্বপ্নের বিবর্তন…
বন্ধুর হাতে গিটার আর আমার কন্ঠে গান
জীবন পথে ধুসর মায়ায় বন্ধুর পিছুটান

জেগে থাকা ফুলার রোড আর সোডিয়ামের বাতি
হন্টক হয়ে ছুটতাম পথে সন্ধ্যা থেকে রাতি
মামায় বসে গরম ভাত আর মুরগীর ঝালফ্রাই
এক বাটিতে হয়ে যেত তিন জনের পেট ঝালাই
বন্ধুর হাতে গিটার, আর সঞ্জীব দা’র গান
আমি তোমাকেই বলে দেবো কি যে একা দীর্ঘ রাত
আমি হেঁটে গেছি বিরান পথে…

ভালোবাসার ক্যনভাস রাঙায় টিএসসির ওই ঘাস
মিষ্টি আবেশ ছুঁয়ে যেত প্রিয়ার চোখের আকাশ
কখনো আমতলায় কিংবা কখনো বটতলায়
কাক মামাটা ভীষণ পাজি প্রেমের রেশটা থামায়
কিনে দিতাম বইমেলাতে হুমায়ুনের বই
মধুমাখা সেই দিন গুলো হারিয়ে গেলো কই
এই তো জীবন স্বপ্নিল জীবন
মিস করি তাই ভীষণ
এভাবেই হাতে হাত রেখে চলে
স্বপ্নের বিবর্তন…
বন্ধুর হাতে গিটার আর আমার কন্ঠে গান
জীবন পথে ধুসর মায়ায় বন্ধুর পিছুটান

কথা ও সুর- সাহস মোস্তাফিজ
সংগীতায়োজন- বাপ্পা মজুমদার