ওই দ্যাখো, ছড়ানো স্যান্ডেল
ওখানেই সুখ ছিলো একদিন
দেয়ালের ঝুলন্ত মাকড়সার জালে
জড়িয়ে সুখ ছিলো একদিন
একটাই ভাঙা এ্যাশট্রে
ওটাতে’ও সুখ ছিলো একদিন
সারা রাত কল থেকে পানির টিপ্ টিপ্ শব্দে
কি দারুণ সুখ ছিলো একদিন

আজ চলছেনা, ভালো লাগছেনা
দু’জনার পাশাপাশি বনছেনা
তবু শেষ বার তুমি ভেবে দ্যাখো
এখানেই সুখ ছিলো একদিন

এই তো সেই নড়বড়ে
আমাদের সেই ছোট্ট খাট
এখানেই উত্তাল সঙ্গমে
কেটেছে কত কত রাত
ভাঁজ করা আছে নীল মশারি
শত ছিদ্রে সাজানো সে বাসর
মেঝেতে শুয়ে আছে একজন
বিছানায় অতৃপ্ত সে চাদর

আজ খেলা শেষ, আর জমছেনা
দু’জনার পাশাপাশি বনছেনা
আছে দু’জনার শুধু নীরবতা
তবু কল থেকে পানি পড়ছে টিপ্ টিপ্

শার্টের ছেঁড়া বোতামে
কি দারুণ সুখ ছিলো একদিন
দেয়ালের ফাটলের ওই নকশাতে
কি দারুণ সুখ ছিলো একদিন
ওষুধের ওই বাক্সটা
অসুখেও কত সুখী ছিলো একদিন
কুঁচকানো ওই মলিন পর্দাটা
সুখী ছন্দে দুলেছিলো একদিন
জানালার ভাঙা কাঁচটা-তে
দরজার বেয়াড়া হুড়কো-তে
বিকেলের কলিং-বেলে
কি দারুণ সুখ ছিলো একদিন
এখানেই এখানেই এখানেই সুখ ছিলো একদিন

চন্দন কাঠের বুকশেলফ্ -এ
আজো আছে তোমার জীবনানন্দ
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রবীন্দ্র
শুধু কেটে গেছে জীবনের ছন্দ
দেয়ালের ফ্রেমে আজো বন্দী
দু’জনার এক চোখে দেখা স্বপ্ন
ওরা হাসছে, তবু হাসছে
জানেনা আসছে ভাঙনের লগ্ন

আজ এই ঠোঁটে নেই সেই তৃপ্তি
তাই অবশেষে মুক্তির চুক্তি
তবু শেষবার তুমি ভেবে দ্যাখো
এখানেই সুখ ছিলো একদিন