আমার ঘরের ঘুলঘুলিতে চড়ুই পাখির বাসা
ধুলোবালি আর খড়কুটো দিয়ে গোছানো সে সংসার

আমি তাজ্জব বনে যাই, দেখি মানুষের ঘর নাই
দ্যাখো মানুষেরই ঘরে বাসা বেঁধে নিলো ছোট্ট এক চড়াই
আমি তাজ্জব বনে যাই, আজো মানুষ পেলো না ঠাঁই
দ্যাখো জিতে নিলো ঠিকই ছোট্ট চড়াই অধিকারের লড়াই

আমার প্রাসাদে দেয়ালে দেয়ালে মাকড়সা জাল বোনে
টিক্টিক্ করে টিকটিকি যেন কি বলে আপন মনে
লাল পিঁপড়ের বিশাল বাহিনী কুচকাওয়াজে হাঁটে
উঁই পোকাদের আঁধার বসতি সেগুন কাঠের খাটে

আমি তাজ্জব বনে যাই, দেখি সব্বাই পেলো ঘর
হলো মানুষের সবই আপন, শুধু মানুষই হলো পর

ইঁদুর মশাই ঘুমোন রান্নাঘরে আসবাব তলে
কাপড়ের ভাঁজে আরশোলাদের বংশই বেড়ে চলে
নাম না জানা বেড়াল ছানা ঘুমায় বারান্দাতে
সন্ধ্যে হলেই কবুতর ফেরে আমার বাড়ির ছাদে

আমি তাজ্জব বনে যাই, দেখি সব্বাই ফেরে ঘরে
দ্যাখো উদাম শরীরে মানুষ ঘুমায়, ঘুমায় পথের মোড়ে

ওরে ছোট্ট চড়াই, শোন – আজ তোকেই তো দরকার
তুই শেখাবি মানুষকে, তার বুঝে নিতে অধিকার