এ কি অপরুপ রুপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি।।

রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল
আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি।।

কেতকি-কদম-যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী।।

শাপলা শালুক সাজাইয়া সাজি শরতে শিশির নাহিয়া,
শিউলি-ছোপানো শাড়ি পরে ফের আগামনী-গীত গাহিয়া।
অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনী।।

শীতের শূণ্য মাঠে তুমি ফের উদাসী বাউল সাথে মা,
ভাটিয়ালী গাও মাঝিদের সাথে গো, কীর্তন শোনো রাতে মা।
ফাল্গুনে রাঙ্গা ফুলের আবীরে রাঙ্গাও নিখিল ধরণী।।