সর্বতমঙ্গল রাঁধে বিনোদিনী রাই
বৃন্দাবনের বংশীধারী ঠাকুর কানাই
একলা রাতে জল ভরিতে যমুনাতে যায়
পেছন থেকে কৃষ্ণ তখন আড়ে আড়ে চায়

জল ভরো জল ভরো রাঁধে ও গোয়ালের ঝিঁ
কলস আমার পুর্ন করো রাঁধে বিনোদী
কালো মানিক হাত পেতেছে চাঁদ ধরিতে যায়
বামুন কি আর হাত বাড়ালেই চাঁদের দেখা পায়
কালো কালো করিস নালো ও গোয়ালের ঝিঁ
আমায় বিধাতা গড়েছে কালো আমি করবো কি
এক কালো যমুনার জল সর্বপ্রানীই খায়
আরেক কালো আমি কৃষ্ণ সকল রাঁধেই চায়

এই কথা শুনিয়া কানাই বাঁশি হাতে নিলো
সর্প হয়ে কালো বাঁশি রাধাকে দংশিল
ডান পায়ে দংশিনু রাঁধের, বাম পায়ে ধরিল
মরলাম মরলাম বলে রাঁধে জমিনে পড়িল
মরবেনা মরবেনা রাঁধে মন্ত্র ভালো জানি
দু এক খানা ঝাড়া দিয়া বিষ করিব পানি
আমার অঙ্গের বিষ যে ঝাড়িতে পারে
সোনার যৈবন খানি দান করিব তারে

এই কথা শুনিয়া কানাই বিষ ঝাড়িয়া দিল
ঝেড়ে ঝুড়ে রাধে তখন গৃহবাসে গেল
গৃহবাসে যেয়ে রাঁধে আড়ে বিছায় চুল
কদম তলায় থাইক্কা কানাই ফিক্যা মারে ফুল

বিয়া নাকি করো কানাই বিয়া নাকি করো
পরের রমনী দেখে জ্বালায় জ্বলে মরো
বিয়া তো করিব রাধে বিয়া তো করিব
তোমার মত সুন্দর রাঁধে কোথায় গেলে পাব
আমার মত সুন্দর রাঁধে যদি পেতে চাও
গলায় কলসি বেঁধে যমুনাতে যাও
কোথায় পাব হাড়কলসি কোথায় পাব দড়ি
তুমি হও যমুনা রাঁধে
আমি ডুইবা মরি…